১৬/১২. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৩৯ - নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব ও সাত প্রকার শহীদ
মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদতে নিষেধ করা
সাত প্রকার শহীদ: নিয়ত অনুযায়ী সওয়াবের গভীর শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৫৩৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৫৩৯
- حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ عَنْ عَتِيكِ بْنِ الْحَارِثِ وَهُوَ جَدُّ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَابِرٍ أَبُو أُمِّهِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَتِيكٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ يَعُودُ عَبْدَ اللهِ بْنَ ثَابِتٍ فَوَجَدَهُ قَدْ غُلِبَ عَلَيْهِ فَصَاحَ بِهِ فَلَمْ يُجِبْهُ فَاسْتَرْجَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ غُلِبْنَا عَلَيْكَ يَا أَبَا الرَّبِيعِ فَصَاحَ النِّسْوَةُ وَبَكَيْنَ فَجَعَلَ جَابِرٌ يُسَكِّتُهُنَّ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعْهُنَّ فَإِذَا وَجَبَ فَلَا تَبْكِيَنَّ بَاكِيَةٌ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا الْوُجُوبُ قَالَ إِذَا مَاتَ فَقَالَتْ ابْنَتُهُ وَاللهِ إِنْ كُنْتُ لَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ شَهِيدًا فَإِنَّكَ كُنْتَ قَدْ قَضَيْتَ جِهَازَكَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ قَدْ أَوْقَعَ أَجْرَهُ عَلَى قَدْرِ نِيَّتِهِ وَمَا تَعُدُّونَ الشَّهَادَةَ قَالُوا الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الشُّهَدَاءُ سَبْعَةٌ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللهِ الْمَطْعُونُ شَهِيدٌ وَالْغَرِقُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ وَالْمَبْطُونُ شَهِيدٌ وَالْحَرِقُ شَهِيدٌ وَالَّذِي يَمُوتُ تَحْتَ الْهَدْمِ شَهِيدٌ وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجُمْعٍ شَهِيْدٌ.
জাবির ইবনু ‘আতীক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবদুল্লাহ ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে রোগশয্যায় দেখতে এলেন। তাঁকে রোগে কাহিল অবস্থায় পেলেন। তিনি তাঁকে ডাকলেন, কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘ইন্নালিল্লাহি’ পাঠ করলেন এবং বললেন, হে আবূ রাবী’! আমরা তোমার ব্যাপারে পরাস্ত হলাম।স্ত্রীলোকেরা তখন চিৎকার করে উঠল এবং কাঁদতে লাগল। জাবির ইবনু আতিক (রাঃ) তাদেরকে বারণ করতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাদেরকে ছাড়, যখন সময় আসবে তখন কোন ক্রন্দনকারিণী ক্রন্দন করবে না। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সময় আসার অর্থ কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যখন মৃত্যু হবে।এটা শুনে তাঁর কন্যা মৃত পিতাকে বললেন, আল্লাহ্র কসম, আমি আশা করেছিলাম আপনি শহীদ হবেন। কারণ আপনি (জিহাদের) আসবাব প্রস্তুত করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাঁর নিয়ত অনুযায়ী আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর জন্য সওয়াব নির্ধারণ করেছেন। তোমরা শাহাদত কাকে গণ্য করে থাক? তাঁরা বললেন, আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়াকে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ছাড়াও শহীদ সাত প্রকারের:(ক) তাউনে (মহামারীতে) মৃত ব্যক্তি শহীদ,(খ) যে ডুবে মারা যায় সে শহীদ,(গ) নিউমোনিয়া রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ,(ঘ) পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ,(ঙ) যে পুড়ে মারা যায় সে শহীদ,(চ) কোন কিছু চাপা পড়ে যে মারা গেছে সে শহীদ,(ছ) অন্তঃসত্ত্বায় মৃত মহিলা শহীদ।
(সহীহ, আবূ দাঊদ ৩১১১, নাসাঈ ১৮৪৬, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [আত-তারগীব ওয়াত তারহীব ১৩৯৮])
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রোগী দেখতে যাওয়া, মৃত্যু, শোক, নিয়ত এবং শহীদের মর্যাদা—একসাথে কয়েকটি শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবদুল্লাহ ইবনু সাবিত (রা)-কে দেখতে যান। তাঁর অবস্থা দেখে ইন্নালিল্লাহি পড়েন। নারীরা কাঁদলে তিনি প্রথমে তাদের ছাড়তে বলেন, তবে মৃত্যুর সময় হলে ক্রন্দনকারিণী যেন ক্রন্দন না করে—এ কথাও বলেন। তাঁর কন্যা আশা করেছিলেন তিনি শহীদ হবেন, কারণ তিনি প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তখন রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেন, আল্লাহ তাঁর নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব নির্ধারণ করেছেন। এরপর তিনি জানান, আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ছাড়াও তাউন, ডুবে মৃত্যু, নিউমোনিয়া, পেটের পীড়া, আগুনে পুড়ে মৃত্যু, চাপা পড়ে মৃত্যু এবং গর্ভাবস্থায় নারীর মৃত্যু—এসব অবস্থার মৃতকেও শহীদ বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব নির্ধারণ করেন।
- শহীদ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এই হাদিসে সাত প্রকার উল্লেখ আছে।
- রোগী দেখতে যাওয়া রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর আমলে দেখা যায়।
- মৃত্যুর সময় শোকের আচরণে সংযম দরকার।
