৩/২১. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৬২ - বীর্যপাত হলে গোসল

একমাত্র বীর্যপাত থেকে গোসল ফার্‌য করণ [৯৪]

বীর্যপাত না হলে গোসল ফরজ হবে কি?

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৬২

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ - قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنْ شَرِيكٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي نَمِرٍ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَخَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ إِلَى قُبَاءٍ حَتَّى إِذَا كُنَّا فِي بَنِي سَالِمٍ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى بَابِ عِتْبَانَ فَصَرَخَ بِهِ فَخَرَجَ يَجُرُّ إِزَارَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَعْجَلْنَا الرَّجُلَ " . فَقَالَ عِتْبَانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ يُعْجَلُ عَنِ امْرَأَتِهِ وَلَمْ يُمْنِ مَاذَا عَلَيْهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ " .

আব্দুর রহমান ইবনু আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রহঃ) তাঁর পিতা আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কোন এক সোমবারে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সঙ্গে কুবা এলাকার দিকে গেলাম। আমরা বানু সালিম গোত্রের মহল্লায় পৌঁছালে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ‘ইত্‌বান (রাঃ)-এর গেইটে দাঁড়ালেন এবং তাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি পরনের লুঙ্গি হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বের হয়ে আসলেন। এ অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আমরা কি লোকটিকে তাড়াহুড়োয় ফেলে দিলাম? তখন ‘ইতবান (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাসের সময় তাড়াহুড়ো করে এবং তাতে বীর্যপাত না হয় তখন তাকে কি করতে হবে? (অর্থাৎ তাকে গোসল করতে হবে কিনা?) জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, বস্তুত বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করতে হবে। [৯৫]

[৯৪] কিন্তু পরবর্তীতে এ হুকুম মানসুখ (রহিত) হয়ে যায় এবং শুধু সহবাসের দ্বারাই গোসল ফরয হয়।[৯৫] “বস্তুত বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করতে হবে।” এ কথার ব্যাখ্যায় ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, সহবাস করলেই গোসল ফরয হয়ে যায়। এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমা (ঐকমত্য) হয়েছে। সহবাস দ্বারা বীর্যপাত হোক বা না হোক শুধুমাত্র পুরুষদের যৌনাঙ্গের অগ্রভাগ মহিলার গুপ্তাঙ্গে প্রবেশ করলেই গোসল করতে হবে। “বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করতে হবে” এ হাদীস মানসুখ (রহিত) হয়েছে। অর্থাৎ ইসলামের প্রথম যুগে এ হুকুম ছিল যে, সহবাসে বীর্যপাত না ঘটলে গোসল করা অপরিহার্য নয়। কিন্তু পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে গেছে। এ অধ্যায়ে (৮৭-৩৪৮) নম্বর হাদীসটি নাসিখ (রহিতকারী)ই.ফা. ৬৬৬, ই.সে. ৬৮১

সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৬২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, তিনি এক সোমবার রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে কুবা এলাকার দিকে যান। বানু সালিমের মহল্লায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইতবানের দরজায় দাঁড়িয়ে তাঁকে ডাকেন। তিনি লুঙ্গি টানতে টানতে বের হন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আমরা কি লোকটিকে তাড়াহুড়োয় ফেলে দিলাম? তখন ইতবান জিজ্ঞেস করেন, কেউ স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের সময় তাড়াহুড়ো করে এবং বীর্যপাত না হয়, তার কী করণীয়? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, বস্তুত বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করতে হবে। এই হাদিসে জানাবাতের গোসলের একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর এসেছে। এখানে মূল শব্দ হলো বীর্যপাত হলে গোসল। তবে পরবর্তী বর্ণনায় মাসআলার ভিন্ন দিকও আছে, তাই এই হাদিসের বক্তব্যকে তার নিজ স্থানে বুঝতে হবে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • এই বর্ণনায় বীর্যপাতকে গোসলের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে।
  • দ্বীনের ব্যক্তিগত বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা সাহাবিদের আমল ছিল।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মানুষের অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখতেন।
  • সহবাস ও পবিত্রতার বিষয়ে লজ্জা রেখে জ্ঞান নেওয়া দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন