৩৬/২৩. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪২১ - পতিত জমি আবাদ ও ন্যায্য মালিকানা
পতিত জমিকে আবাদ করার ফয়সালা
পতিত জমি আবাদ করার হাদিস: ন্যায্য মালিকানা ও জালিমের দখল
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪২১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪২১
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ وَلَيْسَ لِعِرْقٍ ظَالِمٍ حَقٌّ قَالَ مَالِك وَالْعِرْقُ الظَّالِمُ كُلُّ مَا احْتُفِرَ أَوْ أُخِذَ أَوْ غُرِسَ بِغَيْرِ حَقٍّ.
‘উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যদি কেউ কোন পতিত জমি আবাদ করে তবে উহা তারই হবে। উহাতে কোন জালিমের অধিকার নেই। (সহীহ, আবূ দাঊদ ৩০৭৩, তিরমিযী ১৩৭৮, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [সহীহ আল জামে] ৫৯৭৬, ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল) মালিক (রহঃ) বলেন যে, জালিমের দখল বলতে বোঝায় যে, জবরদস্তি কোন জমিতে গর্ত খনন, কিংবা গাছ লাগান, অথবা অন্য উপায়ে কব্জা করা। অথচ তাতে তার কোন হক (অধিকার) নেই।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পতিত জমি আবাদ করার বিধান খুব সহজভাবে এসেছে। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মৃত বা পতিত জমি আবাদ করে, তা তার হবে। অর্থাৎ জমি পড়ে আছে, কেউ তা কাজে লাগাচ্ছে না, এমন জমি বৈধভাবে আবাদ করলে তার মালিকানা স্বীকৃত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, জালিমের দখলের কোনো অধিকার নেই। মালিক (র) ব্যাখ্যা করেছেন, অন্যায়ভাবে জমিতে গর্ত করা, গাছ লাগানো বা জোর করে দখল করা এর মধ্যে পড়ে। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, জমি আবাদ করা ভালো কাজ, কিন্তু তা হতে হবে অন্যের হক নষ্ট না করে। ইসলাম জমি উন্নয়নকে মূল্য দেয়, তবে জবরদখলকে স্বীকৃতি দেয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পতিত জমি আবাদ করা বৈধ মালিকানার কারণ হতে পারে।
- অন্যের হক নষ্ট করে জমি দখল করা জুলুম।
- জমিতে গাছ লাগানো বা কাজ করলেই মালিকানা প্রমাণ হয় না, যদি তা অন্যায়ভাবে হয়।
- ইসলাম আবাদ ও উন্নয়নকে উৎসাহ দেয়, কিন্তু জবরদখলকে মানে না।
