০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৭ - মিথ্যা স্বীকারের পরও সতর্কতা
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
মিথ্যা স্বীকারের পরও বর্ণনা করলে কী সতর্কতা দরকার
সহীহ মুসলিম : ৭৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭৭
وَحَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ، قَالَ قُلْتُ لِأَبِي دَاوُدَ الطَّيَالِسِيِّ قَدْ أَكْثَرْتَ عَنْ عَبَّادِ بْنِ مَنْصُورٍ فَمَا لَكَ لَمْ تَسْمَعْ مِنْهُ حَدِيثَ الْعَطَّارَةِ الَّذِي رَوَى لَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ قَالَ لِي اسْكُتْ فَأَنَا لَقِيتُ زِيَادَ بْنَ مَيْمُونٍ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ فَسَأَلْنَاهُ فَقُلْنَا لَهُ هَذِهِ الْأَحَادِيثُ الَّتِي تَرْوِيهَا عَنْ أَنَسٍ فَقَالَ أَرَأَيْتُمَا رَجُلًا يُذْنِبُ فَيَتُوبُ أَلَيْسَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِ قَالَ قُلْنَا نَعَمْ. قَالَ مَا سَمِعْتُ مِنْ أَنَسٍ مِنْ ذَا قَلِيلًا وَلَا كَثِيرًا إِنْ كَانَ لَا يَعْلَمُ النَّاسُ فَأَنْتُمَا لَا تَعْلَمَانِ أَنِّي لَمْ أَلْقَ أَنَسًا.قَالَ أَبُو دَاوُدَ فَبَلَغَنَا بَعْدُ أَنَّهُ يَرْوِي فَأَتَيْنَاهُ أَنَا وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ فَقَالَ أَتُوبُ. ثُمَّ كَانَ بَعْدُ يُحَدِّثُ . فَتَرَكْنَاهُ.
মাহমূদ ইবনু গাইলান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবূ দাঊদ তায়ালিসীকে বললাম, আপনি তো ‘আব্বাদ ইবনু মানসূর থেকে অনেক হাদীসই বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আপনি কি তার থেকে আত্ তারাহ্ নাম্নী মহিলার হাদীস শুনেননি বা হাদীস শুনেননি যা নায্র ইবনু শুমায়ল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি আমাকে বললেন, চুপ কর। আমি ও ‘আবদুর রহমান ইবনু মাহদী যিয়াদ ইবনু মাইমূনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি যে এসব হাদীস আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করো, তা কতটুকু সহীহ ও সঠিক? যিয়াদ বললো, আপনাদের কী অভিমত, যদি কোন ব্যক্তি গুনাহ করার পর তাওবাহ্ করে, তবে আল্লাহ তা‘আলা কি তার তাওবাহ্ কবুল করবেন না? আবূ দাঊদ বলেন, আমরা বললাম, হ্যাঁ, কবুল করবেন।যিয়াদ বললো, সত্য কথা হচ্ছে, আমি আনাস (রাঃ) থেকে কম বা বেশি কিছু শুনিনি। অন্য লোকেরা যদি অবগত না থাকে, তাহলে আপনারাও কি জানবেন না যে, আমি কখনো আনাস (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিনি। আবূ দাঊদ বলে, এর স্বল্পকাল পরে আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছলো যে, সে পুনরায় আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করে। পুনরায় আমি ও ‘আবদুর রহমান তার নিকট গেলে সে বললো, আমি তাওবাহ্ করলাম। এরপরও দেখা গেল যে, সে আগের মতই হাদীস বর্ণনা করছে। তখন থেকে আমরা তাকে বর্জন করলাম।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ দাউদ তায়ালিসী বলেন, তিনি ও আবদুর রহমান ইবনু মাহদী যিয়াদ ইবনু মাইমূনের কাছে যান এবং আনাস (রাঃ) থেকে তার বর্ণিত হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। যিয়াদ স্বীকার করে যে, সে আনাস (রাঃ) থেকে কম বা বেশি কিছুই শোনেনি এবং তার সাথে সাক্ষাৎও করেনি। পরে খবর আসে, সে আবার আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে হাদিস বর্ণনা করছে। তারা আবার গেলে সে তাওবাহ করার কথা বলে, তবু পরে আগের মতো বর্ণনা চালিয়ে যায়। তখন তারা তাকে বর্জন করেন। এই বর্ণনা শেখায়, শুধু মুখের স্বীকারোক্তি নয়; কাজের পরিবর্তনও জরুরি। হাদিসে মিথ্যা পুনরাবৃত্তি হলে গ্রহণে সতর্কতা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাক্ষাৎ না করেও বর্ণনার দাবি করা বড় ভুল।
- মিথ্যা স্বীকারের পর আবার একই কাজ করলে আস্থা থাকে না।
- হাদিস রক্ষায় কখনো রাবীকে বর্জন করতে হয়।
- তাওবাহর দাবি কাজে প্রমাণ হওয়া দরকার।
