৩৭/৮. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৫৭ - কর্জের দুশ্চিন্তা ও সতর্কতা
প্রশাসন ও বিচার সম্পর্কীয় বিবিধ আহকাম এবং বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণকে অপছন্দ করা
কর্জ নেওয়ার আগে সতর্কতা: দুশ্চিন্তা ও বিবাদের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪৫৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৫৭
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ دَلَافٍ الْمُزَنِيِّ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَجُلًا مِنْ جُهَيْنَةَ كَانَ يَسْبِقُ الْحَاجَّ فَيَشْتَرِي الرَّوَاحِلَ فَيُغْلِي بِهَا ثُمَّ يُسْرِعُ السَّيْرَ فَيَسْبِقُ الْحَاجَّ فَأَفْلَسَ فَرُفِعَ أَمْرُهُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ أَمَّا بَعْدُ أَيُّهَا النَّاسُ فَإِنَّ الْأُسَيْفِعَ أُسَيْفِعَ جُهَيْنَةَ رَضِيَ مِنْ دِينِهِ وَأَمَانَتِهِ بِأَنْ يُقَالَ سَبَقَ الْحَاجَّ أَلَا وَإِنَّهُ قَدْ دَانَ مُعْرِضًا فَأَصْبَحَ قَدْ رِينَ بِهِ فَمَنْ كَانَ لَهُ عَلَيْهِ دَيْنٌ فَلْيَأْتِنَا بِالْغَدَاةِ نَقْسِمُ مَالَهُ بَيْنَهُمْ وَإِيَّاكُمْ وَالدَّيْنَ فَإِنَّ أَوَّلَهُ هَمٌّ وَآخِرَهُ حَرْبٌ.
উমার ইব্নু আবদির রহমান ইব্নু দালাফ মুযানী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
জুহাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি (উসাইফা) সকল হাজীর পূর্বে যেয়ে ভাল ভাল উট উচ্চমূল্যে খরিদ করে নিতে এবং তাড়াতাড়ি মক্কা শরীফ যেয়ে পৌঁছাত। এক সময় সে গরীব হয়ে পড়ল। পাওনাদারগণ স্বীয় টাকা আদায়ের জন্য উমর (রাঃ) ইব্নু খাত্তাবের নিকট বিচার প্রার্থী হল।উমর (রাঃ) হামদ ও সালাত পাঠ করার পর সকলকে সম্বোধন করে বললেন! উসাইফা “জুহাইনা গোত্রের উসাইফা” টাকা কর্জ করেছিল এবং আমানত হস্তক্ষেপ করেছিল। কারণ লোকেরা বলে থাকে যে, উসাইফা সকলের পূর্বে মক্কা শরীফ পৌঁছে যায়। তোমরা জেনে রাখ, সে কর্জ করে তা আদায় করার মনোবৃত্তি রাখেনি। বর্তমানে সে দরিদ্র হয়ে পড়েছে, অথচ কর্জ তার সমুদয় মাল গ্রাস করে ফেলেছে। পাওনাদারগণ আগামীকাল সকালে আমার কাছে উপস্থিত হবে। আমি তার সকল মাল পাওনাদারকে বণ্টন করে দিব। তোমরা কর্জ নিতে হুঁশিয়ার থেক। কেননা, কর্জের প্রারম্ভ হচ্ছে দুশ্চিন্তা, পরিশেষ হচ্ছে কলহ-বিবাদ।
(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় জুহাইনা গোত্রের উসাইফা নামে এক ব্যক্তির কথা এসেছে। সে হাজীদের আগে গিয়ে ভালো উট বেশি দামে কিনত এবং দ্রুত মক্কায় পৌঁছাত। মানুষের মধ্যে তার এ পরিচিতি ছিল। কিন্তু সে কর্জ নিয়েছিল এবং তা আদায় করার মনোভাব রাখেনি—এমন কথা উমার (রা) উল্লেখ করেন। পরে সে দরিদ্র হয়ে পড়ে এবং কর্জ তার সম্পদ গ্রাস করে ফেলে। পাওনাদাররা উমার (রা)-এর কাছে গেলে তিনি তার সম্পদ পাওনাদারদের মধ্যে বণ্টনের ঘোষণা দেন। শেষে তিনি মানুষকে কর্জ থেকে সাবধান করেন এবং বলেন, কর্জের শুরু দুশ্চিন্তা, শেষ কলহ-বিবাদ। এই বর্ণনা কর্জের ভয় দেখানোর জন্য নয়; বরং দায়িত্বহীন ঋণ, বাহাদুরি দেখানো এবং পরিশোধের ইচ্ছা ছাড়া ধার নেওয়ার বিপদ বুঝিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিশোধের ইচ্ছা ছাড়া কর্জ নেওয়া বড় ঝুঁকির বিষয়।
- কর্জ মানুষের সম্পদ ও মানসিক শান্তি নষ্ট করতে পারে।
- পাওনাদারের অধিকার রক্ষা করা জরুরি।
- খ্যাতি বা দ্রুত লাভের জন্য ঋণে জড়ানো সতর্কতার বিষয়।
