৩৮/১২. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৮১ - আযাদকৃত ক্রীতদাসের ওয়ালা ও উত্তরাধিকার

মিত্রতার কারণে মীরাস লাভ করা

আযাদকৃত ক্রীতদাসের ওয়ালা: মীরাসের হক কার?

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪৮১

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَبُوهُ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا عِنْدَ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ فَاخْتَصَمَ إِلَيْهِ نَفَرٌ مِنْ جُهَيْنَةَ وَنَفَرٌ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ وَكَانَتْ امْرَأَةٌ مِنْ جُهَيْنَةَ عِنْدَ رَجُلٍ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ يُقَالُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ كُلَيْبٍ فَمَاتَتْ الْمَرْأَةُ وَتَرَكَتْ مَالًا وَمَوَالِيَ فَوَرِثَهَا ابْنُهَا وَزَوْجُهَا ثُمَّ مَاتَ ابْنُهَا فَقَالَ وَرَثَتُهُ لَنَا وَلَاءُ الْمَوَالِي قَدْ كَانَ ابْنُهَا أَحْرَزَهُ فَقَالَ الْجُهَنِيُّونَ لَيْسَ كَذَلِكَ إِنَّمَا هُمْ مَوَالِي صَاحِبَتِنَا فَإِذَا مَاتَ وَلَدُهَا فَلَنَا وَلَاؤُهُمْ وَنَحْنُ نَرِثُهُمْ فَقَضَى أَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ لِلْجُهَنِيِّينَ بِوَلَاءِ الْمَوَالِي.

আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবী বাকর ইব্নু হাযম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

তার পিতা তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবান ইব্নু উসমান (রহঃ) [১]-এর নিকট বসা ছিলেন (এমন সময়) জুহাইনা (গোত্রের) কিছু লোক এবং বনী হারিস ইব্নু খাযরাজ (গোত্রের) কিছু লোক বিবাদ নিয়ে তাঁর কাছে এল। আর জুহাইনা গোত্রের জনৈকা নারী বনী হারিস ইব্নু খাযরাজ-এর এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিল, তাকে বলা হত ইবরাহীম ইব্নু কুলাইব। (তার) স্ত্রী মারা যায় এবং রেখে যায় ধন-সম্পদ ও আযাদ করা ক্রীতদাস উহার মীরাস পেল তার স্বামী ও পুত্র।অতঃপর স্ত্রীলোকটির পুত্রটি মারা গেল। তখন স্বামীটি বলল, মাওয়ালীগণের স্বত্বাধিকার আমার প্রাপ্য। কারণ তার পুত্র (উত্তরাধিকারসূত্রে) উহার মালিক হয়েছে। জুহাইনীয়া গোত্রের লোকেরা বলল, এইরূপ নয়। উহারা (আযাদী প্রাপ্ত ক্রীতদাসগণ) হচ্ছে আমাদের (গোত্রের) স্ত্রীলোকের ক্রীতদাস। [যাদেরকে এই স্ত্রীলোক আযাদ করেছে।] তার পুত্র যখন মারা গেল তবে এই মাওয়ালীগণের স্বত্বাধিকার আমরাই পাব। আমরা উহাদের মীরাস লাভ করব। সব শুনে আবান ইব্নু উসমান (রহঃ) মাওয়ালীগণের অভিভাবকত্ব প্রদান করলেন জুহাইনীয়দের জন্য।(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

[১] আবান ইবনু ‘উসমান (রহঃ) তখন মদীনার শাসনকর্তা ছিলেন। -আওজাযুল মাসালিক

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪৮১-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় আযাদ করা ক্রীতদাসদের ওয়ালা বা অভিভাবকত্ব নিয়ে একটি বাস্তব বিবাদের কথা এসেছে। জুহাইনা গোত্রের এক নারী মারা যান। তিনি সম্পদ ও আযাদকৃত ক্রীতদাস রেখে যান। প্রথমে তার স্বামী ও পুত্র মীরাস পায়। পরে পুত্রও মারা গেলে স্বামী দাবি করে যে মাওয়ালীদের ওয়ালা তার প্রাপ্য, কারণ পুত্র আগে তা পেয়েছিল। কিন্তু জুহাইনা গোত্র বলে, ক্রীতদাসগুলো তাদের গোত্রের নারীর আযাদকৃত; তাই তার পুত্র মারা গেলে ওয়ালা তাদের দিকে ফিরে আসবে। আবান ইবনু উসমান পুরো কথা শুনে জুহাইনীয়দের পক্ষে রায় দেন। মূল শিক্ষা হলো, ওয়ালা ও মাওয়ালীর উত্তরাধিকার সাধারণ সম্পদের মতো সরল নয়; এখানে আযাদকারী পক্ষের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আযাদকৃত ক্রীতদাসের ওয়ালা নিয়ে বিবাদ হলে বিচারকের কাছে বিষয়টি পেশ করা উচিত।
  • ওয়ালা নির্ধারণে আযাদকারী ব্যক্তির সম্পর্ক ও গোত্রীয় দিক বিবেচনায় আসে।
  • মীরাসের দাবি শুধু কথার ভিত্তিতে নয়; প্রমাণ ও শরয়ি নিয়মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
  • বিচারক উভয় পক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্ত দেন—এটি ন্যায়বিচারের একটি দিক।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন