১২/২২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০৬২ - বরকতময় হামদের ফজিলত
মুক্তাদী যা বলবে
রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ: বরকতময় প্রশংসার ফজিলত
সুনানে আন-নাসায়ী : ১০৬২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১০৬২
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ قَالَ: كُنَّا يَوْمًا نُصَلِّي وَرَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ قَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، قَالَ رَجُلٌ وَرَاءَهُ: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ الْمُتَكَلِّمُ آنِفًا؟» فَقَالَ الرَّجُلُ: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ رَأَيْتُ بِضْعَةً وَثَلَاثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَكْتُبُهَا أَوَّلًا»
রিফা'আহ্ ইবনু রাফি' (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে সালাত আদায় করছিলাম। তিনি যখন রুকূ' হতে মাথা উঠালেন, তখন বললেন, "সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” (যে বান্দা আল্লাহর হাম্দ বা প্রশংসা করে আল্লাহ তার হাম্দ শ্রবণ করেন)। তাঁর পিছনে এক ব্যক্তি বলে উঠল- "রব্বানা- ওয়ালাকাল হাম্দু হাম্দান কাসীরন ত্বইয়িবাম্ “মুবা-রকান ফীহি” (হে আমাদের পালনকর্তা! অগণিত, উত্তম, বারাকাতময় যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র তোমারই জন্যে।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শেষ করে বললেন, এখন কে কথা বলল? সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি ত্রিশের ঊর্ধ্বে মালাক (ফেরেশতা)-কে দেখেছি তা নিয়ে তাড়াহুড়া করছে, কে তা সর্বাগ্রে লিখবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রুকু থেকে ওঠার পর আল্লাহর প্রশংসা করার একটি সুন্দর বাক্য শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলার পর পেছনের এক সাহাবি বলেন, ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ হামদান কাসীরান তইয়্যিবান মুবারাকান ফিহি।’ এর অর্থ হলো, হে আমাদের রব, তোমার জন্য অনেক, উত্তম ও বরকতময় প্রশংসা। সালাত শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم) জানতে চান, কথাটি কে বলেছে। সাহাবি নিজের পরিচয় দিলে তিনি জানান, ত্রিশের বেশি ফেরেশতা এই প্রশংসা কে আগে লিখবে তা নিয়ে তাড়াহুড়া করছিল। হাদিসটি দেখায়, সালাতের ভেতরে আল্লাহর হামদ কত মর্যাদাপূর্ণ হতে পারে। তবে এখানে বর্ণিত ফজিলত ঠিক সেই প্রশংসাবাক্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই শব্দগুলোর অর্থ বুঝে, বিনয়ের সঙ্গে এবং যথাস্থানে বলা গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকু থেকে ওঠার পর আল্লাহর প্রশংসা করা সালাতের গুরুত্বপূর্ণ যিকর।
- ‘হামদান কাসীরান তইয়্যিবান মুবারাকান ফিহি’ বাক্যে বেশি, উত্তম ও বরকতময় হামদ প্রকাশ করা হয়।
- হাদিসে এই প্রশংসা লিখতে ত্রিশের বেশি ফেরেশতার আগ্রহের কথা এসেছে।
- ভালো কথা বলার পর সত্যভাবে নিজের পরিচয় দেওয়ার দৃষ্টান্তও এতে আছে।
