০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৪ - অতিরঞ্জিত হাদিস দাবিতে সতর্কতা
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
বড় হাদিস দাবি শুনলে সনদ যাচাইয়ের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৫৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৪
وَحَدَّثَنَا حَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، وَأَخُوهُ، أَنَّهُمَا سَمِعَا الْجَرَّاحَ بْنَ مَلِيحٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ جَابِرًا، يَقُولُ عِنْدِي سَبْعُونَ أَلْفَ حَدِيثٍ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنِ النَّبِيِّ () كُلُّهَا .
জাবির ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ জা‘ফার-এর (ইমাম মুহাম্মাদ বাকির) সূত্রে আমার কাছে নবী (ﷺ)-এর সত্তর হাজার হাদীস মওজুদ আছে। (নাবী (ﷺ) ও ইমাম বাকির মধ্যে বিস্তার সময়ের ব্যবধান হেতু সমুদয় হাদীস মুনকাতি‘ ও জাবিরের ‘আকীদাহ্ খারাপ হওয়াতে রিওয়ায়াতগুলো মিথ্যা বলে প্রতীয়মান)।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় জাবির বলেছে, আবূ জা‘ফার-এর সূত্রে তার কাছে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সত্তর হাজার হাদিস আছে। অনুবাদে ব্যাখ্যা এসেছে যে, নবী (صلى الله عليه وسلم) ও ইমাম বাকিরের মধ্যে সময়ের ব্যবধানের কারণে বর্ণনাগুলো মুনকাতি‘ হিসেবে দেখা হয়েছে, আর জাবিরের আকীদাহ খারাপ হওয়ায় রিওয়ায়াতগুলো মিথ্যা বলে মনে হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বড় সংখ্যা বা বড় দাবি শুনলেই তা সত্য ধরে নেওয়া যাবে না। হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সনদ, সংযোগ, রাবীর অবস্থা এবং বর্ণনার বাস্তবতা দেখতে হয়। কেউ যদি হাজার হাজার হাদিসের দাবি করে, তবুও যাচাই ছাড়া তা গ্রহণযোগ্য হয় না। সহিহ হাদিস জানতে হলে আবেগ নয়, নির্ভরযোগ্য যাচাই দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বড় হাদিস দাবি শুনলেই তা গ্রহণ করা ঠিক নয়।
- সনদে বিচ্ছিন্নতা থাকলে বর্ণনা নিয়ে সতর্কতা দরকার।
- রাবীর আকীদাহ ও নির্ভরযোগ্যতা হাদিস গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ।
- হাদিসের নামে অতিরঞ্জিত দাবি যাচাই করা প্রয়োজন।
