৩০/৬৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২০০২ - আশুরার সাওম ও রমজানের ফরজ বিধান
আশুরার দিনে সওম করা।
আশুরার সাওমের ইতিহাস ও রমজানের পর এর বিধান
সহীহ বুখারী : ২০০২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২০০২
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ عَنْ مَالِكٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَصُومُهُ فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ تَرَكَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জাহিলিয়্যাতের যুগে কুরাইশগণ ‘আশূরার সাওম পালন করত এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)- ও এ সাওম পালন করতেন। যখন তিনি মাদীনায় আগমন করেন তখনও এ সাওম পালন করেন এবং তা পালনের নির্দেশ দেন। যখন রমযানের সাওম ফরজ করা হল তখন ‘আশূরার সাওম ছেড়ে দেয়া হলো, যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা পালন করবে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ২০০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আশুরার সাওমের কয়েকটি দিক একসাথে এসেছে। জাহিলিয়াতের যুগে কুরাইশরা আশুরার সাওম পালন করত। আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم)-ও এই সাওম পালন করতেন। তিনি মদীনায় আসার পর নিজে আশুরার সাওম রাখেন এবং অন্যদেরও তা পালনের নির্দেশ দেন। পরে যখন রমজানের সাওম ফরজ করা হলো, তখন আশুরার সাওম বাধ্যতামূলক অবস্থায় থাকল না। যার ইচ্ছা সে রাখত, আর যার ইচ্ছা সে রাখত না। তাই ‘আশুরার রোজা’, ‘আশুরার সাওমের বিধান’ এবং ‘রমজান ফরজ হওয়ার পর আশুরা’—এই বিষয়গুলো বুঝতে এই হাদিসটি খুব সহায়ক। এতে দেখা যায়, ফরজ ইবাদত ও ইচ্ছাধীন নেক আমলের মধ্যে পার্থক্য আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আশুরার সাওম নবীজি (صلى الله عليه وسلم) নিজে পালন করেছেন।
- মদীনায় আগমনের পর আশুরার সাওম পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
- রমজানের সাওম ফরজ হওয়ার পর আশুরার সাওম ইচ্ছাধীন হয়ে যায়।
