১২/২৩. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০৬৪ - জামাতে সালাতের পূর্ণ পদ্ধতি

মুক্তাদীর "রব্বানা- ওয়ালাকাল হাম্দ" বলা

জামাতে সালাতের নিয়ম: কাতার, আমীন, রুকু ও তাশাহহুদ

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১০৬৪

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا مُوسَى قَالَ: إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَنَا وَبَيَّنَ لَنَا سُنَّتَنَا وَعَلَّمَنَا صَلَاتَنَا، فَقَالَ: «إِذَا صَلَّيْتُمْ فَأَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ، ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ، فَإِذَا كَبَّرَ الْإِمَامُ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا قَرَأَ {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7]، فَقُولُوا: آمِينَ، يُجِبْكُمُ اللَّهُ، وَإِذَا كَبَّرَ وَرَكَعَ، فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوا، فَإِنَّ الْإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ»، قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَتِلْكَ بِتِلْكَ، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، فَقُولُوا: اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ يَسْمَعِ اللَّهُ لَكُمْ، فَإِنَّ اللَّهَ قَالَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، فَإِذَا كَبَّرَ وَسَجَدَ، فَكَبِّرُوا وَاسْجُدُوا، فَإِنَّ الْإِمَامَ يَسْجُدُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ»، قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَتِلْكَ بِتِلْكَ، فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ فَلْيَكُنْ مِنْ أَوَّلِ قَوْلِ أَحَدِكُمُ التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ، سَلَامٌ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، سَلَامٌ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، سَبْعُ كَلِمَاتٍ وَهِيَ تَحِيَّةُ الصَّلَاةِ»---[حكم الألباني] صحيح م دون قوله سبع

আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নাবী (ﷺ) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন এবং আমাদেরকে আমাদের কর্মপদ্ধতি শিক্ষা দিলেন, সালাত শিক্ষা দিলেন। তিনি বললেন, যখন তোমরা সালাত আদায় করবে, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করবে। অতঃপর তোমাদের একজন ইমামাত করবে। যখন ইমাম তাকবির বলবে তখন তোমরাও তাকবির বলবে। আর ইমাম যখন- "গয়রিল মাগযুবি 'আলায়হিম ওয়ালায় যো-ল্লীন” বলবে তখন তোমরা 'আ-মীন' বলবে। তাহলে আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করবেন। আর ইমাম যখন ইমাম তাকবির বলে রুকূ' করবে তখন তোমরাও তাকবির বলে রুকূ' করবে। কেননা ইমাম রুকূ' করবে তোমাদের পূর্বে এবং রুকূ' হতে উঠবে তোমাদের পূর্বে।নাবী (ﷺ) বললেন, এটা তার পরিপূরক হবে। আর যখন ইমাম বলবে, “সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ" তখন তোমরা বলবে "রব্বানা- ওয়ালাকাল হাম্দ"। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কথা শুনবেন। কারণ, আল্লাহ তা'আলা তাঁর নাবীর ভাষায় বলেন, যে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করে আল্লাহ তা শ্রবণ করেন। অতঃপর ইমাম যখন তাকবির বলে সিজদায় যাবে তোমরাও তখন তাকবির বলে সিজদায় যাবে। কারণ, ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদাহ্ করে আর তোমাদের পূর্বে মাথা উঠায়। নাবী (ﷺ) বলেছেন: এটা তার পরিপূরক।আর যখন বৈঠকে বসবে তখন তোমাদের প্রথম কথা হবে- التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ، سَلَامٌ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، سَلَامٌ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ “আত্তাহিয়্যাতুত্ ত্বইয়িবা-তুস্ সলাওয়া-তু লিল্লা-হি সালা-মুন 'আলায়কা আইয়ুহান্ নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহু সালা-মুন 'আলায়না- ওয়া 'আলা- 'ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীনা আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান 'আবদুহু ওয়া রাসূলুহ।" (মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক যাবতীয় 'ইবাদাত আল্লাহর জন্যই। হে নাবী! আপনার ওপর শান্তি (সালাম), আল্লাহর রহমাত ও তাঁর বারাকাত বর্ষণ হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের ওপর শান্তি বর্ষণ হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর দাস ও প্রেরিত রাসূল।)- এ সাতটি বাক্য হচ্ছে সালাতের অভিবাদন বা সম্মান।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০৬৪-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে জামাতে সালাতের কয়েকটি মৌলিক ধাপ একসঙ্গে শেখানো হয়েছে। প্রথমে কাতার সোজা করতে বলা হয়েছে। এরপর একজন ইমাম হবে এবং মুসল্লিরা তাঁর অনুসরণ করবে। ইমাম তাকবির বললে তাকবির বলতে হবে। তিনি সূরা ফাতিহার শেষ অংশ পড়লে ‘আমীন’ বলতে হবে। ইমাম রুকু ও সিজদায় গেলে তাঁর পরে মুক্তাদিরাও যাবে। রুকু থেকে উঠে ইমাম ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বললে মুসল্লিরা ‘আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ’ বলবে। হাদিসে বৈঠকের শুরুতে তাশাহহুদের বাক্যও শেখানো হয়েছে। তাই এটি জামাতে নামাজের নিয়ম, ইমামের অনুসরণ এবং সালাতের যিকর বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বর্ণনা। মূল কথা হলো—কাতার থেকে তাশাহহুদ পর্যন্ত প্রতিটি কাজ নির্ধারিত ধারায়, শৃঙ্খলার সঙ্গে এবং ইমামের পরে সম্পন্ন করা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সালাত শুরু করার আগে জামাতের কাতার সোজা করতে হবে।
  • তাকবির, রুকু ও সিজদায় ইমামের অনুসরণ করতে হবে।
  • সূরা ফাতিহার শেষে ইমামের পর ‘আমীন’ বলতে বলা হয়েছে।
  • বৈঠকের শুরুতে হাদিসে বর্ণিত তাশাহহুদের বাক্য পড়তে হবে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন