০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৭ - দুর্বল রাবী থেকে সতর্ক করা
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
দীনদারি আলাদা, হাদীস গ্রহণের যোগ্যতা আলাদা
সহীহ মুসলিম : ৩৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৭
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ قُهْزَاذَ، مِنْ أَهْلِ مَرْوَ قَالَ أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ قُلْتُ لِسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ إِنَّ عَبَّادَ بْنَ كَثِيرٍ مَنْ تَعْرِفُ حَالَهُ. وَإِذَا حَدَّثَ جَاءَ، بِأَمْرٍ عَظِيمٍ فَتَرَى أَنْ أَقُولَ، لِلنَّاسِ لَا تَأْخُذُوا عَنْهُ قَالَ سُفْيَانُ بَلَى. قَالَ عَبْدُ اللهِ فَكُنْتُ، إِذَا كُنْتُ فِي مَجْلِسٍ ذُكِرَ فِيهِ عَبَّادٌ أَثْنَيْتُ عَلَيْهِ فِي دِينِهِ وَأَقُولُ لَا تَأْخُذُوا عَنْهُ. وَقَالَ مُحَمَّدٌ. حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ قَالَ أَبِي قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ انْتَهَيْتُ إِلَى شُعْبَةَ فَقَالَ هَذَا عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ فَاحْذَرُوهُ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু মুবারাক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি সুফইয়ান সাওরী (রহঃ)-কে বললাম, ‘আববাদ ইবনু কাসীর সম্পর্কে আপনি তো সম্যক অবগত আছেন। সে হাদীস বর্ণনাকালে ঘোর অসত্য বলে থাকে। আপনি কি মনে করেন, আমি লোকদের বলে দিব যে, তারা যেন তার থেকে হাদীস বর্ণনা না করে। সুফইয়ান সাওরী (রহঃ) বললেন, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।‘আবদুল্লাহ ইবনু মুবারাক (রহঃ) বলেন, তারপর থেকে আমি কোন মজলিসে উপস্থিত থাকলে এবং সেখানে ‘আববাদ সম্বন্ধে আলোচনা উঠলে আমি তার দ্বীনদারীর প্রশংসা করতাম, কিন্তু বলে দিতাম যে, তোমরা তার নিকট থেকে হাদীস গ্রহণ করো না (অর্থাৎ তার থেকে সতর্ক থাক)। আর মুহাম্মাদ (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুবারাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি শু‘বার নিকট গেলে, তিনি বললেন, সে ‘আববাদ ইবনু কাসীর থেকে তোমরা সতর্ক থাকবে।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ‘আববাদ ইবনু কাসীর সম্পর্কে সতর্কতার কথা এসেছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুবারাক (রহঃ) সুফইয়ান সাওরী (রহঃ)-কে বলেন, সে হাদীস বর্ণনার সময় বড় অসত্য নিয়ে আসে; লোকদের কি বলব যে, তারা যেন তার থেকে হাদীস না নেয়? সুফইয়ান বলেন, হ্যাঁ। এরপর ইবনু মুবারাক (রহঃ) বলেন, কোনো মজলিসে ‘আববাদের কথা উঠলে তিনি তার দীনদারীর প্রশংসা করতেন, কিন্তু বলতেন, তার কাছ থেকে হাদীস নিও না। এখানে “দুর্বল রাবী”, “দীনদারি ও বর্ণনার যোগ্যতা” এবং “হাদীস থেকে সতর্কতা” প্রধান বিষয়। এটি ভারসাম্য শেখায়: ব্যক্তির ভালো দিক স্বীকার করা যায়, তবুও হাদীসের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেউ দীনদার হলেও হাদীস বর্ণনায় অযোগ্য হতে পারেন।
- ব্যক্তির ভালো দিক স্বীকার করেও তার বর্ণনা থেকে সতর্ক করা যায়।
- হাদীস গ্রহণে আবেগ নয়, সত্যতা ও যোগ্যতা দেখা জরুরি।
