২১/১৯. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৯৪ - ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার নববী নিয়ম
ঘোড়া, ঘোড়দৌড় এবং জিহাদে ব্যয় করার ফযীলত
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ন্যায্য নিয়মের শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৯৯৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৯৯৪
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَابَقَ بَيْنَ الْخَيْلِ الَّتِي قَدْ أُضْمِرَتْ مِنْ الْحَفْيَاءِ وَكَانَ أَمَدُهَا ثَنِيَّةَ الْوَدَاعِ وَسَابَقَ بَيْنَ الْخَيْلِ الَّتِي لَمْ تُضَمَّرْ مِنْ الثَّنِيَّةِ إِلَى مَسْجِدِ بَنِي زُرَيْقٍ وَأَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ مِمَّنْ سَابَقَ بِهَا.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ‘ইযমার’ [১] কৃত ঘোড়ার জন্য ‘হাফইয়া’ হতে সানিয়া তুলবিদা পর্যন্ত (পাঁচ মাইল) সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। আর সাধারণ ঘোড়ার জন্য সানিয়াতুল বিদা হতে মসজিদে বনী যুরাইক পর্যন্ত (এক মাইল) সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। আবদুল্লাহ্ ইবনু উমর (রাঃ) এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় শরীক ছিলেন।
[১] বিশেষ এক প্রক্রিয়ায় ঘোড়াকে ছিমছাম ও দ্রুতগামী করাকে আরবীতে ‘ইযমার’ বলা হয়। (বুখারী ৪২১, মুসলিম ১৮৭০)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময়ে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার নিয়মের কথা এসেছে। প্রশিক্ষিত বা ‘ইযমার’ করা ঘোড়ার জন্য হাফইয়া থেকে সানিয়াতুল বিদা পর্যন্ত দীর্ঘ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর সাধারণ ঘোড়ার জন্য সানিয়াতুল বিদা থেকে মসজিদে বনী যুরাইক পর্যন্ত ছোট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। হাদিসটি দেখায়, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর সক্ষমতা অনুযায়ী ন্যায্য নিয়ম করা দরকার। প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত ঘোড়ার জন্য একই দূরত্ব না রেখে আলাদা সীমা রাখা হয়েছে। তাই এখানে ঘোড়দৌড়, প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থাপনার শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অনুযায়ী ন্যায্য নিয়ম থাকা উচিত।
- প্রশিক্ষিত ও সাধারণ ঘোড়ার জন্য আলাদা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
- শারীরিক প্রস্তুতি ও অনুশীলনের মূল্য এই বর্ণনায় বোঝা যায়।
- সাহাবীরা নবীজির সময়ে বৈধ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন।
