২১/১৮. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৮৮ - সমুদ্রযাত্রার জিহাদ ও উম্মে হারাম (রা)
জিহাদে উৎসাহ প্রদান
সমুদ্রযাত্রার জিহাদ ও উম্মে হারাম (রা)-এর দোয়ার ঘটনা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৯৮৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৯৮৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ذَهَبَ إِلَى قُبَاءٍ يَدْخُلُ عَلَى أُمِّ حَرَامٍ بِنْتِ مِلْحَانَ فَتُطْعِمُهُ وَكَانَتْ أُمُّ حَرَامٍ تَحْتَ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَدَخَلَ عَلَيْهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَأَطْعَمَتْهُ وَجَلَسَتْ تَفْلِي فِي رَأْسِهِ فَنَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا ثُمَّ اسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ قَالَتْ فَقُلْتُ مَا يُضْحِكُكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَيَّ غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللهِ يَرْكَبُونَ ثَبَجَ هَذَا الْبَحْرِ مُلُوكًا عَلَى الْأَسِرَّةِ أَوْ مِثْلَ الْمُلُوكِ عَلَى الْأَسِرَّةِ يَشُكُّ إِسْحَقُ قَالَتْ فَقُلْتُ لَهُ يَا رَسُولَ اللهِ ادْعُ اللهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَدَعَا لَهَا ثُمَّ وَضَعَ رَأْسَهُ فَنَامَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ يَضْحَكُ قَالَتْ فَقُلْتُ لَهُ يَا رَسُولَ اللهِ مَا يُضْحِكُكَ قَالَ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَيَّ غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللهِ مُلُوكًا عَلَى الْأَسِرَّةِ أَوْ مِثْلَ الْمُلُوكِ عَلَى الْأَسِرَّةِ كَمَا قَالَ فِي الْأُولَى قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ ادْعُ اللهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَقَالَ أَنْتِ مِنْ الْأَوَّلِينَ قَالَ فَرَكِبَتْ الْبَحْرَ فِي زَمَانِ مُعَاوِيَةَ فَصُرِعَتْ عَنْ دَابَّتِهَا حِينَ خَرَجَتْ مِنْ الْبَحْرِ فَهَلَكَتْ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোবায় তশরীফ নিয়ে যেতেন তখন উম্মে হারাম বিনত মিলহান (রাঃ)-এর বাড়িতে যেতেন। উম্মে হারাম (রাঃ) তাঁকে সেখানে আহার করাতেন। উম্মে হারাম (রাঃ) ছিলেন উবাদা ইবনু সামেত (রাঃ)-এর স্ত্রী। একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর বাড়িতে গেলেন। উম্মে হারাম (রাঃ) তাঁকে আহার করিয়ে মাথার চুল বাছতে বসে গেলেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন, হঠাৎ হাসতে হাসতে তিনি জাগ্রত হলেন। উম্মে হারাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হাসছেন কেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক আমাকে দেখানো হল বাদশাহগণ যেমন সিংহাসনে আসীন হন তদ্রূপ তারা জিহাদ করার জন্য সমুদ্রের বুকে আরোহণ করতেছে। উম্মে হারাম (রাঃ) তখন আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দোয়া করে দিন আমাকেও যেন আল্লাহ্ তা’আলা এদের মধ্যে শামিল করে নেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দোয়া করলেন এবং আবার ঘুমিয়ে পড়লেন।পুনরায় তিনি হেসে জাগ্রত হয়ে উঠলেন। উম্মে হারাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হাসছেন কেন? তিনি বললেন, আমাকে দেখানো হল আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক বাদশাহদের সিংহাসনারোহী হওয়ার মতো জিহাদের উদ্দেশ্যে সমুদ্রের বুকে বিচরণ করতেছে। উম্মে হারাম (রাঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দোয়া করে দিন, আল্লাহ্ যেন আমাকে এদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন; তুমি তো প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছ। পরে এই উম্মে হারাম (রাঃ) মু’আবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর সাথে জিহাদে সমুদ্রযাত্রায় শরীক হয়েছিলেন। ফিরবার পথে জাহাজ হতে অবতরণ করার পর সওয়ারী হতে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
(বুখারী ২৭৮৯, ২৮০০, মুসলিম ১৯১২)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মে হারাম বিনত মিলহান (রা)-এর ঘরে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যাওয়া, আহার করা এবং এক আশ্চর্য স্বপ্নের কথা এসেছে। নবীজি ঘুম থেকে হাসতে হাসতে উঠে বলেন, তাঁর উম্মতের কিছু মানুষকে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য সমুদ্রের বুকে চলতে দেখানো হয়েছে; তাঁদের অবস্থা ছিল যেন সিংহাসনে বসা বাদশাহদের মতো। উম্মে হারাম (রা) দোয়া চান যেন তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হন। নবীজি তাঁর জন্য দোয়া করেন এবং পরে বলেন, তিনি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত। বর্ণনার শেষে দেখা যায়, তিনি মু’আবিয়া (রা)-এর সময়ে সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেন এবং ফেরার পথে সওয়ারী থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। এখানে দোয়া, জিহাদে অংশগ্রহণ এবং আল্লাহর পথে আগ্রহের শিক্ষা স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবিয়ারা আল্লাহর পথে কাজের সুযোগ পেতে আগ্রহী ছিলেন।
- নবীজির দোয়া উম্মে হারাম (রা)-এর জন্য বিশেষ সম্মানের কারণ হয়।
- সমুদ্রযাত্রার জিহাদ এই বর্ণনায় মর্যাদাপূর্ণভাবে এসেছে।
- সৎ কাজে অংশ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা মুমিনের হৃদয়ে থাকা ভালো।
