১৬/১১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৪৭২ - দীর্ঘ কিরাআতসহ সূর্যগ্রহণের সালাত
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে আর এক প্রকার বর্ণনা
সূর্যগ্রহণের সালাতের পূর্ণ বিবরণ: দীর্ঘ কিরাআত ও চার রুকু
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৪৭২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৪৭২
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ فَكَبَّرَ، وَصَفَّ النَّاسُ وَرَاءَهُ، فَاقْتَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً، ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ»، ثُمَّ قَامَ فَاقْتَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الْأُولَى، ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا هُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ قَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ»، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الْأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ، فَاسْتَكْمَلَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ، وَانْجَلَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ، ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ النَّاسَ، فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ تَعَالَى لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَصَلُّوا حَتَّى يُفْرَجَ عَنْكُمْ»، وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَأَيْتُ فِي مَقَامِي هَذَا كُلَّ شَيْءٍ وُعِدْتُمْ، لَقَدْ رَأَيْتُمُونِي أَرَدْتُ أَنْ آخُذَ قِطْفًا مِنَ الْجَنَّةِ حِينَ رَأَيْتُمُونِي جَعَلْتُ أَتَقَدَّمُ، وَلَقَدْ رَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا حِينَ رَأَيْتُمُونِي تَأَخَّرْتُ، وَرَأَيْتُ فِيهَا ابْنَ لُحَيٍّ وَهُوَ الَّذِي سَيَّبَ السَّوَائِبَ»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ লেগে গেল। তখন তিনি সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তাকবির বললেন, মুসল্লীরাও তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) লম্বা করে ক্বিরাআত পড়লেন। তারপর তাকবির বললেন ও দীর্ঘ রুকূ' করলেন। তারপর মাথা উঠালেন ও বললেন, “সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হাম্দ” তারপর দাঁড়ালেন ও লম্বা ক্বিরাআত পড়লেন, যা পূর্ববর্তী ক্বিরাআত থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল, তারপর তাকবির বললেন ও লম্বা রুকূ' করলেন, যা পূর্ববর্তী রুকূ' থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল, পরে বললেন, "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হাম্দ” তারপর সিজদাহ্ করলেন। পরে দ্বিতীয় রাক্'আতেও অনুরূপই করলেন। এভাবে তিনি চার রুকূ' এবং চার সিজদাহ্ পূর্ণ করলেন, আর তাঁর সালাত শেষ করে প্রত্যাবর্তনের পূর্বে সূর্যও আলোকিত হয়ে গেল।পরে তিনি দাঁড়ালেন ও লোকেদের সামনে খুত্ববাহ্ দিলেন এবং আল্লাহ তা'আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করে বললেন, সূর্য এবং চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দু'টি নিদর্শন। তাদের গ্রহণ কারও জন্ম-মৃত্যুর কারণে হয় না। অতএব, তোমরা যখন তাদের গ্রহণ দেখবে, তখন তোমরা সালাত আদায় করতে থাকবে যতক্ষণ না তোমরা ভীতিমুক্ত হও। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, আমি আমার এ দাঁড়ানো অবস্থায় থেকে তোমাদের জন্যে ওয়া'দাকৃত সমুদয় বস্তু দেখতে পেয়েছি। তোমরা আমাকে দেখেছো যে, যখন আমি অগ্রসর হচ্ছিলাম তখন আমি জান্নাতের একটি আঙ্গুরের থোকা ধরার ইচ্ছা করেছিলাম, যখন তোমরা আমাকে পিছু হটতে দেখলে, তখন আমি জাহান্নামকে দেখলাম যে, তার কিয়দংশ কিয়দংশকে খেয়ে ফেলেছে। আর আমি তাতে ইবনু লুহাইকেও দেখেছি যে, চতুষ্পদ জন্তুকে ছেড়ে দেয়ার প্রথা চালু করেছিল।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৪৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাত খুব বিস্তারিতভাবে এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم তাকবির দিয়ে সালাত শুরু করেন, লোকেরা তাঁর পেছনে কাতারবন্দী হয়। প্রথমে দীর্ঘ কিরাআত, তারপর দীর্ঘ রুকু; এরপর আবার দাঁড়িয়ে আগের চেয়ে কিছুটা ছোট কিরাআত ও রুকু করেন। দ্বিতীয় রাকাতেও একই ধারা অনুসরণ করে মোট চার রুকু ও চার সিজদা পূর্ণ করেন। সালাত শেষ হওয়ার আগেই সূর্য আলোকিত হয়। পরে খুতবায় তিনি বলেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন, কারও জন্ম-মৃত্যুর কারণে গ্রহণ হয় না। গ্রহণ দেখা গেলে স্বস্তি ফিরে আসা পর্যন্ত সালাত করতে বলেন। বর্ণনায় জান্নাতের আঙ্গুরের থোকা, জাহান্নামের দৃশ্য এবং ইবনু লুহাইয়ের কথাও এসেছে। তাই হাদিসটি ইবাদত, সতর্কতা ও আখিরাতের স্মরণ একসঙ্গে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্যগ্রহণের সালাতে দীর্ঘ কিরাআত ও দীর্ঘ রুকু করা হয়েছে।
- দুই রাকাতে মোট চার রুকু ও চার সিজদা সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রহণকে কারও জন্ম বা মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি।
- খুতবায় জান্নাত, জাহান্নাম ও আখিরাতের সতর্কতা এসেছে।
