১১/১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪২৮ - প্রচণ্ড ভয়ে নামাজের সহজতা
সালাতুল-খাওফ বা ভয়কালীন নামায
প্রচণ্ড ভয়ের সময় নামাজ: দাঁড়িয়ে, চলতে চলতে বা সওয়ারীতে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪২৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪২৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا سُئِلَ عَنْ صَلَاةِ الْخَوْفِ قَالَ يَتَقَدَّمُ الْإِمَامُ وَطَائِفَةٌ مِنْ النَّاسِ فَيُصَلِّي بِهِمْ الْإِمَامُ رَكْعَةً وَتَكُونُ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْعَدُوِّ لَمْ يُصَلُّوا فَإِذَا صَلَّى الَّذِينَ مَعَهُ رَكْعَةً اسْتَأْخَرُوا مَكَانَ الَّذِينَ لَمْ يُصَلُّوا وَلَا يُسَلِّمُونَ وَيَتَقَدَّمُ الَّذِينَ لَمْ يُصَلُّوا فَيُصَلُّونَ مَعَهُ رَكْعَةً ثُمَّ يَنْصَرِفُ الْإِمَامُ وَقَدْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَتَقُومُ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْ الطَّائِفَتَيْنِ فَيُصَلُّونَ لِأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً رَكْعَةً بَعْدَ أَنْ يَنْصَرِفَ الْإِمَامُ فَيَكُونُ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْ الطَّائِفَتَيْنِ قَدْ صَلَّوْا رَكْعَتَيْنِ فَإِنْ كَانَ خَوْفًا هُوَ أَشَدَّ مِنْ ذَلِكَ صَلَّوْا رِجَالًا قِيَامًا عَلَى أَقْدَامِهِمْ أَوْ رُكْبَانًا مُسْتَقْبِلِي الْقِبْلَةِ أَوْ غَيْرَ مُسْتَقْبِلِيهَاقَالَ مَالِك قَالَ نَافِعٌ لَا أَرَى عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ حَدَّثَهُ إِلَّا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমর (রাঃ)-কে সালাতুল খাওফ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেনঃ ইমাম অগ্রসর হবেন (স্বীয় স্থানে), তাঁর সাথে থাকবে লোকের একাংশ। তিনি তাদের এক রাক’আত আদায় করাবেন। আর একদল লোক নিয়োজিত হবে ইমাম ও শত্রুদের মাঝখানে এবং সে দল তখন নামায আদায় করবে না। যখন ইমাম তাঁর সাথে যে দল আছে সে দলকে এক রাক’আত আদায় করাবেন, তখন তারা পেছনে সরে যে দল নামায আদায় করেনি, সে দলের স্থানে চলে যাবে, তারা সালাম ফিরাইবে না।অতঃপর যারা নামায আদায় করেনি তারা এগিয়ে আসবে। ইমাম তাদের সাথে এক রাক’আত আদায় করবেন। তৎপর ইমাম দু রাক’আত পূর্ণ পড়িয়াছেন বিধায় তিনি প্রত্যাবর্তন করবেন। অতঃপর উভয় দলের প্রত্যেকে দাঁড়িয়ে এক রাক’আত আদায় করবে ইমামের প্রত্যাবর্তন করার পর। এইভাবে উভয় দলের প্রত্যেকের দুই দুই রাক’আত পড়া হবে। আর যদি খাওফ বা ভীতি এর চাইতে প্রচণ্ড হয়, তবে যে যেভাবে সম্ভব নামায আদায় করে নিবে; চলমান অবস্থায় হোক বা দাঁড়িয়ে অথবা সওয়ারীর উপর হোক, কেবলামুখী হোক বা না হোক। (সহীহ্, বুখারী ৪৫৩৫) মালিক (রহঃ) বললেন, নাফি’ (রহঃ) বলেছেন, আমি মনে করি, আবদুল্লাহ (রাঃ) এটা (সালাতুল-খাওফের নিয়ম) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর মাধ্যমে সালাতুল খাওফের আরেকটি পদ্ধতি এসেছে। ইমাম একদলকে নিয়ে এক রাকআত পড়াবেন, আরেক দল ইমাম ও শত্রুর মাঝখানে থাকবে। প্রথম দল এক রাকআত পড়ার পর সালাম না ফিরিয়ে পেছনে যাবে, আর যারা নামাজ পড়েনি তারা এগিয়ে এসে ইমামের সাথে এক রাকআত পড়বে। ইমাম দুই রাকআত পূর্ণ করে ফিরে গেলে দুই দলই নিজেরা এক রাকআত করে পূর্ণ করবে। এরপর বর্ণনায় বলা হয়েছে, ভয় যদি এর চেয়েও বেশি হয়, তবে মানুষ যেভাবে পারে নামাজ আদায় করবে—পায়ে দাঁড়িয়ে, চলমান অবস্থায়, সওয়ারীতে, কিবলামুখী হয়ে বা কিবলামুখী না হয়েও। এটি নামাজের গুরুত্ব ও কঠিন অবস্থায় সহজতার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতুল খাওফে দুই দল পালাক্রমে ইমামের সাথে নামাজ পড়ে।
- প্রথম দল এক রাকআত পড়ে সালাম না ফিরিয়ে নিরাপত্তার জায়গায় যায়।
- ভয় বেশি হলে যেভাবে সম্ভব নামাজ আদায়ের কথা বর্ণনায় এসেছে।
- কঠিন অবস্থাতেও নামাজের সম্পর্ক বজায় রাখার শিক্ষা পাওয়া যায়।
