১৮/১৫. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬৫৬ - অসুস্থ ব্যক্তির রোযা ও সহজতা
রোযার রুগ্ন ব্যক্তির করণীয়
অসুস্থ ব্যক্তির রোযা: কষ্ট হলে ছাড় ও দ্বীনের সহজ পথ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬৫৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬৫৬
قَالَ يَحْيَى سَمِعْت قَوْله تَعَالَى يَقُولُ الْأَمْرُ الَّذِي سَمِعْتُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْمَرِيضَ إِذَا أَصَابَهُ الْمَرَضُ الَّذِي يَشُقُّ عَلَيْهِ الصِّيَامُ مَعَهُ وَيُتْعِبُهُ وَيَبْلُغُ ذَلِكَ مِنْهُ فَإِنَّ لَهُ أَنْ يُفْطِرَ وَكَذَلِكَ الْمَرِيضُ الَّذِي اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْقِيَامُ فِي الصَّلَاةِ وَبَلَغَ مِنْهُ وَمَا اللهُ أَعْلَمُ بِعُذْرِ ذَلِكَ مِنْ الْعَبْدِ وَمِنْ ذَلِكَ مَا لَا تَبْلُغُ صِفَتُهُ فَإِذَا بَلَغَ ذَلِكَ صَلَّى وَهُوَ جَالِسٌ وَدِينُ اللهِ يُسْرٌوَقَدْ أَرْخَصَ اللهُ لِلْمُسَافِرِ فِي الْفِطْرِ فِي السَّفَرِ وَهُوَ أَقْوَى عَلَى الصِّيَامِ مِنْ الْمَرِيضِ قَالَ اللهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ ﴾ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ﴿ فَأَرْخَصَ اللهُ لِلْمُسَافِرِ فِي الْفِطْرِ فِي السَّفَرِ وَهُوَ أَقْوَى عَلَى الصَّوْمِ مِنْ الْمَرِيض فَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ وَهُوَ الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ.
ইয়াহইয়া (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি মালিক (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি আহলে ইলম-এর কাছে যা শুনেছি তা হচ্ছে এই পীড়িত ব্যক্তির যদি এমন রোগ হয় যাতে রোজা রাখা তার জন্য দুষ্কর এবং কষ্টদায়ক হয়, যখন রোগ এই স্তরে পৌঁছে তখন তার জন্য রোজা ইফতার (রাখিয়া ভাঙিয়া ফেলা বা শুরুতেই না রাখা) করা জায়েয আছে। তদ্রূপ পীড়িত ব্যক্তির যদি নামাজে দাঁড়াতে মুশকিল হয় অর্থাৎ পীড়ার কারণে তার ওযর (অপারগতা) সেই দরজায় পৌঁছায়, আল্লাহ্ তা’আলা বান্দার ওযর সম্পর্কে বান্দা অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত। আবার কোন কোন রোগ সেই দরজার হয় না, যখন ওযর এই স্তরে পৌঁছে, তখন সে বসে নামাজ আদায় করবে। আর আল্লাহর দ্বীন সহজ।তিনি মুসাফিরের জন্য সফরে রোজা ভাঙার অনুমতি দিয়েছেন। অথচ মুসাফির পীড়িত ব্যক্তির তুলনায় রোজা রাখতে অধিক সক্ষম। আল্লাহ্ তা’আলা কিতাবে বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রুগ্ন থাকে অথবা সফরে থাকে, সে অন্যদিন রোজা করবে।’ আল্লাহ্ তা’আলা (এই আয়াতে) মুসাফিরের জন্য সফরে রোজা না রাখার অনুমতি দিয়েছেন। অথচ সে রোজার উপর পীড়িতের তুলনায় অধিক শক্তিশালী। এই ব্যাপারে যা শুনেছি তন্মধ্যে এটাই আমার কাছে পছন্দনীয়। আমাদের নিকট এটাই ঐকমত্যে গৃহীত।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইমাম মালিক (র) আহলে ইলম থেকে যা শুনেছেন তা বলেন। যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তির এমন রোগ হয় যাতে রোযা রাখা তার জন্য কষ্টকর ও দুষ্কর হয়, তাহলে তার জন্য রোযা না রাখা বা ভেঙে ফেলার সুযোগ আছে। একইভাবে অসুস্থতার কারণে দাঁড়িয়ে নামায পড়া কঠিন হলে সে বসে নামায পড়তে পারে। বর্ণনায় বলা হয়েছে, আল্লাহ বান্দার ওযর সম্পর্কে বান্দার চেয়ে বেশি জানেন এবং আল্লাহর দ্বীন সহজ। সফরকারীকে রোযা না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, অথচ অনেক সময় সে অসুস্থ ব্যক্তির চেয়ে বেশি সক্ষম হতে পারে। তাই রোগ, সফর, রোযার ছাড় এবং সহজ দ্বীন—এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো কষ্টের অবস্থায় শরীয়তের দেওয়া সহজতা গ্রহণ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোগ এমন হলে যে রোযা রাখা কষ্টকর, তখন রোযা না রাখার সুযোগ আছে।
- দাঁড়িয়ে নামায কষ্টকর হলে বসে নামাযের কথা এসেছে।
- আল্লাহ বান্দার ওযর ভালো জানেন—এই কোমল কথা বর্ণনায় আছে।
- দ্বীনের সহজতা রোগী ও মুসাফিরের বিষয়ে স্পষ্ট হয়েছে।
