১২/১৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০৫১ - রুকুতে ঈমান ও তাওয়াক্কুল
অন্য প্রকার দু‘আ
রুকুর দোয়ায় ঈমান, আত্মসমর্পণ ও তাওয়াক্কুল
সুনানে আন-নাসায়ী : ১০৫১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১০৫১
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حَيْوَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَكَعَ قَالَ: «اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، أَنْتَ رَبِّي، خَشَعَ سَمْعِي وَبَصَرِي، وَدَمِي وَلَحْمِي، وَعَظْمِي وَعَصَبِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالِمِينَ»
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত যে, তিনি যখন রুকু করতেন তখন বলতেন- "আল্ল-হুম্মা লাকা রকা'তু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়ালাকা আসলামতু ওয়া 'আলায়কা তাওয়াক্কালতু আনতা রব্বী খশা'আ সাম্'ঈ ওয়া বাসারী ওয়াদামী ওয়া লাহমী ওয়া 'আযমী ওয়া 'আসাবী লিল্লা-হি রব্বিল 'আ-লামীন' (হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রুকু করলাম, আমি তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, তোমারই প্রতি আমি আত্মসমর্পণ করেছি, আমি তোমারই ওপর ভরসা করেছি, তুমিই আমার প্রভু। আমার কর্ণ, চক্ষু, রক্ত, মাংস, অস্থি ও ধমনী বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য বিনয়াবনত হল)।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের রুকুর দোয়ায় কয়েকটি গভীর অর্থ একসঙ্গে এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলতেন, তিনি আল্লাহর জন্য রুকু করেছেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন, তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং তাঁর ওপর ভরসা করেছেন। এরপর “তুমিই আমার রব” বলে সম্পর্কটি স্পষ্ট করা হয়েছে। দোয়ায় কান, চোখ, রক্ত, মাংস, হাড় ও ধমনীর বিনয়ের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ রুকুতে শুধু মাথা ও পিঠ নয়, পুরো সত্তার আনুগত্য প্রকাশ পায়। হাদিসটি নামাজের খুশু বোঝার জন্য খুব সরাসরি একটি ভাষা দেয়। এখানে যে শব্দগুলো এসেছে, সেগুলোই মূল শিক্ষা; এর বাইরে বাড়তি ফল বা নিশ্চয়তা যোগ করা উচিত নয়। দোয়াটি বুঝে পড়লে ঈমান, তাওয়াক্কুল ও শারীরিক বিনয়কে একই আমলে একত্র করা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকুর দোয়ায় আল্লাহর প্রতি ঈমান ও আত্মসমর্পণ প্রকাশ করা হয়েছে।
- আল্লাহর ওপর ভরসা এবং তাঁকে রব হিসেবে স্বীকার করার কথা এসেছে।
- পুরো দেহের বিনয়কে রুকুর ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
