৬৫/৫৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫৩৫ - ভয়ভীতির সালাতের পদ্ধতি
আল্লাহর বাণীঃ
সালাতুল খাওফ: ভয়ভীতির সময় নামাজের পদ্ধতি
সহীহ বুখারী : ৪৫৩৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৫৩৫
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا كَانَ إِذَا سُئِلَ عَنْ صَلَاةِ الْخَوْفِ قَالَ يَتَقَدَّمُ الإِمَامُ وَطَائِفَةٌ مِنْ النَّاسِ فَيُصَلِّيْ بِهِمْ الإِمَامُ رَكْعَةً وَتَكُوْنُ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْعَدُوِّ لَمْ يُصَلُّوْا فَإِذَا صَلَّى الَّذِيْنَ مَعَهُ رَكْعَةً اسْتَأْخَرُوْا مَكَانَ الَّذِيْنَ لَمْ يُصَلُّوْا وَلَا يُسَلِّمُوْنَ وَيَتَقَدَّمُ الَّذِيْنَ لَمْ يُصَلُّوْا فَيُصَلُّوْنَ مَعَهُ رَكْعَةً ثُمَّ يَنْصَرِفُ الإِمَامُ وَقَدْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَيَقُوْمُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ الطَّائِفَتَيْنِ فَيُصَلُّوْنَ لِأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً بَعْدَ أَنْ يَنْصَرِفَ الإِمَامُ فَيَكُوْنُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ الطَّائِفَتَيْنِ قَدْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَإِنْ كَانَ خَوْفٌ هُوَ أَشَدَّ مِنْ ذَلِكَ صَلَّوْا رِجَالًا قِيَامًا عَلَى أَقْدَامِهِمْ أَوْ رُكْبَانًا مُسْتَقْبِلِي الْقِبْلَةِ أَوْ غَيْرَ مُسْتَقْبِلِيْهَاقَالَ مَالِكٌ قَالَ نَافِعٌ لَا أُرَى عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ ذَكَرَ ذَلِكَ إِلَّا عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ
নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ)-কে যখন সালাতুল খাওফ (যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর ভয় থাকা অবস্থায় সালাত) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হত তখন তিনি বলতেন, ইমাম সামনে যাবেন এবং একদল লোকও জামা‘আতে শামিল হবে। তিনি তাদের সঙ্গে এক রাক‘আত সালাত আদায় করবেন এবং তাদের আর একদল জামা‘আতে শামিল না হয়ে তাদের ও শত্রুর মাঝখানে থেকে যারা সালাত আদায় করেনি তাদের পাহারা দিবে। ইমামের সঙ্গে যারা এক রাক‘আত সালাত আদায় করেছে তারা পেছনে গিয়ে যারা এখনও সালাত আদায় করেনি তাদের স্থানে দাঁড়াবে কিন্তু সালাম ফেরাবে না। যারা সালাত আদায় করেনি তারা আগে বাড়বে এবং ইমামের সঙ্গে এক রাক‘আত আদায় করবে।তারপর ইমাম সালাত হতে নিষ্ক্রান্ত হবেন। কেননা তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। এরপর উভয় দল দাঁড়িয়ে নিজে নিজে বাকি এক রাক‘আত ইমামের সালাত শেষে আদায় করে নেবে। তাহলে প্রত্যেক জনেরই দু’ রাক‘আত সালাত আদায় হয়ে যাবে। ভয়-ভীতি এর চেয়েও অধিক হলে নিজে নিজে দাঁড়িয়ে অথবা যানবাহনে আরোহী অবস্থায় কেবলার দিকে মুখ করে বা যেদিকে সম্ভব মুখ করে সালাত আদায় করবে। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ইমাম নাফি‘ (রহঃ) বলেন, আমি অবশ্য মনে করি ইবনু ‘উমর (রাঃ) নবী (ﷺ) থেকে শুনেই এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাঃ সালাতুল খাওফের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। ইমাম সামনে দাঁড়াবেন, একদল তাঁর সঙ্গে এক রাকাত পড়বে, আর আরেক দল শত্রুর দিকে পাহারায় থাকবে। প্রথম দল পেছনে গেলে দ্বিতীয় দল এসে ইমামের সঙ্গে এক রাকাত পড়বে। ইমাম দুই রাকাত শেষ করবেন, এরপর দুই দলই নিজেদের বাকি রাকাত পূর্ণ করবে। যদি ভয় আরও বেশি হয়, তাহলে দাঁড়িয়ে অথবা বাহনে, কিবলামুখী বা যেদিকে সম্ভব সেদিকে মুখ করে সালাত আদায় করার কথা এসেছে। এই বর্ণনা দেখায়, বিপদের সময়ও সালাত বাদ নয়; বরং অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে শরীয়ত সহজ পথ দিয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভয়ের সময়ও সালাতের গুরুত্ব বজায় থাকে।
- সালাতুল খাওফে নিরাপত্তা ও ইবাদত—দুই দিকের খেয়াল রাখা হয়েছে।
- অতি ভয় হলে অবস্থান অনুযায়ী সালাত আদায়ের সহজতা এসেছে।
- শরীয়ত বিপদের সময় মানুষের অবস্থাকে বিবেচনা করে।
