২৯/১০. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৬৫ - আযাদীর পর নারীর সিদ্ধান্তের অধিকার

আযাদীর ইখতিয়ার অর্থাৎ স্ত্রী কর্তৃক তালাকের অধিকার প্রাপ্তির পর নিজের অধিকার প্রয়োগ সম্পর্কিত

আযাদীর পর ইখতিয়ার: হাফসা রা.-এর সতর্ক নির্দেশনা

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৬৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ مَوْلَاةً لِبَنِي عَدِيٍّ يُقَالُ لَهَا زَبْرَاءُ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ عَبْدٍ وَهِيَ أَمَةٌ يَوْمَئِذٍ فَعَتَقَتْ قَالَتْ فَأَرْسَلَتْ إِلَيَّ حَفْصَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَعَتْنِي فَقَالَتْ إِنِّي مُخْبِرَتُكِ خَبَرًا وَلَا أُحِبُّ أَنْ تَصْنَعِي شَيْئًا إِنَّ أَمْرَكِ بِيَدِكِ مَا لَمْ يَمْسَسْكِ زَوْجُكِ فَإِنْ مَسَّكِ فَلَيْسَ لَكِ مِنْ الْأَمْرِ شَيْءٌ قَالَتْ فَقُلْتُ هُوَ الطَّلَاقُ ثُمَّ الطَّلَاقُ ثُمَّ الطَّلَاقُ فَفَارَقَتْهُ ثَلَاثًا.

‘উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

বনী আদী কর্তৃক আযাদীপ্রাপ্ত জনৈক ক্রীতদাসী যার নাম যাবরা’ ছিল, সে উরওয়া ইবনু যুবায়রের নিকট ব্যক্ত করেছে যে, সে জনৈক ক্রীতদাসের স্ত্রী ছিল তখন সে (নিজেও) ক্রীতদাসী ছিল। পরে তাকে মুক্তি প্রদান করা হয়। সে বলল : অতঃপর নবীপত্নী হাফসা (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন : আমি তোমাকে একটি সংবাদ বলব, তুমি তাড়াতাড়ি কোন সিদ্ধান্ত নিবে তা আমি পছন্দ করি না। তোমার স্বামী তোমার সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত তোমার অধিকার তোমারই উপর ন্যস্ত থাকবে। তবে তোমার স্বামী তোমার সাথে মিলিত হলে তোমার কোন অধিকার থাকবে না। সে বলল, এর উত্তরে আমি বললাম, আমি তাকে তালাক দিলাম, পুনরায় তালাক, পুনরায় তালাক, তাকে তিন তালাক দিয়ে পরিত্যাগ করল।

(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৬৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে যাবরা’ নামের এক আযাদীপ্রাপ্ত নারীর ঘটনা এসেছে। তিনি আগে ক্রীতদাসী ছিলেন এবং এক ক্রীতদাসের স্ত্রী ছিলেন। পরে তিনি আযাদ হন। নবীপত্নী হাফসা (রা) তাকে ডেকে বলেন, তিনি একটি সংবাদ জানাবেন, তবে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেওয়া তিনি পছন্দ করেন না। তিনি জানান, স্বামী তার সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত তার অধিকার তার নিজের হাতে থাকবে; কিন্তু স্বামী মিলিত হলে আর সে অধিকার থাকবে না। যাবরা’ তখন স্বামীকে তিন তালাক দিয়ে পৃথক হয়ে যান। এই হাদিস আযাদীর পর নারীর ইখতিয়ার, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এবং তাড়াহুড়া না করার শিক্ষা দেয়। তবে এতে যা বলা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট ঘটনার সীমার মধ্যেই বোঝা দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আযাদীর পর স্বামী মিলিত হওয়ার আগে নারীর ইখতিয়ার থাকার কথা এসেছে।
  • গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া না করার পরামর্শ হাফসা (রা) দিয়েছেন।
  • স্বামী মিলিত হলে এই ইখতিয়ার শেষ হয়ে যায়—এ কথা বর্ণনায় স্পষ্ট।
  • দাম্পত্য বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গুরুতর, তাই বুঝে নেওয়া জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন