৩১/২. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৬৬ - দাস বিক্রয়ে সম্পদের শর্ত
দাসের মাল প্রসঙ্গে যখন উহাকে বিক্রয় করা হয়
দাস বিক্রয়ের বিধান: সম্পদ কার হবে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৬৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২৬৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ مَنْ بَاعَ عَبْدًا وَلَهُ مَالٌ فَمَالُهُ لِلْبَائِعِ إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَهُ الْمُبْتَاعُ، ২২৬৫-قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنَّ الْمُبْتَاعَ إِنْ اشْتَرَطَ مَالَ الْعَبْدِ فَهُوَ لَهُ نَقْدًا كَانَ أَوْ دَيْنًا أَوْ عَرْضًا يُعْلَمُ أَوْ لَا يُعْلَمُ وَإِنْ كَانَ لِلْعَبْدِ مِنْ الْمَالِ أَكْثَرُ مِمَّا اشْتَرَى بِهِ كَانَ ثَمَنُهُ نَقْدًا أَوْ دَيْنًا أَوْ عَرْضًا وَذَلِكَ أَنَّ مَالَ الْعَبْدِ لَيْسَ عَلَى سَيِّدِهِ فِيهِ زَكَاةٌ وَإِنْ كَانَتْ لِلْعَبْدِ جَارِيَةٌ اسْتَحَلَّ فَرْجَهَا بِمِلْكِهِ إِيَّاهَا وَإِنْ عَتَقَ الْعَبْدُ أَوْ كَاتَبَ تَبِعَهُ مَالُهُ وَإِنْ أَفْلَسَ أَخَذَ الْغُرَمَاءُ مَالَهُ وَلَمْ يُتَّبَعْ سَيِّدُهُ بِشَيْءٍ مِنْ دَيْنِهِ.
আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দাসকে বিক্রয় করেছে, আর দাসের রয়েছে সম্পদ, তবে তার সম্পদ বিক্রেতার জন্য হবে। কিন্তু যদি ক্রেতা উহা শর্ত করে থাকে [তবে স্বতন্ত্র কথা-মাল ক্রেতা পাবে।] (বুখারী ২৩৭৯, মুসলিম ১৫৪৩) মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এই, ক্রেতা যদি গোলামের মালের (নিজের জন্য) শর্ত করে থাকে তবে মাল তার হবে, মাল নগদ অর্থ হোক বা ঋণ হোক কিংবা সামগ্রী হোক, জ্ঞাত হোক বা অজ্ঞাত, যদি তাকে যে মূল্যে খরিদ করেছে উহার চাইতে বেশি মালও হয়, তার মূল্য নগদ আদায় করা হোক বা ধারে বিক্রয় অথবা আসবাবপত্রের বিনিময়ে। [সর্বাবস্থায় একই প্রকার হুকুম অর্থাৎ শর্ত করলে মাল ক্রেতা পাবে]।এটা এজন্য যে, দাসের মালের জন্য কর্তার উপর যাকাত ওয়াজিব হয় না। আর যদি গোলামের কোন ক্রীতদাসী থাকে যার সাথে সঙ্গম করেছে, উহার মালিক হওয়ার দরুন। আর যদি দাস কর্তৃক কোন গোলাম আযাদ করা হয়ে থাকে অথবা কোন গোলামকে মুকাতব করা হয়ে থাকে তবে উহার মাল তার জন্য থাকবে। আর যদি গোলাম কাঙ্গাল গরীব হয়ে যায় তবে ঋণদাতাগণ তার মাল কব্জা করবে, তার ঋণের জন্য কর্তাকে দায়ী করবে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দাস বিক্রয়ের সময় তার সম্পদের মালিকানা নিয়ে একটি স্পষ্ট নিয়ম এসেছে। উমার ইবন খাত্তাব (রা) বলেন, যে ব্যক্তি দাস বিক্রি করে আর দাসের সম্পদ থাকে, সেই সম্পদ বিক্রেতার হবে; তবে ক্রেতা যদি শর্ত করে, তাহলে আলাদা কথা। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ক্রেতা যদি দাসের মাল নিজের জন্য শর্ত করে, তাহলে তা তার হবে—মাল নগদ হোক, ঋণ হোক, সামগ্রী হোক, জানা হোক বা অজানা। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, দাসের সম্পদের কারণে কর্তার উপর যাকাত নেই এবং দাস ঋণে পড়লে ঋণদাতারা তার মাল নিতে পারে, কর্তার উপর ঋণের দায় চাপবে না। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বিক্রয়ের শর্ত স্পষ্ট হলে অধিকারও স্পষ্ট হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাস বিক্রয়ে সম্পদের অধিকার শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।
- কেনাবেচায় শর্ত আগে থেকেই পরিষ্কার করা জরুরি।
- ঋণ ও সম্পদের দায় আলাদা করে বোঝা দরকার।
