৪৫/৪১. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৩০৫ - আসহাবে সাফিনার দুই হিজরত

জা‘ফার ইবনু আবু তালিব, আসমা বিনতু ‘উমায়স ও তাদের নৌ সফর-সঙ্গীদের ফাজীলাত

আসহাবে সাফিনা ও দুই হিজরতের আনন্দ

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৩০৫

قَالَ فَدَخَلَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ - وَهِيَ مِمَّنْ قَدِمَ مَعَنَا - عَلَى حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم زَائِرَةً وَقَدْ كَانَتْ هَاجَرَتْ إِلَى النَّجَاشِيِّ فِيمَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِ فَدَخَلَ عُمَرُ عَلَى حَفْصَةَ وَأَسْمَاءُ عِنْدَهَا فَقَالَ عُمَرُ حِينَ رَأَى أَسْمَاءَ مَنْ هَذِهِ قَالَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ ‏.‏ قَالَ عُمَرُ الْحَبَشِيَّةُ هَذِهِ الْبَحْرِيَّةُ هَذِهِ فَقَالَتْ أَسْمَاءُ نَعَمْ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ سَبَقْنَاكُمْ بِالْهِجْرَةِ فَنَحْنُ أَحَقُّ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْكُمْ ‏.‏ فَغَضِبَتْ وَقَالَتْ كَلِمَةً كَذَبْتَ يَا عُمَرُ كَلاَّ وَاللَّهِ كُنْتُمْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُطْعِمُ جَائِعَكُمْ وَيَعِظُ جَاهِلَكُمْ وَكُنَّا فِي دَارِ أَوْ فِي أَرْضِ الْبُعَدَاءِ الْبُغَضَاءِ فِي الْحَبَشَةِ وَذَلِكَ فِي اللَّهِ وَفِي رَسُولِهِ وَايْمُ اللَّهِ لاَ أَطْعَمُ طَعَامًا وَلاَ أَشْرَبُ شَرَابًا حَتَّى أَذْكُرَ مَا قُلْتَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ كُنَّا نُؤْذَى وَنُخَافُ وَسَأَذْكُرُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَسْأَلُهُ وَوَاللَّهِ لاَ أَكْذِبُ وَلاَ أَزِيغُ وَلاَ أَزِيدُ عَلَى ذَلِكَ ‏.‏ قَالَ فَلَمَّا جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ عُمَرَ قَالَ كَذَا وَكَذَا ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَيْسَ بِأَحَقَّ بِي مِنْكُمْ وَلَهُ وَلأَصْحَابِهِ هِجْرَةٌ وَاحِدَةٌ وَلَكُمْ أَنْتُمْ أَهْلَ السَّفِينَةِ هِجْرَتَانِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَلَقَدْ رَأَيْتُ أَبَا مُوسَى وَأَصْحَابَ السَّفِينَةِ يَأْتُونِي أَرْسَالاً يَسْأَلُونِي عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ مَا مِنَ الدُّنْيَا شَىْءٌ هُمْ بِهِ أَفْرَحُ وَلاَ أَعْظَمُ فِي أَنْفُسِهِمْ مِمَّا قَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ أَبُو بُرْدَةَ فَقَالَتْ أَسْمَاءُ فَلَقَدْ رَأَيْتُ أَبَا مُوسَى وَإِنَّهُ لَيَسْتَعِيدُ هَذَا الْحَدِيثَ مِنِّي ‏.‏

রাবী (আব্দুল্লাহ ইবনু বাররাদ আশ’আরী) (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

