৪৫/১৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২০৩ - ফাতিমা (রাঃ)-এর দ্বীনের ফিতনার আশঙ্কা
নাবী (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর ফযিলত
ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা ও মিম্বরের খুতবা
সহীহ মুসলিম : ৬২০৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬২০৩
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ الدُّؤَلِيُّ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ الْحُسَيْنِ حَدَّثَهُ أَنَّهُمْ، حِينَ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ مِنْ عِنْدِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ مَقْتَلَ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ رضى الله عنهما لَقِيَهُ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ فَقَالَ لَهُ هَلْ لَكَ إِلَىَّ مِنْ حَاجَةٍ تَأْمُرُنِي بِهَا قَالَ فَقُلْتُ لَهُ لاَ .قَالَ لَهُ هَلْ أَنْتَ مُعْطِيَّ سَيْفَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَغْلِبَكَ الْقَوْمُ عَلَيْهِ وَايْمُ اللَّهِ لَئِنْ أَعْطَيْتَنِيهِ لاَ يُخْلَصُ إِلَيْهِ أَبَدًا حَتَّى تَبْلُغَ نَفْسِي إِنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ خَطَبَ بِنْتَ أَبِي جَهْلٍ عَلَى فَاطِمَةَ فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ يَخْطُبُ النَّاسَ فِي ذَلِكَ عَلَى مِنْبَرِهِ هَذَا وَأَنَا يَوْمَئِذٍ مُحْتَلِمٌ فَقَالَ " إِنَّ فَاطِمَةَ مِنِّي وَإِنِّي أَتَخَوَّفُ أَنْ تُفْتَنَ فِي دِينِهَا». قَالَ ثُمَّ ذَكَرَ صِهْرًا لَهُ مِنْ بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ فَأَثْنَى عَلَيْهِ فِي مُصَاهَرَتِهِ إِيَّاهُ فَأَحْسَنَ قَالَ " حَدَّثَنِي فَصَدَقَنِي وَوَعَدَنِي فَأَوْفَى لِي وَإِنِّي لَسْتُ أُحَرِّمُ حَلاَلاً وَلاَ أُحِلُّ حَرَامًا وَلَكِنْ وَاللَّهِ لاَ تَجْتَمِعُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ وَبِنْتُ عَدُوِّ اللَّهِ مَكَانًا وَاحِدًا أَبَدًا».
আলী ইবনু হুসায়ন (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুসায়ন ইবনু ‘আলী (রাঃ)-এর শাহাদতের পর ইয়াযীদ ইবনু মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর নিকট হতে রাযা যখন মাদীনায় এলেন, মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ তখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁকে বললেন, আপনার কোন প্রয়োজন থাকলে আমাকে বলবেন। আমি বললাম, না। মিসওয়ার বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর তলোয়ারটি কি আপনি আমাকে দান করবেন? কেননা আমার ভয় হয় যে, লোকেরা এটি আপনার নিকট হতে আয়ত্ত করে নিবে। আল্লাহর শপথ আপনি যদি সে তলোয়ারটি আমাকে দিয়ে দেন তাহলে যতক্ষণ আমার জীবন থাকে এটি কেউ ছুঁইতে পারবে না।(মিসওয়ার আরো বলেন) ফাতিমার জীবিতাবস্থায় ‘আলী (রাঃ) আবূ জাহ্লের মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে এ ব্যাপার নিয়ে মানুষদের সম্মুখে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিতে শুনেছি। আমি তখন সদ্য বালিগ বয়সের। তখন তিনি বললেন, ফাতিমা আমারই অংশ। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সে তার দ্বীনের সম্পর্কে ফিতনায় না পতিত হয়।তারপর তিনি ‘আব্দ-ই-শাম্স গোষ্ঠীয় তাঁর জামাতার আলোচনা করলেন, তার আত্মীয়তার প্রশংসা করলেন এবং বললেন, সে আমায় যা বলেছে সত্য বলেছে, সে আমার সাথে ওয়াদা করেছে, আর তা পালন করেছে। আর আমি কোন হালালকে হারাম করি না, বা হারামকে হালাল করি না, তবে আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূলের কন্যা এবং আল্লাহর শত্রুর কন্যা কক্ষনো এক স্থানে একত্র হতে পারে না।
ই. ফা. ৬০৮৭, ই. সে. ৬১২৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাঃ) একটি বড় ঘটনা স্মরণ করেন। হুসাইন ইবন আলী (রাঃ)-এর শাহাদতের পর মদিনায় ফেরার ঘটনার মাঝে তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর তলোয়ারের প্রসঙ্গ তোলেন। এরপর তিনি সেই খুতবার কথা বলেন, যখন আলী (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-এর জীবিত অবস্থায় আবু জাহলের কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। রাসূল صلى الله عليه وسلم মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলেন, ফাতিমা তাঁরই অংশ, এবং তিনি আশঙ্কা করেন যে ফাতিমা তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনায় পড়তে পারেন। তিনি আরও বলেন, তিনি কোনো হালালকে হারাম করেন না, হারামকে হালালও করেন না; কিন্তু আল্লাহর রসূলের কন্যা ও আল্লাহর শত্রুর কন্যা এক স্থানে একত্র হতে পারে না। হাদিসটি ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা, কন্যার কষ্টের প্রতি পিতার সংবেদন এবং হালাল-হারামের সীমা স্পষ্ট রাখার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূল صلى الله عليه وسلم ফাতিমা (রাঃ)-এর কষ্ট ও দ্বীনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
- তিনি বলেছেন, তিনি হালালকে হারাম বা হারামকে হালাল করছেন না।
- মিম্বরের খুতবা দিয়ে ঘটনাটি প্রকাশ্যভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে।
- ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা এই বর্ণনায় বিশেষভাবে ফুটে ওঠে।
