৪০/২১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৬২২ - বিচ্ছুর ছোবলে রুকইয়াহ
চোখলাগা, পার্শ্বঘা, বিষাক্ত প্রাণীর বিষক্রিয়া ও দুরাবস্থা হতে (মুক্তির জন্য) ঝাড়ফুঁক করা মুস্তাহাব
বিচ্ছুর ছোবলে রুকইয়াহ ও ভাইয়ের উপকার
সহীহ মুসলিম : ৫৬২২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৬২২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ لِي خَالٌ يَرْقِي مِنَ الْعَقْرَبِ فَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنِ الرُّقَى - قَالَ - فَأَتَاهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ نَهَيْتَ عَنِ الرُّقَى وَأَنَا أَرْقِي مِنَ الْعَقْرَبِ. فَقَالَ " مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ " .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার একজন মামা ছিলেন, যিনি বিচ্ছুর ছোবলে ঝাড়ফুঁক করতেন। এ সময় (একদিন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সব ঝাড়ফুঁক নিষিদ্ধ ঘোষনা করলেন। সে সময় তিনি (আমার মামা) তাঁর খিদমাতে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি ঝাড়ফুঁক হারাম করে দিয়েছেন। হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমি তো বিছার ছোবল থেকে আত্মরক্ষার্থে ঝাড়ফুঁক করে থাকি? তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের কোন উপকার করতে সমর্থ হলে সে যেন তা করে।
ই.ফা. ৫৫৪১, ই.সে. ৫৫৬৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৬২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির রা. বলেন, তাঁর একজন মামা বিচ্ছুর ছোবলে রুকইয়াহ করতেন। একসময় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ঝাড়ফুঁক নিষিদ্ধ করেন। তখন তাঁর মামা এসে বলেন, তিনি তো বিচ্ছুর ছোবল থেকে আত্মরক্ষার জন্য রুকইয়াহ করেন। উত্তরে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ভাইয়ের কোনো উপকার করতে সক্ষম হলে সে যেন তা করে। এই হাদিসে নিষেধের কথা যেমন এসেছে, তেমনি উপকারের ক্ষেত্রে অনুমোদিত রুকইয়াহর দিকও এসেছে। মূল শর্ত এখানে সরাসরি বলা হয়নি, তবে একই বিষয়ের পরের বর্ণনায় শিরকমুক্ত রুকইয়াহর কথা এসেছে। তাই এই হাদিস মানুষের উপকার, রুকইয়াহ এবং সতর্কতার ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচ্ছুর ছোবলে রুকইয়াহ করার বিষয়টি হাদিসে এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم মানুষের উপকার করতে সক্ষম হলে তা করতে বলেছেন।
- রুকইয়াহর ক্ষেত্রে অনুমোদিত পথ অনুসরণ করা জরুরি।
- উপকারের কাজ ইসলামে মূল্যবান, তবে তা সঠিক সীমার মধ্যে হতে হবে।
