০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫১ - ভ্রান্ত আকীদাহ ও হাদিস গ্রহণ
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
ভ্রান্ত আকীদাহ থাকলে হাদিস গ্রহণে সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৫১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫১
حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ قَالَ سَمِعْتُ جَرِيرًا، يَقُولُ لَقِيتُ جَابِرَ بْنَ يَزِيدَ الْجُعْفِيَّ فَلَمْ أَكْتُبْ عَنْهُ كَانَ يُؤْمِنُ بِالرَّجْعَةِ .
জারীর (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি জাবির ইবনু ইয়াযীদ জু‘ফীর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। কিন্তু আমি তার কাছ থেকে কোন হাদীস লিখিনি, কেননা সে রাজ‘আতে বিশ্বাসী ছিল।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় জারীর (রহঃ) বলেন, তিনি জাবির ইবনু ইয়াযীদ জু‘ফীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো হাদিস লেখেননি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জাবির রাজ‘আতে বিশ্বাসী ছিল। এখানে মূল শিক্ষা হলো, হাদিস গ্রহণে রাবীর আকীদাহ ও নির্ভরযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি অনেক কথা জানলেও বা তার সাথে সাক্ষাৎ হলেও, যদি তার বিশ্বাসে গুরুতর সমস্যা থাকে, তাহলে তার বর্ণনা গ্রহণে সতর্ক থাকা দরকার। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, ইসলামী জ্ঞান শুধু তথ্যের বিষয় নয়; উৎসের নিরাপত্তাও জরুরি। হাদিস লিখে রাখা মানে তা ভবিষ্যতে মানুষের কাছে পৌঁছানো। তাই যাদের থেকে বর্ণনা নেওয়া হয়, তাদের ব্যাপারে সতর্কতা দীন রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাবীর আকীদাহতে গুরুতর সমস্যা থাকলে তার বর্ণনা গ্রহণে সতর্কতা দরকার।
- সাক্ষাৎ হওয়া মানেই কারও হাদিস লিখে নেওয়া নয়।
- ইসলামী জ্ঞান গ্রহণে উৎসের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ।
- হাদিস লেখার আগে রাবীর অবস্থা যাচাই করা উচিত।
