১৮/১১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬৪৮ - আশুরার রোযা ও রমযানের ফরয হওয়া
আশুরা দিবসে রোযা
আশুরার রোযা: রমযান ফরয হওয়ার পর এর অবস্থান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬৪৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬৪৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ يَوْمًا تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ كَانَ هُوَ الْفَرِيضَةَ وَتُرِكَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ.
নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আশুরা দিবস এমন একটি দিবস ছিল, যে দিবসে জাহিলিয়া যুগে কুরাইশগণ রোজা রাখত। জাহিলিয়া যুগে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-ও সে দিবসে রোজা রাখতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনায় এলে পরে তিনি সেই রোজা রাখলেন এবং লোকদেরকেও সেই দিনের রোজা রাখতে হুকুম করলেন। অতঃপর যখন রমজানের রোজা ফরজ হল, উহাই ফরজ হিসেবে রইল। আশুরা দিবসের রোজা ছেড়ে দেয়া হল। অতঃপর যে ইচ্ছা করত ঐ দিবসে রোজা রাখত, আর যে ইচ্ছা করত না সে তা ছেড়ে দিত।
(বুখারী ২০০২, মুসলিম ১১২৫)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আশুরার রোযার ধাপগুলো সুন্দরভাবে এসেছে। আয়িশা (রা) বলেন, জাহিলিয়া যুগে কুরাইশরা আশুরার দিন রোযা রাখত এবং রাসূলুল্লাহ্ صلى الله عليه وسلم-ও সে সময়ে রোযা রাখতেন। মদীনায় আসার পর তিনি সেই রোযা রাখলেন এবং মানুষকেও রাখার নির্দেশ দিলেন। পরে যখন রমযানের রোযা ফরয হলো, তখন রমযানই ফরয রোযা হিসেবে রইল। আশুরার রোযা বাধ্যতামূলক অবস্থায় থাকল না; যে ইচ্ছা রাখত, আর যে ইচ্ছা রাখত না। তাই এই হাদিসে আশুরার রোযা, রমযানের রোযা এবং ফরয-নফল পার্থক্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়। আশুরার রোযা সম্পর্কে লেখার সময় এই সীমা মনে রাখা জরুরি—এই হাদিসে বাধ্যতামূলক নয়, ইচ্ছাধীন রাখার কথা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আশুরার রোযা আগেও পরিচিত একটি রোযা ছিল।
- মদীনায় এসে নবীজি صلى الله عليه وسلم আশুরার রোযা রেখেছেন ও নির্দেশ দিয়েছেন।
- রমযান ফরয হওয়ার পর আশুরার রোযা ইচ্ছাধীন হয়ে যায়।
- ফরয রোযা ও নফল রোযার পার্থক্য জানা দরকার।
