২/৬. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৯ - সুন্দরভাবে ওযূ ও নামাযে গুনাহ মাফের আশা
ওযূ সম্পর্কীয় বিবিধ হাদীস
সুন্দরভাবে ওযূ করলে ফজিলত: নামাযের মাঝে গুনাহ মাফের হাদিস
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৫৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৫৯
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ جَلَسَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَجَاءَ الْمُؤَذِّنُ فَآذَنَهُ بِصَلَاةِ الْعَصْرِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَالَ وَاللهِ لَأُحَدِّثَنَّكُمْ حَدِيثًا لَوْلَا أَنَّهُ فِي كِتَابِ اللهِ مَا حَدَّثْتُكُمُوهُ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ امْرِئٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يُصَلِّي الصَّلَاةَ إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلَاةِ الْأُخْرَى حَتَّى يُصَلِّيَهَاقَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك أُرَاهُ يُرِيدُ هَذِهِ الْآيَةَ ﴾ أَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ ﴿.
হুমরান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) (একদা) বৈঠকখানায় বসলেন। মুয়াজ্জিন এসে তাঁকে আসরের নামাজের সংবাদ দিলেন। তিনি পানি আনালেন, তারপর ওজু করলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে একটি হাদীস বয়ান করব। কিতাবুল্লাহর (কোরআনের) একটি আয়াত যদি না থাকত তবে আমি তোমাদের নিকট হাদীস বয়ান করতাম না।অতঃপর বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি ওজু করে আর সে তার ওজুকে উত্তমরূপে সমাধা করার পর নামাজ পরে তার (পাপ) মার্জনা করা হবে অর্থাৎ পরবর্তী নামাজ সমাপ্ত করা পর্যন্ত অর্থাৎ পরবর্তী নামাজ আদায় করলেই এই মার্জনা পাওয়া যাবে।মালিক (রহঃ) বলেছেন, আমার ধারণা, উসমান (রাঃ) যেই আয়াতের কথা বলেছেন তা এই أَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
(বুখারী ১৬০, মুসলিম ২২৭)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) ওযূ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণী বর্ণনা করেছেন। মুয়াযযিন আসরের নামাযের সংবাদ দিলে তিনি পানি আনালেন এবং ওযূ করলেন। তারপর বললেন, কুরআনের একটি আয়াত না থাকলে তিনি এই হাদিস বর্ণনা করতেন না। এরপর তিনি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন বলে জানালেন, যে ব্যক্তি ওযূ করে এবং সুন্দরভাবে ওযূ সম্পন্ন করে, তারপর নামায পড়ে, তার গুনাহ মাফ করা হয় পরবর্তী নামায পর্যন্ত। এই হাদিসে ওযূকে শুধু বাহ্যিক পরিষ্কার নয়, বরং নামাযের সঙ্গে যুক্ত এক বড় ফজিলতের কাজ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে গুনাহ মাফের বিষয়টি হাদিসের ভাষা অনুযায়ী নামায ও উত্তম ওযূর সঙ্গে জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সুন্দরভাবে ওযূ করার বিশেষ ফজিলত আছে।
- ওযূর পর নামায আদায় করলে পরবর্তী নামায পর্যন্ত গুনাহ মাফের কথা এসেছে।
- উসমান (রাঃ) কুরআনের আয়াতের কথা উল্লেখ করে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
- ওযূ ও নামায মিলিয়ে বান্দার জন্য পবিত্রতার বড় সুযোগ তৈরি হয়।
