৩/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৮১ - হায়িযে সীমা: সহবাস ছাড়া সব
ঋতুবতী মহিলাদের জন্যে তার স্বামীর মাথা ধুয়ে দেয়া, তার চুল আঁচড়িয়ে দেয়া জায়িয; তার উচ্ছিষ্ট পবিত্র; তার কোলে মাথা রেখে হেলান দেয়া ও সেখানে কুরআন পাঠ করা জায়িয
হায়িয অবস্থায় সহবাস ছাড়া স্বাভাবিক সম্পর্ক
সহীহ মুসলিম : ৫৮১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৮১
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ الْيَهُودَ، كَانُوا إِذَا حَاضَتِ الْمَرْأَةُ فِيهِمْ لَمْ يُؤَاكِلُوهَا وَلَمْ يُجَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ فَسَأَلَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ ﷺ النَّبِيَّ ﷺ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ﴾ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ﴿ إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «اصْنَعُوا كُلَّ شَىْءٍ إِلاَّ النِّكَاحَ " .فَبَلَغَ ذَلِكَ الْيَهُودَ فَقَالُوا مَا يُرِيدُ هَذَا الرَّجُلُ أَنْ يَدَعَ مِنْ أَمْرِنَا شَيْئًا إِلاَّ خَالَفَنَا فِيهِ فَجَاءَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ وَعَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ فَقَالاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْيَهُودَ تَقُولُ كَذَا وَكَذَا . فَلاَ نُجَامِعُهُنَّ فَتَغَيَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَتَّى ظَنَنَّا أَنْ قَدْ وَجَدَ عَلَيْهِمَا فَخَرَجَا فَاسْتَقْبَلَهُمَا هَدِيَّةٌ مِنْ لَبَنٍ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَأَرْسَلَ فِي آثَارِهِمَا فَسَقَاهُمَا فَعَرَفَا أَنْ لَمْ يَجِدْ عَلَيْهِمَا .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইয়াহূদীগণ তাদের মহিলাদের হায়িজ হলে তার সাথে এক সঙ্গে খাবার খেত না এবং এক ঘরে বাস করত না। সাহাবায়ে কিরাম এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন।তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করলেন, “তারা তোমার কাছে হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও যে, তা হলো নাপাক। সুতরাং হায়িয অবস্থায় তোমরা মহিলাদের থেকে পৃথক থাক....”(সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২২২)।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তোমরা (সে সময় তাদের সাথে) শুধু সহবাস ছাড়া অন্যান্য সব কাজ কর। এ খবর ইয়াহূদীদের কাছে পৌছলে তারা বলল, এ লোকটি সব কাজেই কেবল আমাদের বিরোধিতা করতে চায়।অতঃপর উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) ও ‘আব্বাদ ইবনু বিশর (রাঃ) এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ইয়াহূদীরা এমন এমন বলছে। আমরা কি তাদের সাথে (হায়িয অবস্থায়) সহবাস করব না? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে গেল। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি তাদের উপর ভীষণ রাগান্বিত হয়েছেন। তারা (উভয়ে) বেরিয়ে গেল। ইতোমধ্যেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে দুধ হাদিয়া এলো। তিনি তাদেরকে ডেকে আনার জন্যে লোক পাঠালেন। (তারা এলে) তিনি তাদেরকে দুধ পান করালেন। তখন তারা বুঝল যে, তিনি তাদের উপর রাগ করেননি।
ই.ফা. ৫৮৫, ই.সে. ৬০১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) জানান, ইয়াহুদীরা তাদের নারীরা হায়িয অবস্থায় থাকলে তাদের সাথে একসাথে খাবার খেত না এবং একই ঘরে থাকত না। সাহাবীরা এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহর আয়াত নাযিল হয়, যেখানে হায়িয সম্পর্কে বলা হয়েছে। এরপর নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, ‘তোমরা শুধু সহবাস ছাড়া অন্যান্য সব কাজ কর।’ এই নির্দেশ খুব ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে হায়িয অবস্থায় সহবাস থেকে দূরে থাকার সীমা আছে; অন্যদিকে খাওয়া, থাকা, কথা বলা, ঘরের সম্পর্ক—এসব স্বাভাবিক রাখা যায়। পরে দুজন সাহাবীর প্রশ্নে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর চেহারার পরিবর্তন ও পরে দুধ পান করানো—এ ঘটনাও বর্ণনায় এসেছে। এতে বোঝা যায়, সীমা মানা জরুরি, কিন্তু নারীদের প্রতি কঠোরতা বা দূরত্ব ইসলামের শিক্ষা নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়িয অবস্থায় সহবাস থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে।
- সহবাস ছাড়া স্বাভাবিক ঘরোয়া সম্পর্ক রাখা যায়।
- ঋতুমতী নারীকে খাবার বা বাসস্থান থেকে আলাদা করা নববী শিক্ষা নয়।
- ধর্মীয় প্রশ্নে সীমা বুঝে ভারসাম্য রাখা দরকার।
