৪/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮৯১ - ওহী গ্রহণে মনোযোগের শিক্ষা
কিরাআত পাঠ মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে
ওহী গ্রহণের সময় মনোযোগ: সূরা কিয়ামাহর আয়াতের ব্যাখ্যা
সহীহ মুসলিম : ৮৯১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৮৯১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ { لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ} قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعَالِجُ مِنَ التَّنْزِيلِ شِدَّةً كَانَ يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ - فَقَالَ لِيَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَا أُحَرِّكُهُمَا كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَرِّكُهُمَا . فَقَالَ سَعِيدٌ أَنَا أُحَرِّكُهُمَا كَمَا كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُحَرِّكُهُمَا . فَحَرَّكَ شَفَتَيْهِ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى { لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ * إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} قَالَ جَمْعَهُ فِي صَدْرِكَ ثُمَّ تَقْرَأُهُ { فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} قَالَ فَاسْتَمِعْ وَأَنْصِتْ ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ تَقْرَأَهُ قَالَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ اسْتَمَعَ فَإِذَا انْطَلَقَ جِبْرِيلُ قَرَأَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَمَا أَقْرَأَهُ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ “এ ওহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহ্বা নাড়াবেন না”- (সূরা আল কিয়ামাহ্ ৭৫ : ১৬)।তিনি এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, ওহী নাযিল হওয়াকালীন সময়ে নবী (ﷺ) খুব কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হতেন। তিনি তা আয়ত্ত করার জন্য নিজের ঠোঁটদ্বয় নাড়তেন। সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ) বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে তাঁর ঠোঁট নাড়তেন- আমি তোমাকে তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি [ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] তাঁর ঠোঁট নাড়ালেন। সা’ঈদ (রহঃ) বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) যেভাবে ঠোঁট নেড়েছেন আমিও তেমন করে দেখাচ্ছি।অতঃপর তিনি [সা‘ঈদ (রহঃ) ] নিজের ঠোঁট নাড়লেন, মহান আল্লাহ নাযিল করলেন: “এ ওহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য বারবার নিজের জিহ্বা নাড়িও না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া ও পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার”- (সূরা আল কিয়ামাহ্ ৭৫ : ১৬-১৭)। অর্থাৎ- তোমার অন্তরে তা গেঁথে দেয়া এবং তোমার মুখে তা পাঠ করিয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব।- (আল কিয়ামাহ ৭৫ : ১৮)। তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো ও চুপচাপ থাকো। এরপর তা তোমার মুখ দিয়ে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব।” এরপর থেকে জিবরীল (আঃ) ওহী নিয়ে আসলে তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। জিবরীল (আঃ) চলে যাওয়ার পর নবী (ﷺ) তার পাঠ হুবহু পড়তেন।
ই.ফা. ৮৮৭, ই.সে. ৯০০
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূরা আল কিয়ামাহর আয়াত ব্যাখ্যা করেছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) ওহী নাযিলের সময় তা দ্রুত আয়ত্ত করার চেষ্টা করতেন এবং ঠোঁট নাড়তেন। সাঈদ ইবনু যুবায়ের (রহঃ)-কে ইবনু আব্বাস (রাঃ) নিজের ঠোঁট নাড়িয়ে দেখান, নবী (صلى الله عليه وسلم) কীভাবে ঠোঁট নাড়তেন। পরে সাঈদ (রহঃ)-ও একইভাবে দেখান। এরপর আয়াত নাযিল হয় যে, তাড়াহুড়া করে জিহ্বা নাড়াতে হবে না। কুরআন অন্তরে গেঁথে দেওয়া, পড়িয়ে দেওয়া এবং পরে তা মুখে পাঠ করানো আল্লাহর দায়িত্ব। এরপর জিবরীল (আঃ) ওহী আনলে নবী (صلى الله عليه وسلم) মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। জিবরীল চলে গেলে তিনি হুবহু তা পাঠ করতেন। এতে কুরআন শেখার ক্ষেত্রে মনোযোগ, চুপ থাকা এবং ধৈর্যের শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন শেখার সময় মনোযোগ দিয়ে শোনা গুরুত্বপূর্ণ।
- তাড়াহুড়া কখনো কখনো শেখার কষ্ট বাড়িয়ে দেয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ওহী গ্রহণে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন।
- আল্লাহ কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব নিজের পক্ষ থেকে জানিয়েছেন।
