২৯/১৭. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৮৩ - তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর মুত‘আ
তালাক প্রাপ্তাকে মুত‘আ [১] প্রদানের বর্ণনা
[১] সদ্ব্যবহারের নিদর্শনস্বরূপ তালাকের পর স্ত্রীকে এক জোড়া কাপড় বা অন্য কিছু প্রদান করাকে মুত‘আ বলা হয়। সকল প্রকার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে নফল (বাধ্যতামূলক নয়) স্বরূপ মুত‘আ প্রদান করা যায়। কিন্তু যে স্ত্রীর মহর ধার্য করা হয় নি এবং সঙ্গমের পূর্বে তাকে তালাক দেয়া হয়েছে সেই স্ত্রীকে মুত‘আ প্রদান করা ওয়াজিব।
তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর মুত‘আ: সম্মানজনক বিদায়ের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৮৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৮৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ فَمَتَّعَ بِوَلِيدَةٍ.و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لِكُلِّ مُطَلَّقَةٍ مُتْعَةٌ إِلَّا الَّتِي تُطَلَّقُ وَقَدْ فُرِضَ لَهَا صَدَاقٌ وَلَمْ تُمْسَسْ فَحَسْبُهَا نِصْفُ مَا فُرِضَ لَهَا
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ তাঁর এক স্ত্রীকে তালাক দিলেন এবং এক ক্রীতদাসী তাকে মুত’আ স্বরূপ দান করলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবনু উমর (রাঃ) বলতেন, প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী মুত’আ পাবে। তবে যে স্ত্রীর মহর ধার্য করা হয়েছে এবং তাকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দেয়া হয়েছে, সে ধার্যকৃত মহরের অর্ধেক মাত্র পাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর মুত‘আ। বর্ণনায় এসেছে, আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রা) তার এক স্ত্রীকে তালাক দেন এবং মুত‘আ হিসেবে একটি ক্রীতদাসী দেন। এরপর আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা)-এর কথা এসেছে। তিনি বলতেন, প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী মুত‘আ পাবে। তবে একটি বিশেষ অবস্থা আলাদা করা হয়েছে। যদি কোনো স্ত্রীর মহর আগে থেকেই নির্ধারণ করা থাকে এবং তাকে স্পর্শ করার আগে তালাক দেওয়া হয়, তাহলে তার জন্য ধার্য মহরের অর্ধেকই যথেষ্ট। এই বর্ণনা তালাকের পর নারীর আর্থিক সম্মান ও অধিকারকে সামনে আনে। এখানে মুত‘আকে বড় দাবি করে দেখানো হয়নি; বরং তালাকের পর ভদ্রতা, দায়িত্ব এবং নির্ধারিত হকের কথা বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালাকের পর স্ত্রীর প্রতি ভালো আচরণ ও আর্থিক দায়িত্বের শিক্ষা আছে।
- প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর জন্য মুত‘আর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
- মহর নির্ধারিত থাকলে এবং স্পর্শের আগে তালাক হলে অর্ধেক মহরের কথা এসেছে।
- তালাক হলেও অধিকার ও সম্মান রক্ষা করা জরুরি।
