২০/৩৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮০১ - তাওয়াফে রমল ও নববী আমল
তাওয়াফের সময় রমল করা (কিছুটা দ্রুত হাঁটা)
তাওয়াফে রমল: হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করার নববী শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৮০১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৮০১
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّهُ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَلَ مِنْ الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ حَتَّى انْتَهَى إِلَيْهِ ثَلَاثَةَ أَطْوَافٍ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ الْأَمْرُ الَّذِي لَمْ يَزَلْ عَلَيْهِ أَهْلُ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে দেখেছি, হাজরে আসওয়াদ হতে আরম্ভ করে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত তাওয়াফে (চক্করে) তিনি রমল করেছেন। [১] (সহীহ, মুসলিম ১২৬৩) মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের শহরস্থ আলিমদের অভিমত এটাই।
[১] কুরাইশগণ যখন কাবা ঘর পুনর্নির্মাণ করেন তখন হালাল উপায়ে অর্জিত অর্থ কম হওয়ায় কিছু স্থান ছেড়ে দিয়েছিলেন। এ স্থানটিকে ‘হাতীম’ বলা হয়। তাওয়াফের সময় ঐ স্থানটিসহ তাওয়াফ করতে হয়। রুকনে শামী ও রুকনে ইরাকী তৎসংলগ্ন দুইটি কোণের নাম।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাওয়াফে রমল করতে দেখেছেন। রমল বলতে এখানে তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে কিছুটা দ্রুত ও দৃঢ় ভঙ্গিতে হাঁটা বোঝানো হয়েছে। বর্ণনায় বিশেষভাবে এসেছে, তিনি হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে আবার হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত এই আমল করেছেন। তাই তাওয়াফে রমল, হাজরে আসওয়াদ এবং তাওয়াফের নিয়ম—এই তিনটি বিষয় এ হাদিসের মূল আলোচনা। ইমাম মালিক (র) আরও বলেন, মদিনার আলিমদের আমলও এভাবেই চলে এসেছে। এতে বোঝা যায়, ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ নয়, রাসূল (সা)-এর দেখা আমল ও জ্ঞানীদের অনুসৃত পদ্ধতি গুরুত্ব পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল করা নববী আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- রমল হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু হয়ে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়।
- ইবাদতের পদ্ধতিতে রাসূল (সা)-এর দেখা আমলকে অনুসরণ করা উচিত।
- আলিমদের ধারাবাহিক আমল কোনো বিষয়ের বোঝাপড়াকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
