২৯/২০. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৯০ - নিরুদ্দেশ স্বামীর স্ত্রীর ইদ্দত
যে স্ত্রীর স্বামী নিরুদ্দেশ তার ইদ্দত
নিরুদ্দেশ স্বামীর স্ত্রীর ইদ্দত: অপেক্ষা ও নতুন বিবাহের বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৯০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৯০
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ: أَيُّمَا امْرَأَةٍ فَقَدَتْ زَوْجَهَا فَلَمْ تَدْرِ أَيْنَ هُوَ فَإِنَّهَا تَنْتَظِرُ أَرْبَعَ سِنِينَ ثُمَّ تَعْتَدُّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ثُمَّ تَحِلُّ২১৩৫-قَالَ مَالِك وَإِنْ تَزَوَّجَتْ بَعْدَ انْقِضَاءِ عِدَّتِهَا فَدَخَلَ بِهَا زَوْجُهَا أَوْ لَمْ يَدْخُلْ بِهَا فَلَا سَبِيلَ لِزَوْجِهَا الْأَوَّلِ إِلَيْهَاقَالَ مَالِك وَذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا وَإِنْ أَدْرَكَهَا زَوْجُهَا قَبْلَ أَنْ تَتَزَوَّجَ فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا২১৩৬-قَالَ مَالِك وَأَدْرَكْتُ النَّاسَ يُنْكِرُونَ الَّذِي قَالَ بَعْضُ النَّاسِ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ يُخَيَّرُ زَوْجُهَا الْأَوَّلُ إِذَا جَاءَ فِي صَدَاقِهَا أَوْ فِي امْرَأَتِهِ قَالَ مَالِك وَبَلَغَنِي أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ فِي الْمَرْأَةِ يُطَلِّقُهَا زَوْجُهَا وَهُوَ غَائِبٌ عَنْهَا ثُمَّ يُرَاجِعُهَا فَلَا يَبْلُغُهَا رَجْعَتُهُ وَقَدْ بَلَغَهَا طَلَاقُهُ إِيَّاهَا فَتَزَوَّجَتْ أَنَّهُ إِنْ دَخَلَ بِهَا زَوْجُهَا الْآخَرُ أَوْ لَمْ يَدْخُلْ بِهَا فَلَا سَبِيلَ لِزَوْجِهَا الْأَوَّلِ الَّذِي كَانَ طَلَّقَهَا إِلَيْهَا قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي هَذَا وَفِي الْمَفْقُودِ.
সা’ঈদ ইবনু মুসায়্যিব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, যেই স্ত্রীর স্বামী নিরুদ্দেশ জানে না সে কোথায়, সে স্ত্রী চার বৎসর অপেক্ষা করবে। অতঃপর চারমাস দশদিন ইদ্দত পালন করবে। তারপর অন্যত্র তার বিবাহ হালাল হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন : ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর সে যদি বিবাহ করে তবে স্বামী তার সাথে সংগম করুক বা না করুক তার পূর্ববর্তী স্বামীর জন্য তাকে গ্রহণ করার কোন পথ নেই। মালিক (রহঃ) বলেন : এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। আর বিবাহের পূর্বে তার সাথে প্রথম স্বামীর সাক্ষাত হলে তবে তিনিই অধিক হকদার হবেন।মালিক (রহঃ) বলেন : কিছু লোক বলে থাকে যে, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন : প্রথম স্বামী এলে তাকে ইখতিয়ার দেয়া হবে (দ্বিতীয় স্বামী হতে) মহর ফেরত লওয়া অথবা (মহর ফেরত না লইয়া) স্ত্রী ফেরত লওয়া। মালিক (রহঃ) বলেন : উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এই ধরনের ইখতিয়ার দিয়েছেন বলে কিছু লোককে অস্বীকার করতে পেয়েছি।মালিক (রহঃ) বলেন : আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, স্বামী স্ত্রীর নিকট উপস্থিত নেই, এমন স্ত্রীকে স্বামী তালাক দিয়েছে। অতঃপর স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করতে চেয়েছে। কিন্তু সে যে রুজূ’ করতে চেয়েছে এই খবর তার স্ত্রীর নিকট পৌঁছেনি। শুধু তাকে তালাক দেওয়ার সংবাদই সে পেয়েছে। তাই সে স্বামী গ্রহণ করেছে। দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে সংগত হোক না হোক প্রথম স্বামী যে তাকে তালাক দিয়েছিল তার পক্ষে স্ত্রীকে পাওয়ার আর কোন পথ নেই। মালিক (রহঃ) বলেন : এই বিষয়ে এবং নিরুদ্দেশের বিষয়ে আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এটা আমার কাছে পছন্দনীয়।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় নিরুদ্দেশ স্বামীর স্ত্রীর ইদ্দত। উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বলেন, যে নারীর স্বামী নিখোঁজ এবং সে জানে না স্বামী কোথায়, সে চার বছর অপেক্ষা করবে। এরপর চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করবে। তারপর তার জন্য অন্যত্র বিবাহ হালাল হবে। ইমাম মালিক (র) আরও বলেন, ইদ্দত শেষ হওয়ার পর সে যদি বিবাহ করে, দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করুক বা না করুক, প্রথম স্বামীর জন্য আর তাকে নেওয়ার পথ নেই। তবে নতুন বিবাহের আগে যদি প্রথম স্বামী ফিরে আসে, তবে তিনিই অধিক হকদার। একই বর্ণনায় অনুপস্থিত স্বামীর তালাক ও রুজূর খবর স্ত্রীর কাছে না পৌঁছানোর বিষয়ও এসেছে। এতে বোঝা যায়, অনিশ্চিত অবস্থায় নারীর জীবন ঝুলিয়ে রাখা হয়নি; বরং অপেক্ষা, ইদ্দত ও সিদ্ধান্তের ধাপ রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামী নিখোঁজ হলে চার বছর অপেক্ষার কথা বলা হয়েছে।
- এরপর চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করার কথা এসেছে।
- ইদ্দত শেষে নতুন বিবাহ হলে প্রথম স্বামীর ফিরে আসার অধিকার সীমিত বলা হয়েছে।
- তালাক ও রুজূর খবর পৌঁছানো পারিবারিক ফয়সালায় গুরুত্বপূর্ণ।
