১৫/৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৬২ - সূরা ফাতহ নাজিলের ঘটনা
কুরআন সম্পর্কীয় বর্ণনা
সূরা ফাতহ নাজিল ও উমার (রা)-এর বিনয়
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৪৬২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪৬২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسِيرُ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَسِيرُ مَعَهُ لَيْلًا فَسَأَلَهُ عُمَرُ عَنْ شَيْءٍ فَلَمْ يُجِبْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ فَقَالَ عُمَرُ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ عُمَرُ نَزَرْتَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ لَا يُجِيبُكَ قَالَ عُمَرُ فَحَرَّكْتُ بَعِيرِي حَتَّى إِذَا كُنْتُ أَمَامَ النَّاسِ وَخَشِيتُ أَنْ يُنْزَلَ فِيَّ قُرْآنٌ فَمَا نَشِبْتُ أَنْ سَمِعْتُ صَارِخًا يَصْرُخُ بِي قَالَ فَقُلْتُ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ يَكُونَ نَزَلَ فِيَّ قُرْآنٌ قَالَ فَجِئْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ هَذِهِ اللَّيْلَةَ سُورَةٌ لَهِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ ثُمَّ قَرَأَ إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا.
যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সফরসমূহের কোন এক সফরে পথ চলছিলেন। রাত্রে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-ও তাঁর সাথে চলছিলেন। তখন উমর (রাঃ) কোন বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কোন উত্তর দিলেন না। উমর (রাঃ) পুনরায় সওয়াল করলেন। কিন্তু তিনি তার জবাব দিলেন না। অতঃপর তাঁর কাছে (উমর) আবার সওয়াল করলেন, কিন্তু (এইবারও) তিনি তার জবাব দিলেন না। তখন উমর (রাঃ) (মনে মনে) বললেন, উমর, তোমার মাতা তোমাকে হারিয়ে ফেলুন (এবং কাঁদতে থাকুন অর্থাৎ তোমার সর্বনাশ)। তুমি বিনয় সহকারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সওয়াল করলে, আর তিনি তোমাকে কোন জবাব দিলেন না।উমর (রাঃ) বলেন, তারপর আমার উটকে আমি চালিত করলাম, এমন কি আমি লোকের আগে আগে চলে গেলাম। আমি আশংকা করলাম আমার বিষয়ে কোরআন অবতীর্ণ হতে পারে। তারপর আমি (বেশিক্ষণ) অবস্থান করিনি, (হঠাৎ) এর উচ্চৈঃস্বরে আহ্বানকারী আমাকে ডাকছিল। তিনি (উমর) বলেন, আমি আশংকা করছিলাম আমার বিষয়ে হয় তো কোরআন নাযিল হয়েছে।(উমর) বলেন, অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম এবং সালাম করলাম। অতঃপর তিনি বললেন, অবশ্য এই রাত্রে আমার উপর একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। নিঃসন্দেহে সে সূরাটি আমার কাছে অধিক প্রিয়, সে সব বস্তু অপেক্ষা যার উপর সূর্য উদিত হয়েছে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا এই সূরাটি।
(সহীহ, বুখারী ৪১৭৭)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের একটি ঘটনা এসেছে। রাতে উমার ইবনু খাত্তাব (রা) রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে চলছিলেন। তিনি একটি বিষয়ে কয়েকবার প্রশ্ন করেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন কোনো উত্তর দেননি। এতে উমার (রা) নিজের ব্যাপারে ভয় পেলেন এবং মনে করলেন, হয়তো তাঁর বিষয়ে কুরআন নাজিল হতে পারে। পরে তাঁকে ডাকা হলো। তিনি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে সালাম করলেন। নবীজি জানালেন, সেই রাতে তাঁর ওপর একটি সূরা নাজিল হয়েছে, যা সূর্য উদিত হওয়া সব কিছুর চেয়েও তাঁর কাছে বেশি প্রিয়। এরপর তিনি إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا পাঠ করলেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি নীরব থাকলে সাহাবারা নিজের আচরণ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন।
- উমার (রা)-এর মতো বড় সাহাবিও আল্লাহর সামনে জবাবদিহির ভয় রাখতেন।
- সূরা ফাতহ নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে খুব প্রিয় ছিল।
- প্রশ্ন করার আদব ও বিনয় দ্বীনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
