০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬ - সন্দেহজনক বক্তব্য যাচাইয়ের শিক্ষা
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
সন্দেহজনক রাবীর বক্তব্য গ্রহণে সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৪৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৬
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ الْحَارِثَ، قَالَ تَعَلَّمْتُ الْقُرْآنَ فِي ثَلَاثِ سِنِينَ وَالْوَحْيَ فِي سَنَتَيْنِ أَوْ قَالَ الْوَحْيَ فِي ثَلَاثِ سِنِينَ وَالْقُرْآنَ فِي سَنَتَيْنِ.
ইব্রাহীম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
হারিস বলেছে, আমি তিন বছরে কুরআন শিখেছি এবং ওহী শিখেছি দুবছরে। অথবা সে বলেছে, ওহী শিখেছি তিন বছরে এবং কুরআন শিখেছি দুবছরে।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় হারিসের একটি দাবি উল্লেখ হয়েছে। সে বলেছে, সে তিন বছরে কুরআন শিখেছে এবং দুই বছরে ওয়াহী শিখেছে; অথবা এর উল্টো বলেছে। বর্ণনাটিতে কথার ভিন্নতা নিজেই সতর্কতার দিক দেখায়। এখানে সরাসরি কোনো নতুন বিধান দেওয়া হয়নি; বরং রাবীর বক্তব্য ও তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। হাদিস গ্রহণে এমন কথার দিকে মুহাদ্দিসগণ লক্ষ্য করতেন—কে কী বলছে, তার কথা স্থির কি না, তার আকীদাহ ও বর্ণনা গ্রহণযোগ্য কি না। এই হাদিস আমাদের শেখায়, ধর্মীয় জ্ঞান নিয়ে বড় দাবি শুনলেই তা গ্রহণ করা যাবে না। সহিহ হাদিস, নির্ভরযোগ্য রাবী এবং যাচাইকৃত উৎস—এসবের উপরই ভরসা করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধর্মীয় জ্ঞান নিয়ে বড় দাবি শুনলে তা যাচাই করা দরকার।
- রাবীর কথায় অস্থিরতা থাকলে সতর্কতা আরও বাড়ে।
- কুরআন ও ওয়াহী নিয়ে বক্তব্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে নেওয়া উচিত।
- হাদিস গ্রহণে রাবীর চরিত্র, আকীদাহ ও বর্ণনার ধরন দেখা হয়।
