২৮/১৩. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১১৩ - এক তালাক, তিন তালাক ও উম্মে ওয়ালাদ
যে ব্যক্তি এমন মহিলার মালিক হয় পূর্বে যে মহিলা তার স্ত্রী ছিল এবং তাকে তালাক দিয়েছে এ সম্পর্কে হুকুম
দাসী স্ত্রী ক্রয়, তালাক ও উম্মে ওয়ালাদের বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১১৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১১৩
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ رَجُلٍ كَانَتْ تَحْتَهُ أَمَةٌ مَمْلُوكَةٌ فَاشْتَرَاهَا وَقَدْ كَانَ طَلَّقَهَا وَاحِدَةً فَقَالَ تَحِلُّ لَهُ بِمِلْكِ يَمِينِهِ مَا لَمْ يَبُتَّ طَلَاقَهَا فَإِنْ بَتَّ طَلَاقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ بِمِلْكِ يَمِينِهِ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ১৯৭১-قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَنْكِحُ الْأَمَةَ فَتَلِدُ مِنْهُ ثُمَّ يَبْتَاعُهَا إِنَّهَا لَا تَكُونُ أُمَّ وَلَدٍ لَهُ بِذَلِكَ الْوَلَدِ الَّذِي وَلَدَتْ مِنْهُ وَهِيَ لِغَيْرِهِ حَتَّى تَلِدَ مِنْهُ وَهِيَ فِي مِلْكِهِ بَعْدَ ابْتِيَاعِهِ إِيَّاهَا قَالَ مَالِك وَإِنْ اشْتَرَاهَا وَهِيَ حَامِلٌ مِنْهُ ثُمَّ وَضَعَتْ عِنْدَهُ كَانَتْ أُمَّ وَلَدِهِ بِذَلِكَ الْحَمْلِ فِيمَا نُرَى وَاللهُ أَعْلَمُ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু শিহাব যুহরী (রহঃ)-কে প্রশ্ন করলেন এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যার অধীনে (বিবাহ সূত্রে) অন্যের ক্রীতদাসী ছিল, পরে সে উহাকে ক্রয় করেছে। (ক্রয় করার পূর্বে) সে উহাকে এক তালাক দিয়েছিল। (এখন তার জন্য উক্ত স্ত্রীলোকটি হালাল হবে কি?) ইবনু শিহাব (রহঃ) বললেন : (মিলকে ইয়ামীন) ক্রয়ের মাধ্যমে দাসদাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার দ্বারা সেই দাসী উক্ত ব্যক্তির জন্য হালাল হবে তিন তালাক না দেওয়া পর্যন্ত। আর যদি দিয়ে থাকে তবে তার জন্য উক্ত দাসী মিলকে ইয়ামীনের দ্বারা হালাল হবে না, যাবৎ সে স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে।(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন : যে ব্যক্তি (অন্যের) ক্রীতদাসীকে বিবাহ করে এবং তার সন্তান জন্মে। অতঃপর সেই দাসীকে সে ক্রয় করে। সন্তান হওয়ার দরুন এই ক্রীতদাসী তার উম্মে ওয়ালাদ [১] হবে না। কারণ সে অন্যের ক্রীতদাসী। তবে উহাকে ক্রয় করার পর তার (এই) মালিকের স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সেই ক্রীতদাসী সন্তান জন্ম দিলে উম্মে ওয়ালাদ হবে।মালিক (রহঃ) বলেন : যদি উক্ত ক্রীতদাসকে ক্রয় করে এবং সেই দাসী তার দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হয়। অতঃপর তারই স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সে সন্তান জন্ম দেয় তবে আমাদের মতে গর্ভ ধারণের কারণে এই দাসী উম্মে ওয়ালাদ বলে গণ্য হবে। আল্লাহই ভাল জানেন।
[১] উম্মে ওয়ালাদ: যেই ক্রীতদাসী তার মালিকের ঔরসে সন্তান জন্ম দিয়েছে সেই ক্রীতদাসীকে উম্মে ওয়ালাদ বলা হয়।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইমাম মালিক (র) ইবনু শিহাব যুহরী (র)-কে এমন এক ব্যক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করেন, যার অধীনে বিবাহসূত্রে অন্যের দাসী ছিল, পরে সে তাকে ক্রয় করেছে। ক্রয়ের আগে সে তাকে এক তালাক দিয়েছিল। ইবনু শিহাব (র) বলেন, তিন তালাক না দেওয়া পর্যন্ত মালিকানার মাধ্যমে সে দাসী তার জন্য হালাল হবে। আর যদি তিন তালাক দিয়ে থাকে, তবে অন্য স্বামী গ্রহণ না করা পর্যন্ত মিলকে ইয়ামীনের দ্বারা হালাল হবে না। এরপর ইমাম মালিক (র) উম্মে ওয়ালাদ নিয়ে বলেন, দাসী অন্যের মালিকানায় থাকা অবস্থায় সন্তান জন্ম দিলে সে ক্রেতার জন্য সেই সন্তানের কারণে উম্মে ওয়ালাদ হবে না। তবে ক্রয় করার পর তার মালিকানায় সন্তান জন্মালে উম্মে ওয়ালাদ হবে। এখানে ‘এক তালাক’, ‘তিন তালাক’, ‘মিলকে ইয়ামীন’ এবং ‘উম্মে ওয়ালাদ’—সব বিষয় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এক তালাক ও তিন তালাকের বিধান এক নয়।
- তিন তালাক হলে মালিকানার মাধ্যমে হালাল হওয়ার কথা বলা হয়নি।
- উম্মে ওয়ালাদ হওয়ার ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের সময় মালিকানা বিবেচিত হয়েছে।
- তালাক, ক্রয় ও সন্তান—প্রতিটি বিষয়ের আলাদা ফিকহি প্রভাব আছে।
