৪/৩৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৯০৯ - ফজরে সূরা মুমিনুন
ফাজরের সলাতের কিরাআত
ফজরের সালাতে সূরা মুমিনুন পাঠের হাদিস
সহীহ মুসলিম : ৯০৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৯০৯
وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ سُفْيَانَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُسَيَّبِ الْعَابِدِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ صَلَّى لَنَا النَّبِيُّ ﷺ الصُّبْحَ بِمَكَّةَ فَاسْتَفْتَحَ سُورَةَ الْمُؤْمِنِينَ حَتَّى جَاءَ ذِكْرُ مُوسَى وَهَارُونَ أَوْ ذِكْرُ عِيسَى - مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ يَشُكُّ أَوِ اخْتَلَفُوا عَلَيْهِ - أَخَذَتِ النَّبِيَّ ﷺ سَعْلَةٌ فَرَكَعَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ السَّائِبِ حَاضِرٌ ذَلِكَ . وَفِي حَدِيثِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ فَحَذَفَ فَرَكَعَ . وَفِي حَدِيثِهِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو . وَلَمْ يَقُلِ ابْنِ الْعَاصِ .
'আবদুল্লাহ ইবনু সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে মাক্কায় ভোরের (ফাজরের) সালাত আদায় করলেন। তিনি সূরা আল মু’মিনূন পড়া শুরু করলেন। তিনি তা পড়তে পড়তে মূসা ও হারূন (আঃ) অথবা ‘ঈসা (আঃ) -এর আলোচনা সম্পর্কিত আয়াতে পৌছে গেলেন। (এ ব্যাপারে মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্বাদ সন্দেহে পড়ে গেছেন অথবা রাবীদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে)। এ সময় নবী (ﷺ) -এর কাশি আসলে তিনি রুকূ’তে চলে গেলেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সায়িবও সালাতে উপস্থিত ছিলেন। ‘আবদুর রায্যাকের বর্ণনায় রয়েছে, ‘তিনি কিরাআত পাঠ থামিয়ে দিয়ে রুকূ’তে চলে গেলেন।’ তিনি তাঁর বর্ণনায় ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্রের নাম উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ইবনুল ‘আস-এর নাম উল্লেখ করেননি।
ই. ফা. ৯০৪, ই. সে. ৯১৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ৯০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফজরের সালাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কিরাআতের একটি ঘটনা এসেছে। তিনি মক্কায় সাহাবীদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেন এবং সূরা আল-মুমিনূন পাঠ শুরু করেন। পাঠ করতে করতে তিনি মূসা ও হারুন (আঃ) অথবা ঈসা (আঃ)-এর আলোচনা সম্পর্কিত আয়াতে পৌঁছেন। বর্ণনাকারীর সন্দেহ বা রাবীদের মতভেদের কথা হাদিসেই উল্লেখ আছে। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাশি আসে, তাই তিনি কিরাআত থামিয়ে রুকুতে চলে যান। এই বর্ণনা থেকে ফজরের সালাতে দীর্ঘ কিরাআত, সূরা মুমিনুন পাঠ এবং শারীরিক অবস্থার কারণে কিরাআত সংক্ষিপ্ত করার বিষয় বোঝা যায়। হাদিসটি কোনো বাড়তি নিয়ম চাপিয়ে দেয় না; বরং একটি বাস্তব সালাতের ঘটনা তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজরের সালাতে নবী صلى الله عليه وسلم কখনো দীর্ঘ সূরা পাঠ করতেন।
- শারীরিক অসুবিধা হলে সালাতে কিরাআত সংক্ষিপ্ত করা যেতে পারে।
- হাদিসে রাবীর সন্দেহ থাকলে তা সততার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
