৪০/২১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৬২০ - ভাইয়ের উপকারে রুকইয়াহ
চোখলাগা, পার্শ্বঘা, বিষাক্ত প্রাণীর বিষক্রিয়া ও দুরাবস্থা হতে (মুক্তির জন্য) ঝাড়ফুঁক করা মুস্তাহাব
রুকইয়াহর মাধ্যমে ভাইয়ের উপকার করার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৫৬২০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৬২০
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ أَرْخَصَ النَّبِيُّ ﷺ فِي رُقْيَةِ الْحَيَّةِ لِبَنِي عَمْرٍو.قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ وَسَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ لَدَغَتْ رَجُلاً مِنَّا عَقْرَبٌ وَنَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ . فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرْقِي قَالَ " مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বানু ‘আমরকে সাপের ছোবলে আক্রান্ত রোগীর ঝাড়ফুঁকের অনুমতি দেন। আবূ যুবায়র (রহঃ) আরও বলেছেন-আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে আরও বলতে শুনেছি যে, একটি বিছা আমাদের এক লোককে ছোবল দিল। আমরা সেথায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বসাছিলাম। তখন এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি (তাকে) ঝেড়ে দেই? তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কোন লোক যদি তার ভাইয়ের (কোনও) উপকার করতে পারে, সে যেন (তা) করে।
ই.ফা. ৫৫৩৯, ই.সে. ৫৫৬৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৬২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বনী আমরের জন্য সাপের ছোবলের রুকইয়াহর অনুমতি দেন। এরপর জাবির রা. আরেক ঘটনা বলেন। এক ব্যক্তি বিচ্ছুর ছোবলে আক্রান্ত হলে একজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি ঝাড়ফুঁক করতে পারেন? তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার ভাইয়ের কোনো উপকার করতে পারে, সে যেন তা করে। এই বাক্যটি হাদিসের মূল শিক্ষা। রুকইয়াহ এখানে মানুষের উপকারের একটি মাধ্যম হিসেবে এসেছে, বিশেষ করে ছোবল বা বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে। তবে উপকারের ধারণাটি আল্লাহর অনুমোদিত পথে হতে হবে। হাদিসটি সাহায্য, সহমর্মিতা ও অনুমোদিত রুকইয়াহ—এই তিন দিককে একসঙ্গে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাপের ছোবলের ক্ষেত্রে রুকইয়াহর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- বিচ্ছুর ছোবলে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য রুকইয়াহ করতে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
- সক্ষম হলে ভাইয়ের উপকার করা প্রশংসনীয়।
- উপকারের কাজ অনুমোদিত পদ্ধতিতে হওয়া উচিত।
