০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪০ - সানাদ বদলানোর বিপদ
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
সানাদে অসংগতি দেখলে হাদীস গ্রহণে সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৪০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪০
حَدَّثَنِي الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ أَخْبَرَنِي خَلِيفَةُ بْنُ مُوسَى، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى غَالِبِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ فَجَعَلَ يُمْلِي عَلَيَّ حَدَّثَنِي مَكْحُولٌ، حَدَّثَنِي مَكْحُولٌ، فَأَخَذَهُ الْبَوْلُ فَقَامَ فَنَظَرْتُ فِي الْكُرَّاسَةِ فَإِذَا فِيهَا حَدَّثَنِي أَبَانُ عَنْ أَنَسٍ وَأَبَانُ عَنْ فُلَانٍ فَتَرَكْتُهُ وَقُمْتُ.قَالَ وَسَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيَّ، يَقُولُ رَأَيْتُ فِي كِتَابِ عَفَّانَ حَدِيثَ هِشَامٍ أَبِي الْمِقْدَامِ حَدِيثُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ هِشَامٌ حَدَّثَنِي رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ يَحْيَى بْنُ فُلَانٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ قَالَ قُلْتُ لِعَفَّانَ إِنَّهُمْ يَقُولُونَ هِشَامٌ سَمِعَهُ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ. فَقَالَ إِنَّمَا ابْتُلِيَ مِنْ قِبَلِ هَذَا الْحَدِيثِ كَانَ يَقُولُ حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدٍ ثُمَّ ادَّعَى بَعْدُ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْ مُحَمَّدٍ .
খলীফাহ্ ইবনু মূসা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি গালিব ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ (রহঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি আমাকে হাদীস লিখাতে গিয়ে বললেন, মাকহুল (রহঃ) আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এমন সময় তাঁর প্রস্রাবের বেগ হলো। তিনি প্রস্রাব করতে চলে গেলেন। আমি এ অবসরে তাঁর পাণ্ডুলিপিখানির প্রতি তাকিয়ে দেখলাম। তাতে লেখা রয়েছে, আবান (রহঃ) আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আবান (রহঃ) অমুকের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ দেখে (মাকহূলের উল্লেখ না পেয়ে) আমি তাঁর কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ না করে চলে এলাম।তিনি [মুসলিম (রহঃ)] বলেন, আমি হাসান ইবনু ‘আলী আল হুলওয়ানীকে বলতে শুনেছি, আমি ‘আফফান (রহঃ)-এর গ্রন্থে আবুল মিকদাম হিশামের হাদীস দেখেছি, যা তিনি ‘উমার ইবনু ‘আবদুল আযীয (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। হিশাম (রহঃ) বলেন, আমার কাছে এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, তাকে অমুকের পুত্র ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) বলা হয়। তিনি মুহাম্মাদ ইবনু কা‘বের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।হুলওয়ানী বলেন, আমি ‘আফফান (রহঃ)-কে বললাম, লোকেরা বলে হিশাম না কি মুহাম্মাদ ইবনু কা‘ব (রহঃ) থেকে এ হাদীস শুনেছেন। ‘আফফান (রহঃ) বললেন, এ হাদীসটির কারণেই হিশাম বিপাকে পড়েছেন। তিনি এ হাদীসটির সানাদে বলতেন, ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) আমাকে মুহাম্মাদের সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। পরে তিনি দাবী করেন যে, স্বয়ং মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে তিনি এ হাদীস শুনেছেন।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দুইটি ঘটনার মাধ্যমে সানাদ যাচাইয়ের বাস্তব উদাহরণ এসেছে। প্রথম ঘটনায় খলীফাহ্ ইবনু মূসা গালিব ইবনু ‘উবাইদুল্লাহর কাছে যান। তিনি মুখে বলছিলেন, মাকহুল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন; কিন্তু পাণ্ডুলিপিতে দেখা গেল আবান আনাসের সূত্রে এবং আবান অন্যের সূত্রে লিখা আছে। এই অসংগতি দেখে তিনি তার কাছ থেকে হাদীস না নিয়ে চলে যান। দ্বিতীয় ঘটনায় হিশাম আবুল মিকদামের একটি হাদীসের সানাদ নিয়ে পরিবর্তিত দাবির কথা এসেছে। আগে তিনি একজন মধ্যবর্তী ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণনা বলতেন, পরে সরাসরি শুনেছেন বলে দাবি করেন। এখানে “সানাদ বদলানো”, “পাণ্ডুলিপি যাচাই” এবং “হাদীস গ্রহণে সতর্কতা” মূল বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুখের বর্ণনা ও লিখিত সূত্রে অমিল হলে সতর্ক হওয়া দরকার।
- সানাদ বদলানো বা সরাসরি শোনার দাবি যাচাই করা উচিত।
- হাদীস গ্রহণে পাণ্ডুলিপি ও সূত্র দুটোই খেয়াল করা জরুরি।
