১৫/৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৬১ - সূরা আবাসা নাজিলের শিক্ষা
কুরআন সম্পর্কীয় বর্ণনা
সূরা আবাসা নাজিলের কারণ ও বিনয়ের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪৬১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪৬১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ أُنْزِلَتْ عَبَسَ وَتَوَلَّى فِي عَبْدِ اللهِ بْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ يَقُولُ يَا مُحَمَّدُ اسْتَدْنِينِي وَعِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ مِنْ عُظَمَاءِ الْمُشْرِكِينَ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْرِضُ عَنْهُ وَيُقْبِلُ عَلَى الْآخَرِ وَيَقُولُ يَا أَبَا فُلَانٍ هَلْ تَرَى بِمَا أَقُولُ بَأْسًا فَيَقُولُ لَا وَالدِّمَاءِ مَا أَرَى بِمَا تَقُولُ بَأْسًا فَأُنْزِلَتْ عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى.
হিশাম ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) তার হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, عَبَسَ وَتَوَلَّى অবতীর্ণ করা হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ)-এর শানে। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলতে লাগলেনঃ হে মুহাম্মদ! আমাকে আপনার কাছে বসতে দিন, সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মুশরিকগণের নেতাদের একজন বড় নেতা উপস্থিত ছিল।রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হতে মনোযোগ ফিরিয়ে সে নেতা ব্যক্তির দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বলছিলেন হে আবূ ফুলান (অমুকের পিতা), আমি যা বলি তাতে কোন ত্রুটি দেখেছ কি? (উত্তরে) সে বলছিলঃ মূর্তির কসম, না, আপনি যা বলেন তাতে কোন প্রকার ত্রুটি দেখছি না। অতঃপর এই সূরা [১] عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى অবতীর্ণ হয়।
[১] সে ভ্রুকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল; কারণ তার কাছে এক অন্ধ এল। (সূরা: আবাসা, ১-২)[২] আমরা তোমাদের জন্য অবধারিত করলাম প্রকাশ্য বিজয়। (ফাতহ, ১)(সহীহ, মুত্তাসিল, ইমাম তিরমিযী আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক হাদীসটি মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন [তিরমিযী ৩৩৩১] আলবানী (রহঃ) হাদীসটি সহীহ বলেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা আবাসা নাজিলের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতুম (রা) রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বসার ও শেখার সুযোগ চাইছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে মুশরিকদের একজন বড় নেতা ছিল। তিনি সেই নেতার দিকে মনোযোগ দিচ্ছিলেন এবং তাকে ইসলামের কথা বোঝাচ্ছিলেন। এর পর আল্লাহ তাআলা عَبَسَ وَتَوَلَّى আয়াত নাজিল করেন। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, দ্বীন শেখার আগ্রহী মানুষকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। মানুষের বাহ্যিক অবস্থান নয়, আল্লাহর কাছে সত্য খোঁজার মনটাই বেশি মূল্যবান।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীন শেখার আগ্রহী মানুষকে অবহেলা করা উচিত নয়।
- সমাজের বড় ব্যক্তির চেয়ে আন্তরিক সত্যসন্ধানী মানুষও আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান হতে পারেন।
- কুরআনের আয়াত মানুষের আচরণ সংশোধনের জন্য পথ দেখায়।
- ইসলাম শেখার জন্য বিনয়ের সঙ্গে প্রশ্ন করা ভালো কাজ।
