২০/৫১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮৫৩ - হাদ্য়ী হিসেবে বকরীর ব্যাখ্যা
সামর্থ্যানুসারে কুরবানী করা
হাদ্য়ী হিসেবে বকরী: ইবনু আব্বাস (রা)-এর ব্যাখ্যা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৮৫৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৮৫৩
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ كَانَ يَقُولُ مَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ شَاةٌ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ لِأَنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ ﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنْ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَلِكَ صِيَامًا ﴿ فَمِمَّا يُحْكَمُ بِهِ فِي الْهَدْيِ شَاةٌ وَقَدْ سَمَّاهَا اللهُ هَدْيًا وَذَلِكَ الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ عِنْدَنَا وَكَيْفَ يَشُكُّ أَحَدٌ فِي ذَلِكَ وَكُلُّ شَيْءٍ لَا يَبْلُغُ أَنْ يُحْكَمَ فِيهِ بِبَعِيرٍ أَوْ بَقَرَةٍ فَالْحُكْمُ فِيهِ شَاةٌ وَمَا لَا يَبْلُغُ أَنْ يُحْكَمَ فِيهِ بِشَاةٍ فَهُوَ كَفَّارَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ إِطْعَامِ مَسَاكِيْنَ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, مَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ এর অর্থ হল, অন্তত একটি বকরী কুরবানী করা। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন, এই বর্ণনাটি আমার নিকট খুবই প্রিয়। কেননা কোরআনুল করীমে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, হে মু’মিনগণ, তোমরা যখন ইহরাম অবস্থায় থাক তখন তোমরা কোন প্রাণী বধ করো না। কেউ যদি কোনকিছু ইচ্ছাকৃতভাবে বধ করে তবে যে ধরনের পশু সে বধ করেছে সেই ধরনের কোন পশু তাকে প্রতিদান (জরিমানা) দিতে হবে। তোমাদের দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ লোক এর ফয়সালা করে দেবে। এই প্রতিদান বায়তুল্লাহতে প্রেরিত হাদ্য়ী হবে অথবা কাফ্ফারা হিসেবে হবে যা মিসকীনদেরকে আহার করানো হবে অথবা তাকে তৎপরিমাণ রোযা রাখতে হবে যাতে সে তার কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করে নেয়।যা হোক, শিকারকৃত পশুর পরিবর্তে কোন সময়ে বকরীও ওয়াজিব হতে পারে। উক্ত আয়াতে উহাকেও হাদ্য়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কথায় একজন কি করে সন্দেহ করতে পারে? কারণ যে পশু উট বা গরুর সমতুল্য নয় উহার প্রতিদানে (জরিমানা) একটি বকরীই ওয়াজিব হতে পারে। একটি বকরীর সমতুল্যও যেখানে হবে না সেখানে কাফফারা ওয়াজিব হবে। সে রোযার মাধ্যমে উহা আদায় করুক বা মিসকীনদেরকে আহার করিয়ে তা আদায় করুক, উভয় অবস্থায় ইহা কাফফারা হিসেবেই গণ্য হবে।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা)-এর বক্তব্য এসেছে। তিনি বলেন, مَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ এর অর্থ হলো অন্তত একটি বকরী। মালিক (র) এই ব্যাখ্যাকে পছন্দ করেছেন এবং কুরআনের শিকার সংক্রান্ত আয়াতের আলোচনায় বলেন, কোনো শিকার করলে তার প্রতিদান হিসেবে কখনো হাদ্য়ী দিতে হয়, কখনো মিসকীনকে খাওয়ানো বা রোযা রাখতে হয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সব পশুর বদলে উট বা গরু লাগে না; কিছু ক্ষেত্রে বকরীই যথেষ্ট হয়। আর যা বকরীর সমতুল্যও নয়, সেখানে রোযা বা খাবার দেওয়ার কাফফারা হতে পারে। এই হাদিসে হাদ্য়ী, শিকার, কাফফারা ও বকরীর সম্পর্ক সহজভাবে বোঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সহজ হাদ্য়ীর একটি ব্যাখ্যা হলো অন্তত একটি বকরী।
- ইহরামে শিকারের জরিমানায় হাদ্য়ী, খাবার বা রোযার কথা এসেছে।
- প্রতিটি অবস্থায় একই ধরনের পশু জরুরি নয়; অবস্থাভেদে বিধান আলাদা।
