২০/৪২. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮২৪ - সা’য়ীতে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা

সা‘য়ী সম্পর্কে বিবিধ হাদীস

সাফা-মারওয়া সা’য়ীতে ধৈর্য, হাঁটা ও ভুল হলে করণীয়

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৮২৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَنَّ سَوْدَةَ بِنْتَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ كَانَتْ عِنْدَ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ فَخَرَجَتْ تَطُوفُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فِي حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ مَاشِيَةً وَكَانَتْ امْرَأَةً ثَقِيلَةً فَجَاءَتْ حِينَ انْصَرَفَ النَّاسُ مِنْ الْعِشَاءِ فَلَمْ تَقْضِ طَوَافَهَا حَتَّى نُودِيَ بِالْأُولَى مِنْ الصُّبْحِ فَقَضَتْ طَوَافَهَا فِيمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ وَكَانَ عُرْوَةُ إِذَا رَآهُمْ يَطُوفُونَ عَلَى الدَّوَابِّ يَنْهَاهُمْ أَشَدَّ النَّهْيِ فَيَعْتَلُّونَ بِالْمَرَضِ حَيَاءً مِنْهُ فَيَقُولُ لَنَا فِيمَا بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ لَقَدْ خَابَ هَؤُلَاءِ وَخَسِرُوا.১৩৮৩-قَالَ مَالِك مَنْ نَسِيَ السَّعْيَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فِي عُمْرَةٍ فَلَمْ يَذْكُرْ حَتَّى يَسْتَبْعِدَ مِنْ مَكَّةَ أَنَّهُ يَرْجِعُ فَيَسْعَى وَإِنْ كَانَ قَدْ أَصَابَ النِّسَاءَ فَلْيَرْجِعْ فَلْيَسْعَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَتَّى يُتِمَّ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ مِنْ تِلْكَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ عَلَيْهِ عُمْرَةٌ أُخْرَى وَالْهَدْيُ ১৩৮৪-و سُئِلَ مَالِك عَنْ الرَّجُلِ يَلْقَاهُ الرَّجُلُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَيَقِفُ مَعَهُ يُحَدِّثُهُ فَقَالَ لَا أُحِبُّ لَهُ ذَلِكَ১৩৮৫-قَالَ مَالِك وَمَنْ نَسِيَ مِنْ طَوَافِهِ شَيْئًا أَوْ شَكَّ فِيهِ فَلَمْ يَذْكُرْ إِلَّا وَهُوَ يَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَإِنَّهُ يَقْطَعُ سَعْيَهُ ثُمَّ يُتِمُّ طَوَافَهُ بِالْبَيْتِ عَلَى مَا يَسْتَيْقِنُ وَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْ الطَّوَافِ ثُمَّ يَبْتَدِئُ سَعْيَهُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমর (রাঃ)-এর কন্যা সাওদা (রহঃ) ছিলেন উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ)-এর স্ত্রী। একবার হজ্জ বা উমরার সময় তিনি সাফা-মারওয়ার সা’য়ীর জন্য বের হন। তিনি মোটা ধরনের মহিলা ছিলেন। ইশার নামায পড়ে মানুষ যখন বের হয়েছিল তখন তিনি হেঁটে হেঁটে হজ্জ অথবা উমরার তাওয়াফ ও সা’য়ী শুরু করেছিলেন। কিন্তু তখনও সা’য়ী শেষ হতে পারেনি, আর এইদিকে ফজরের আযান হয়ে যায়। সা’য়ী শেষ করতে তাঁর ইশা হতে ফজর পর্যন্ত সময় লেগেছিল।উরওয়াহ্ কাউকেও কোন কিছুতে আরোহণ করে সায়ী করতে দেখলে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। [১] লোকেরা তাঁকে দেখলে অসুস্থতার বাহানা করত। তিনি পরে আমাদের নিকট আলাপে বলতেন, এরা (যারা সওয়ার হয়ে সা’য়ী করে) ক্ষতিগ্রস্ত, তারা স্বীয় উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেনি। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন, উমরা করার সময় সাফা-মারওয়ার সা’য়ী করতে যদি ভুলে যায় এবং মক্কা হতে দূরে চলে যাওয়ার পর এটা স্মরণ হলে তাকে পুনরায় মক্কায় এসে সা’য়ী করতে হবে। আর এর মধ্যে স্ত্রী সহবাস করে থাকলে তবে ফিরে এসে সা’য়ী করবে এবং দ্বিতীয়বার উমরা করবে এবং হাদয়ী কুরবানী দেবে।মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল সা’য়ী করার সময় যদি কেউ কারো সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করে তবে কেমন হবে? তিনি বললেন, আমি এটাকে পছন্দ করি না। মালিক (রহঃ) বলেন, কেউ যদি তাওয়াফ করতে গিয়ে কোন চক্কর ভুলে যায় বা এই সম্পর্কে তার সন্দেহ হয়, পরে সা’য়ী করার সময় যদি তার উহা খেয়াল হয় তবে সা’য়ী মওকুফ করে দেবে এবং প্রথমে য়াকীনের উপর ভিত্তি করে তাওয়াফ পুরা করে দুই রাক’আত তাওয়াফের নামায আদায় করে নূতনভাবে সা’য়ী করবে।

[১] পায়ে হেঁটে সা’য়ী করা আফজল এবং সুন্নত। সা’য়ী করতে গিয়ে স্ত্রীর ফজর পর্যন্ত সময় লাগলেও উরওয়াহ্ (রহঃ) তাঁকে সওয়ার হতে অনুমতি দেননি।

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮২৪-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় সাওদা (র)-এর সাফা-মারওয়ার সা’য়ীর ঘটনা এসেছে। তিনি মোটা ধরনের মহিলা ছিলেন, তবুও হজ্জ বা উমরার সময় হেঁটে সা’য়ী করতে বের হন। ইশার পর শুরু করে ফজরের আযান পর্যন্ত তাঁর সময় লেগেছিল। এই ঘটনা সা’য়ীতে ধৈর্যের একটি বাস্তব ছবি দেখায়। একই বর্ণনায় উরওয়াহ (র) কাউকে বাহনে চড়ে সা’য়ী করতে দেখলে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন; লোকেরা তখন অসুস্থতার কথা বলত। এরপর মালিক (র)-এর কয়েকটি কথা এসেছে: উমরায় সা’য়ী ভুলে গেলে ফিরে এসে সা’য়ী করতে হবে; সা’য়ীর মাঝে দাঁড়িয়ে আলাপে মগ্ন হওয়া তিনি পছন্দ করতেন না; আর তাওয়াফের চক্কর নিয়ে সন্দেহ হলে সা’য়ী বন্ধ করে আগে তাওয়াফ নিশ্চিতভাবে পূর্ণ করতে হবে। তাই এখানে সাফা মারওয়া সায়ী, তাওয়াফের শুদ্ধতা এবং ইবাদতে মনোযোগের শিক্ষা একসাথে আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সা’য়ী শেষ করতে কষ্ট হলেও ধৈর্য রাখা একটি ভালো শিক্ষা।
  • ইবাদতের মাঝে অযথা কথায় ব্যস্ত হওয়া পছন্দনীয় নয়—মালিক (র) এমন মত দিয়েছেন।
  • তাওয়াফ নিয়ে সন্দেহ হলে আগে তাওয়াফ নিশ্চিতভাবে পূর্ণ করার কথা এসেছে।
  • উমরায় সা’য়ী ভুলে গেলে তা পূরণ করার বিষয়ে মালিক (র)-এর নির্দেশ আছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন