৪৬/৩৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৫৭১ - বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার শাস্তি
বিড়াল ও যে প্রাণী (মানুষকে) কষ্ট দেয় না, তাদেরকে সাজা দেয়া নিষিদ্ধ
বিড়ালকে বেঁধে রেখে কষ্ট দেওয়ার ভয়াবহ শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৬৫৭১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৫৭১
وَحَدَّثَنِيهِ نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " عُذِّبَتِ امْرَأَةٌ فِي هِرَّةٍ أَوْثَقَتْهَا فَلَمْ تُطْعِمْهَا وَلَمْ تَسْقِهَا وَلَمْ تَدَعْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الأَرْضِ» .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের জন্য শাস্তি দেয়া হয়। সে (মহিলা) এটিকে বেঁধে রাখে, খাবারও দেয়নি এবং পানিও পান করায়নি; এমনকি ভূ-পৃষ্ঠের কীট-পতঙ্গ খেতে (বেঁচে থাকার জন্যে) তাকে বন্ধন ছেড়ে দেয়নি।
ই.ফা. ৬৪৩৮, ই.সে. ৬৪৮৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৫৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। তাকে খাবার দেয়নি, পানি পান করায়নি, আবার ছেড়েও দেয়নি যেন সে জমিনের কীট-পতঙ্গ খেয়ে বাঁচতে পারে। বর্ণনাটি খুব ছোট, কিন্তু এর শিক্ষা গভীর। যে প্রাণীকে মানুষ নিজের হাতে আটকে রাখে, তার প্রতি দায়িত্বও মানুষের ওপর আসে। বিড়ালের অধিকার বলতে এখানে অন্তত খাবার, পানি ও বেঁচে থাকার সুযোগের কথা স্পষ্টভাবে এসেছে। তাই প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া, অবহেলা করা বা বন্দি করে রাখা ছোট বিষয় নয়। ইসলাম দয়া, দায়িত্ব ও অন্যায় থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রাণীকে বেঁধে রাখলে তার খাবার-পানির দায়িত্ব নিতে হবে।
- বিড়ালকে মুক্ত না করে ক্ষুধায় রাখা অন্যায়।
- প্রাণীর কষ্টকে তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়।
- দয়া ও দায়িত্ববোধ ইসলামী চরিত্রের অংশ।
