১৬/১৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৪৯৩ - গ্রহণের সালাত ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা
সূর্য গ্রহণকালীন সলাত ক্বিরাআতের পরিমাণ
সূর্যগ্রহণের সালাত, আল্লাহর যিকর ও অকৃতজ্ঞতার সতর্কতা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৪৯৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৪৯৩
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ مَعَهُ، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، قَرَأَ نَحْوًا مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ قَالَ: ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ انْصَرَفَ، وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ، فَقَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ هَذَا، ثُمَّ رَأَيْنَاكَ تَكَعْكَعْتَ، قَالَ: «إِنِّي رَأَيْتُ الْجَنَّةَ - أَوْ أُرِيتُ الْجَنَّةَ - فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا عُنْقُودًا، وَلَوْ أَخَذْتُهُ لَأَكَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا، وَرَأَيْتُ النَّارَ فَلَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ مَنْظَرًا قَطُّ، وَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ» قَالُوا: لِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «بِكُفْرِهِنَّ»، قِيلَ: يَكْفُرْنَ بِاللَّهِ؟ قَالَ: " يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ، وَيَكْفُرْنَ الْإِحْسَانَ، لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ "
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার সূর্যগ্রহণ লাগল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু' রাক্'আত সালাত আদায় করলেন। অন্যান্য মানুষও তাঁর সঙ্গে ছিল। তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে তাতে সূরা বাক্বারার পরিমাণ ক্বিরাআত পড়লেন। তিনি বলেন, তারপর দীর্ঘক্ষণ রুকূ' করলেন, এরপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ালেন কিন্তু তা আগের দাঁড়ানো থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর দীর্ঘক্ষণ রুকূ' করলেন আর তা আগের রুকূ' থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল, তারপর সাজদাহ্ করলেন।পরে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ালেন কিন্তু তা পূর্ববর্তী দাঁড়ানো থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকূ' করলেন, আর তা আগের রুকূ' থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল, তারপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ালেন আর তা পূর্ববর্তী দাঁড়ানো থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। পুনরায় লম্বা রুকূ' করলেন, আর তা আগের রুকূ' থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর সাজদাহ্ করলেন, আর এভাবে সালাত শেষ করলেন। ইত্যবসরে সূর্য আলোকিত হয়ে গেল। তিনি বললেন, চন্দ্র-সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দু'টি নিদর্শন, কারো জন্ম-মৃত্যুর কারণে তাদের গ্রহণ হয় না। অতএব, তোমরা যখন তা দেখবে তখন আল্লাহর স্মরণ করবে।তাঁরা (সহাবীগণ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দেখলাম যে, আপনি আপনার এ স্থানে কোন কিছু ধরতে চাইলেন। তারপর আপনাকে দেখলাম যে, আপনি পিছু হটে গেলেন। তিনি বললেন, আমি জান্নাত দেখলাম অথবা আমাকে তা দেখানো হলো। আমি তা থেকে একটি আঙ্গুরের ছড়া নিতে চাইলাম। যদি আমি তা নিতাম তাহলে অবশ্যই তোমরা তা থেকে পৃথিবী বিদ্যমান থাকা অবধি খেতে পারতে, আর আমি জাহান্নামও দেখলাম। আমি আজ যে দৃশ্য দেখেছি তা আর কখনো দেখিনি। আর আমি তার অধিকাংশ অধিবাসী মহিলাদেরকে দেখেছি।তাঁরা বলল, (এরূপ) কেন? হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, তাদের নাশোকরীর কারণে। বলা হলো, তারা কি আল্লাহর নাশোকরী করে? তিনি বললেন, তারা স্বামীর নাশোকরী করে, তারা দয়ার নাশোকরী করে। যদি তুমি তাদের কারো প্রতি সুদীর্ঘকাল দয়া করে থাক, এরপর যদি তোমার কাছে অমনোপূত সামান্য কোন কিছুও দেখতে পায়, তা হলে বলবে, আমি তোমার কাছে মনোপূত কোন কিছু কখনও দেখিনি।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৪৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাতের বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, সূর্যগ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মানুষকে নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন, প্রায় সূরা বাক্বারার পরিমাণ কিরাআত পড়েন, তারপর দীর্ঘ রুকু করেন। এরপর আবার দাঁড়ান, তবে আগের চেয়ে সংক্ষিপ্ত। এভাবে কিয়াম, রুকু ও সিজদার দীর্ঘ বর্ণনা এসেছে। সালাত শেষে তিনি বলেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন; কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে তাদের গ্রহণ হয় না। গ্রহণ দেখলে আল্লাহকে স্মরণ করতে বলা হয়েছে। এরপর জান্নাত ও জাহান্নামের দৃশ্যের কথা আসে। নারীদের বিষয়ে অকৃতজ্ঞতার সতর্কতাও বর্ণিত হয়েছে—বিশেষ করে স্বামী ও উপকারের অকৃতজ্ঞতা। তাই এই হাদিস গ্রহণের সালাতের পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গ্রহণ দেখলে আল্লাহর যিকর করতে বলা হয়েছে।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم গ্রহণের সালাতে দীর্ঘ কিয়াম ও রুকু করেছেন।
- কারও জন্ম-মৃত্যুর কারণে গ্রহণ হয় না।
- উপকার ও দাম্পত্য জীবনে অকৃতজ্ঞতা থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
