৫৩/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭০২৭ - জান্নাতের অদেখা নিয়ামত
জান্নাতে এমন একটি গাছ রয়েছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ’ বছর পর্যন্ত ভ্রমণ করতে থাকবে কিন্তু এতেও সে তার ছায়া অতিক্রম করতে পারবে না
জান্নাতের অদেখা নিয়ামত ও আল্লাহর পুরস্কার
সহীহ মুসলিম : ৭০২৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭০২৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " حُفَّتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ وَحُفَّتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ " .حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، وَهَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو صَخْرٍ، أَنَّ أَبَا حَازِمٍ، حَدَّثَهُ قَالَ سَمِعْتُ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، يَقُولُ شَهِدْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَجْلِسًا وَصَفَ فِيهِ الْجَنَّةَ حَتَّى انْتَهَى ثُمَّ قَالَ ﷺ فِي آخِرِ حَدِيثِهِ «فِيهَا مَا لاَ عَيْنٌ رَأَتْ وَلاَ أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلاَ خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ " . ثُمَّ اقْتَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ ﴾تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ * فَلاَ تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴿
সাহল বিন সা‘দ আস-সাঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলাম। তিনি জান্নাতের গুণকীর্তন করে শেষ অবধি বললেন, এতে এমন সব নিয়ামত রয়েছে যা কোন চক্ষু কক্ষনো দেখেনি, কোন কান কক্ষনো শোনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ কক্ষনো কল্পনাও করেনি।অতঃপর তিনি (ﷺ) পাঠ করলেন- ‘তারা শয্যা ত্যাগ করতঃ তাদের প্রতিপালককে ডাকে, আশায় ও আশঙ্কায় এবং তাদেরকে যে রিজিক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন মনোমুগ্ধকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে তাদের কর্মফল স্বরূপ”- (সূরা আস্ সাজদাহ্ ৩২ : ১৬-১৭)।
ই.ফা. ৬৮৭৪, ই.সে. ৬৯৩১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭০২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জান্নাতের এমন নিয়ামতের কথা বলেছেন, যা মানুষের সাধারণ ধারণার বাইরে। কোনো চোখ তা দেখেনি, কোনো কান তা শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরও তা কল্পনা করতে পারেনি। এরপর তিনি সূরা আস-সাজদাহর আয়াত পাঠ করেন, যেখানে রাতের ইবাদত, আশা ও ভয় নিয়ে আল্লাহকে ডাকা এবং আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে ব্যয় করার কথা এসেছে। এখানে জান্নাতের নিয়ামত শুধু বাহ্যিক সুখের বিষয় নয়; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে কর্মের প্রতিদান হিসেবে লুকিয়ে রাখা আনন্দের কথা বলা হয়েছে। তাই মূল শিক্ষা হলো, জান্নাতের পুরস্কার মানুষের ভাবনার চেয়েও বড়, আর সৎ আমল তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জান্নাতের নিয়ামত মানুষের দেখা, শোনা ও কল্পনার বাইরে।
- আশা ও ভয় নিয়ে আল্লাহকে ডাকা মুমিনের সুন্দর গুণ।
- আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে ব্যয় করা জান্নাতের পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত।
- সৎ আমলের প্রতিদান আল্লাহ এমনভাবে রাখেন, যা মানুষ পুরোপুরি বুঝতে পারে না।
