৪৯/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৭২৮ - দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণের দোয়া
দুনিয়াতে শাস্তি কার্যকরের জন্য দু‘আ করা অপছন্দনীয়
দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দোয়া
সহীহ মুসলিম : ৬৭২৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৭২৮
حَدَّثَنَا أَبُو الْخَطَّابِ، زِيَادُ بْنُ يَحْيَى الْحَسَّانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَادَ رَجُلاً مِنَ الْمُسْلِمِينَ قَدْ خَفَتَ فَصَارَ مِثْلَ الْفَرْخِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " هَلْ كُنْتَ تَدْعُو بِشَىْءٍ أَوْ تَسْأَلُهُ إِيَّاهُ " . قَالَ نَعَمْ كُنْتُ أَقُولُ اللَّهُمَّ مَا كُنْتَ مُعَاقِبِي بِهِ فِي الآخِرَةِ فَعَجِّلْهُ لِي فِي الدُّنْيَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " سُبْحَانَ اللَّهِ لاَ تُطِيقُهُ - أَوْ لاَ تَسْتَطِيعُهُ - أَفَلاَ قُلْتَ اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ " . قَالَ فَدَعَا اللَّهَ لَهُ فَشَفَاهُ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন মুসলিম রোগীকে সেবা করতে গেলেন। সে (অসুখে কাতর হয়ে) অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল, এমনকি সে পাখির ছানার মতো হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কি কোন বিষয় প্রার্থনা করছিলে অথবা আল্লাহর নিকট বিশেষভাবে কিছু চেয়েছিলে? সে বলল, হ্যাঁ। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহ! আপনি পরকালে আমাকে যে সাজা দিবেন তা এ ইহকালেই দিয়ে দিন।সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সুবহানাল্লাহ্! তোমার এমন সামর্থ্য নেই যে, তা বহন করবে? অথবা তুমি তা সহ্য করতে পরবে না। তুমি এমনটি বললে না কেন? হে আল্লাহ! আমাদের কল্যাণ দাও পৃথিবীতে এবং কল্যাণ দান করো পরকালেও। আর জাহান্নাম হতে আমাদেরকে রক্ষা করো। তিনি (রাবী) বলেন, তখন তিনি তার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করেন। আর আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দেন।
ই.ফা. ৬৫৯১, ই.সে. ৬৬৪৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৭২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এক অসুস্থ মুসলিমকে দেখতে গেলেন। লোকটি এত দুর্বল হয়ে গিয়েছিল যে তাকে পাখির ছানার মতো মনে হচ্ছিল। নবী صلى الله عليه وسلم জানতে চাইলেন, সে কি আল্লাহর কাছে কোনো বিশেষ দোয়া করেছিল। সে বলল, সে আখিরাতের শাস্তি দুনিয়াতেই পেতে চেয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকে সতর্ক করলেন যে আল্লাহর শাস্তি বহন করার ক্ষমতা তার নেই। এরপর তিনি তাকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দোয়া শেখালেন—দুনিয়ায় কল্যাণ, আখিরাতে কল্যাণ এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা। এই দোয়া মানুষকে হতাশা নয়, বরং আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও নিরাপত্তা চাইতে শেখায়। হাদিসের শেষে নবী صلى الله عليه وسلم তার জন্য দোয়া করেন এবং আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিপদে নিজের জন্য কঠিন শাস্তি চাওয়া উচিত নয়।
- দুনিয়া ও আখিরাত—দুই জীবনের কল্যাণ চাওয়া নববী শিক্ষা।
- জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ দোয়া।
- রোগীর জন্য দোয়া করা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর আমলের মধ্যে ছিল।