অতঃপর আমাদের নৌকায় সফর সঙ্গিনী আসমা বিনতু উমায়স (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর স্ত্রী হাফসাহ (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হন। যাঁরা নাজাশীর নিকট হিজরাত করেছিলেন, তিনি ছিলেন তাঁদের একজন। ইত্যবসরে উমর(রাঃ) হাফসার নিকট আসলেন। তখন আসমা বিনতু উমায়স (রাঃ) তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলেন। তখন উমর (রাঃ)আসমাকে দেখে বললেন, ইনি কে? হাফসাহ (রাঃ) বললেন তিনি আসমা বিনতু উমায়স। উমর (রাঃ) বললেন ইনিই কি হাবশায় হিজরাতকারিণী, নৌকায় আরোহণকারিণী? তখন আসমা (রাঃ) বললেন জি হ্যাঁ। উমর (রাঃ) বললেন, হিজরাতের দৃষ্টিকোণে আমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী। অতএব তোমাদের চেয়ে আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সম্বন্ধে বেশি হকদার।তখন আসমা (রাঃ) রাগান্বিত স্বরে বললেন, হে উমর! কথাটি সঠিক নয়। কক্ষনো সঠিক হতে পারে না আল্লাহ শপথ! তোমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে ছিলে। তিনি তোমাদের ক্ষুধার্তদের খাবার দান করতেন, অজ্ঞদের জ্ঞানের আলো বিতরণ করতেন। আর আমরা আবিসিনিয়ায় প্রবাসে বিপদের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে অবস্থান করছিলাম। এটা ছিল শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সান্নিধ্য লাভের জন্যই।আল্লাহর শপথ! তুমি যা বলেছ তা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট আলোচনা না করা পর্যন্ত আমি কোন খাবার খাব না এবং পানীয় দ্রব্যও ছুঁবো না। আমার (বিদেশ বিভুঁইয়ে) সার্বক্ষণিক বিপদ ও ভয়ভীতির মাঝে দিনাতিপাত করতাম। আমি ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে উত্থাপন করব এবং প্রশ্ন করব। আল্লাহর শপথ! আমি মিথ্যাচার করব না, বিপথগামীও হব না এবং প্রকৃত ঘটনার চেয়ে বাড়িয়েও কিছু বলব না।রাবী বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আসলেন তখন আসমা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নাবী! উমর (রাঃ) এই এই বলেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন আমার প্রতি তোমাদের তুলনায় তাঁর হক অধিক নেই। কারণ, তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য আছে কেবল একটি হিজরাত। আর তোমাদের নৌকারোহীদের জন্য আছে দু’টি হিজরাত।তিনি (আসমা (রাঃ) বলেন, আমি আবূ মূসা (রাঃ) ও নৌকারোহীদের দলবেঁধে এসে আমার নিকট এ হাদীসটি প্রশ্ন করতে দেখেছি। তাঁদের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যা বলেছেন তাঁদের নিকট এর চেয়ে বেশি আনন্দদায়ক এবং বড় ও মহৎ কোন ব্যাপার ছিল না। আবূ বুরদাহ (রাঃ) বলেন যে, আসমা (রাঃ) বলেছেন, আমি আবূ মূসা (রাঃ) কে দেখেছি তিনি আমার নিকট হতে এ হাদীস আনন্দের আতিশয্যে বারবার শুনতে চাইতেন।

ই.ফা.৬১৮৫, ই.সে. ৬২২৯

সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৩০৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আসমা বিনত উমায়স (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি হাফসা (রাঃ)-এর কাছে গেলে উমর (রাঃ) তাঁকে হাবশায় হিজরতকারিণী ও নৌকারোহী বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, আমরা হিজরতে তোমাদের আগে। আসমা (রাঃ) এতে কষ্ট পান। তিনি বলেন, তোমরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে ছিলে, আর আমরা দূর দেশে কষ্ট, ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম—সবই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। পরে তিনি বিষয়টি নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানান, উমর ও তাঁর সাথীদের একটি হিজরত, আর নৌকারোহীদের দুই হিজরত। এই কথা শুনে নৌকারোহীরা অত্যন্ত আনন্দিত হন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহর পথে কষ্ট সহ্য করা মর্যাদার কারণ হতে পারে।
  • নিজের কষ্ট ও অধিকার সম্পর্কে সত্য কথা বলা যায়।
  • নবীজি (صلى الله عليه وسلم) নৌকারোহীদের দুই হিজরতের মর্যাদা জানান।
  • সাহাবীরা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর স্বীকৃতিকে দুনিয়ার বড় আনন্দের চেয়ে বেশি মূল্য দিতেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন