৪০/৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৫৭৩ - সাফিয়্যা (রাঃ) ও ইতিকাফের আদব
কোন লোককে নারীদের সঙ্গে একাকী দেখা পেলে এবং সে মহিলা তার স্ত্রী বা তার মাহরাম হলে কু-ধারণা কে দমনের জন্য এ স্ত্রীলোক অমুক বলে দেয়া মুস্তাহাব
সাফিয়্যা (রাঃ)-এর ঘটনা ও ইতিকাফের আদব
সহীহ মুসলিম : ৫৫৭৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৫৭৩
وَحَدَّثَنِيهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، أَنَّ صَفِيَّةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا جَاءَتْ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ تَزُورُهُ فِي اعْتِكَافِهِ فِي الْمَسْجِدِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَتَحَدَّثَتْ عِنْدَهُ سَاعَةً ثُمَّ قَامَتْ تَنْقَلِبُ وَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ يَقْلِبُهَا . ثُمَّ ذَكَرَ بِمَعْنَى حَدِيثِ مَعْمَرٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّ الشَّيْطَانَ يَبْلُغُ مِنَ الإِنْسَانِ مَبْلَغَ الدَّمِ " . وَلَمْ يَقُلْ «يَجْرِي».
আলী ইবনু হুসায়ন (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর স্ত্রী সাফিয়্যাহ্ (রাঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রমাযানের শেষ দশকে মসজিদে (নাবাবীতে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর ই’তিকাফের সময় তিনি তাঁর সাথে দেখা করতে গেলেন। তিনি তাঁর সাথে কিছু সময় আলোচনা করলেন, তারপর প্রত্যাবর্তনের জন্যে উঠে দাঁড়ালেন। নবী (ﷺ) -ও তাঁকে বিদায় দিতে উঠে দাঁড়ালেন .....। অতঃপর (পূর্ববর্তী হাদীসের রাবী) মা’মার (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের মর্মানুযায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) বললেন, শয়তান মানুষের রক্ত সঞ্চারণের শিরায় শিরায় পৌঁছে। “প্রবাহিত হয়” বলেননি। (বরং তিনি এ বর্ণনায় يَبْلُغُ বলেছেন, তিনি يَجْرِي বলেন নি
ই.ফা. ৫৪৯২, ই.সে. ৫৫১৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৫৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সাফিয়্যা (রাঃ)-এর একই ঘটনার আরেকটি সূত্র এসেছে। তিনি রমাদানের শেষ দশকে মসজিদে নববীতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ইতিকাফের সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। কিছু সময় কথা বলার পর তিনি ফিরে যেতে উঠলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে পৌঁছে দিতে উঠেন। তারপর আগের বর্ণনার মতো ঘটনাটি বলা হয়েছে। তবে এখানে শব্দের একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। এই বর্ণনায় এসেছে, শয়তান মানুষের রক্ত সঞ্চারণের মতো স্থানে পৌঁছে যায়; “প্রবাহিত হয়” শব্দটি এখানে বলা হয়নি। এই হাদিসের শিক্ষা হলো, ইতিকাফ, পারিবারিক আদব এবং সন্দেহ এড়ানোর বিষয়ে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) খুব যত্নবান ছিলেন। ভাষার পার্থক্য থাকলেও মূল শিক্ষা একই—মন্দ ধারণার দরজা বন্ধ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের সময়ও পরিবার দেখা করতে এসেছিল।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) স্ত্রীকে বিদায় দিতে উঠে সৌজন্য দেখিয়েছেন।
- সন্দেহ দূর করতে পরিষ্কার পরিচয় দেওয়া উত্তম আচরণ।
- হাদিসের শব্দভেদ থাকলেও মূল শিক্ষা সতর্কতা ও স্বচ্ছতা।
