৪৫/৩১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২৬৪ - ইবন উমর ও রাতের সালাতের শিক্ষা
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর ফযিলত
রাতের সালাতের শিক্ষা: ইবন উমরের স্বপ্ন
সহীহ মুসলিম : ৬২৬৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬২৬৪
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لِعَبْدٍ - قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ، الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ الرَّجُلُ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِذَا رَأَى رُؤْيَا قَصَّهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَتَمَنَّيْتُ أَنْ أَرَى رُؤْيَا أَقُصُّهَا عَلَى النَّبِيِّ ﷺ قَالَ وَكُنْتُ غُلاَمًا شَابًّا عَزَبًا وَكُنْتُ أَنَامُ فِي الْمَسْجِدِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَرَأَيْتُ فِي النَّوْمِ كَأَنَّ مَلَكَيْنِ أَخَذَانِي فَذَهَبَا بِي إِلَى النَّارِ فَإِذَا هِيَ مَطْوِيَّةٌ كَطَىِّ الْبِئْرِ وَإِذَا لَهَا قَرْنَانِ كَقَرْنَىِ الْبِئْرِ وَإِذَا فِيهَا نَاسٌ قَدْ عَرَفْتُهُمْ فَجَعَلْتُ أَقُولُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ - قَالَ - فَلَقِيَهُمَا مَلَكٌ فَقَالَ لِي لَمْ تُرَعْ .فَقَصَصْتُهَا عَلَى حَفْصَةَ فَقَصَّتْهَا حَفْصَةُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ «نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ " . قَالَ سَالِمٌ فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بَعْدَ ذَلِكَ لاَ يَنَامُ مِنَ اللَّيْلِ إِلاَّ قَلِيلاً .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর জীবিতাবস্থায় জনৈক লোক স্বপ্নে দেখলে তা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট বর্ণনা করতেন। আমি প্রত্যাশা করে ছিলাম যে, আমি কোন স্বপ্নে দেখলে তা নবী (ﷺ)-এর কাছে উল্লেখ করি। বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় আমি বলিষ্ঠ অবিবাহিত যুবক ছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় আমি মসজিদে ঘুমাতাম। তখন আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন দু’জন ফেরেশতা আমাকে ধরে তাঁরা আমাকে জাহান্নামের নিকট নিয়ে গেলেন। তখন দেখলাম যে, সেটি একটি গভীর গর্ত, একটি কূপের গর্তের ন্যায়। তাতে দু’টি কাষ্ঠখণ্ড দেখলাম যা কূপের উপরে স্বাভাবিকভাবে থাকে। সেখানে কিছু ব্যক্তি ছিল যাদের আমি চিনলাম।আমি তখন বলতে শুরু করলাম- أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ. . . “আমি জাহান্নাম হতে আল্লাহর আশ্রয় চাই, আমি জাহান্নাম হতে আল্লাহর আশ্রয় চাই, আমি জাহান্নাম হতে আল্লাহর আশ্রয় চাই”।বর্ণনাকারী বললেন, সে দু’ফেরেশতার সাথে আরও কতিপয় ফেরেশতা মিলিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন, তোমার কোন শঙ্কা নেই। অতঃপর আমি এ স্বপ্নের কথা হাফসাহ্ (রাঃ)-এর নিকট উল্লেখ করলাম। হাফসাহ্ (রাঃ) তা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট বর্ণনা দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, ‘আবদুল্লাহ কতই না উত্তম লোক! সে রাতে যদি (তাহাজ্জুদ) সালাত আদায় করত। সালিম (রহঃ) বলেন, এরপর ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) রাত্রে খুব কম সময়ই ঘুমিয়ে যেতেন।
ই. ফা. ৬১৪৬, ই. সে. ৬১৮৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন উমর (রাঃ)-এর স্বপ্ন এবং রাতের সালাতের শিক্ষা এসেছে। তিনি তখন অবিবাহিত যুবক ছিলেন এবং মসজিদে ঘুমাতেন। স্বপ্নে দুই ফেরেশতা তাঁকে জাহান্নামের কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি সেখানে কিছু পরিচিত মানুষ দেখলেন এবং বলতে লাগলেন, আমি জাহান্নাম থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আরেক ফেরেশতা তাঁকে বললেন, তোমার কোনো ভয় নেই। স্বপ্নটি হাফসা (রাঃ)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পৌঁছালে নবীজি বললেন, আবদুল্লাহ কতই না উত্তম লোক, যদি সে রাতে সালাত আদায় করত। এরপর সালিম (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) রাতে খুব কম ঘুমাতেন। হাদিসটি রাতের সালাতের গুরুত্ব ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের সালাত একজন ভালো ব্যক্তির আমলে আরও সৌন্দর্য আনে।
- জাহান্নাম থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হাদিসে এসেছে।
- নবীজির ইঙ্গিত পেয়ে ইবন উমর (রাঃ) আমলে বদল আনেন।
- স্বপ্ন শুনে নবীজি প্রয়োজনীয় আমলের দিকে দৃষ্টি দেন।
