০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮২ - মারওয়ানের ঘটনা ও মন্দ কাজ বদলানো
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
মারওয়ানের ঘটনা: মন্দ কাজ দেখলে দায়িত্ব
সহীহ মুসলিম : ৮২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৮২
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، قَالَ قَالَ لِي أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ اكْتُبْ عَنْ بَقِيَّةَ، مَا رَوَى عَنِ الْمَعْرُوفِينَ، وَلَا تَكْتُبْ عَنْهُ مَا رَوَى عَنْ غَيْرِ الْمَعْرُوفِينَ، وَلَا تَكْتُبْ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ، مَا رَوَى عَنِ الْمَعْرُوفِينَ، وَلَا عَنْ غَيْرِهِمْ،.
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যাকারিয়া ইবনু ‘আদী বলেন, আবূ ইসহাক আল ফাযারী আমাকে বলেছেন, যে, বাকিয়্যাহ্ (নামক রাবী) যে সব হাদীস প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণের কাছ থেকে বর্ণনা করে, শুধু সেগুলো লিখে নাও এবং যে সব হাদীস অখ্যাত ও অপরিচিত লোকদের থেকে বর্ণনা করে তা লিখো না। কিন্তু ইসমা‘ঈল ইবনু ‘আইয়্যাশ-এর কোন হাদীসই গ্রহণ করো না, তা পরিচিত ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তি থেকেই হোক অপরিচিত ও অখ্যাত ব্যক্তিদের থেকেই হোক।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় মারওয়ানের একই ঘটনা উল্লেখ হয়েছে এবং আগের বর্ণনার মতোই মন্দ কাজ দেখলে করণীয় শিক্ষা এসেছে। হাদিসের গুরুত্ব হলো, একটি ভুল বা গর্হিত কাজ দেখা গেলে মুমিন সম্পূর্ণ উদাসীন থাকে না। তবে তার করণীয় সামর্থ্যের সঙ্গে যুক্ত। হাতে পরিবর্তন করার ক্ষমতা থাকলে তা করবে। না থাকলে মুখে বলবে। সেটাও সম্ভব না হলে অন্তরে অপছন্দ করবে। এই ধাপগুলো দায়িত্বকে সহজভাবে সাজিয়ে দেয়। এতে বোঝা যায়, মন্দ প্রতিরোধ মানে সব সময় একই ধরনের পদক্ষেপ নয়; বরং নিজের ক্ষমতা, অবস্থা ও নিরাপত্তা বুঝে সঠিকভাবে এগোনো। হাদিসটি কথা দিয়ে সংশোধন, অন্তরের ঘৃণা এবং ঈমানি সতর্কতার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মন্দ কাজ দেখলে উদাসীন থাকা ঠিক নয়।
- সংশোধনের ধাপ সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারিত।
- মুখে সতর্ক করা ক্ষমতা না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ পথ।
- অন্তরে মন্দকে অপছন্দ করাও ঈমানের অংশ।
