১৬/১৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৪৮২ - গ্রহণের সময় যিকর ও সতর্কতা
অন্য আর এক প্রকার বিবরণ
সূর্যগ্রহণের সময় যিকর, সালাত ও আল্লাহভীতি
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৪৮২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৪৮২
أَخْبَرَنَا هِلَالُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي السَّائِبُ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو حَدَّثَهُ، قَالَ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الصَّلَاةِ وَقَامَ الَّذِينَ مَعَهُ، فَقَامَ قِيَامًا فَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَسَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَجَلَسَ فَأَطَالَ الْجُلُوسَ، ثُمَّ سَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَقَامَ فَصَنَعَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ مَا صَنَعَ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مِنَ الْقِيَامِ وَالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَالْجُلُوسِ، فَجَعَلَ يَنْفُخُ فِي آخِرِ سُجُودِهِ مِنَ الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ، وَيَبْكِي وَيَقُولُ: «لَمْ تَعِدْنِي هَذَا وَأَنَا فِيهِمْ، لَمْ تَعِدْنِي هَذَا وَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُكَ»، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَانْجَلَتِ الشَّمْسُ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَخَطَبَ النَّاسَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: " إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَإِذَا رَأَيْتُمْ كُسُوفَ أَحَدِهِمَا فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَقَدْ أُدْنِيَتِ الْجَنَّةُ مِنِّي، حَتَّى لَوْ بَسَطْتُ يَدِي لَتَعَاطَيْتُ مِنْ قُطُوفِهَا، وَلَقَدْ أُدْنِيَتِ النَّارُ مِنِّي، حَتَّى لَقَدْ جَعَلْتُ أَتَّقِيهَا خَشْيَةَ أَنْ تَغْشَاكُمْ، حَتَّى رَأَيْتُ فِيهَا امْرَأَةً مِنْ حِمْيَرَ تُعَذَّبُ فِي هِرَّةٍ رَبَطَتْهَا، فَلَمْ تَدَعْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ، فَلَا هِيَ أَطْعَمَتْهَا وَلَا هِيَ سَقَتْهَا حَتَّى مَاتَتْ، فَلَقَدْ رَأَيْتُهَا تَنْهَشُهَا إِذَا أَقْبَلَتْ، وَإِذَا وَلَّتْ تَنْهَشُ أَلْيَتَهَا، وَحَتَّى رَأَيْتُ فِيهَا صَاحِبَ السِّبْتِيَّتَيْنِ أَخَا بَنِي الدَّعْدَاعِ يُدْفَعُ بِعَصًا ذَاتِ شُعْبَتَيْنِ فِي النَّارِ، وَحَتَّى رَأَيْتُ فِيهَا صَاحِبَ الْمِحْجَنِ، الَّذِي كَانَ يَسْرِقُ الْحَاجَّ بِمِحْجَنِهِ مُتَّكِئًا عَلَى مِحْجَنِهِ فِي النَّارِ، يَقُولُ: أَنَا سَارِقُ الْمِحْجَنِ "
'আবদুলাহ ইবনু 'আম্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু সায়িব (রহঃ) হতে বর্ণিত। 'আবদুলাহ ইবনু 'আম্র (রাঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে একবার সূর্যের গ্রহণ লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন আর তাঁর সাথে যারা ছিল তাঁরাও দাঁড়িয়ে গেল। তিনি দাঁড়ালেন আর দাঁড়ানোকে দীর্ঘ করলেন, তারপর রুকূ' করলেন আর রুকূ'কেও দীর্ঘ করলেন। তারপর তাঁর মাথা উঠালেন ও সিজদাহ্ করলেন এবং সিজদাকেও লম্বা করলেন। তারপর মাথা উঠালেন ও বসলেন, আর বসাকেও দীর্ঘ করলেন। তারপর সিজদাহ্ করলেন এবং সিজদাকেও দীর্ঘ করলেন। তারপর মাথা উঠালেন ও দাঁড়িয়ে গেলেন।তিনি প্রথম রাক্'আতে যা যা করেছিলেন। অর্থাৎ, দাঁড়ানো, রুকূ', সিজদাহ্ এবং বসা। তদ্রূপ দ্বিতীয় রাক্'আতেও করলেন। তিনি দ্বিতীয় রাক্'আতের শেষ সিজদায় ফুঁক মারতে লাগলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, (হে আল্লাহ!) আমি তাদের মাঝে বিদ্যমান থাকাকালীন তুমি তাদের এমন শাস্তি দেয়ার ওয়া'দা আমার নিকট করনি, তোমার নিকট মাগফিরাত চাওয়াকালীন তুমি তো আমার কাছে তাদের শাস্তি দেয়ার ওয়া'দা করনি। তারপর তিনি মাথা উঠালেন এবং সূর্যও আলোকিত হয়ে গেল।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং খুত্ববাহ্ দিলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা এবং গুণগান করলেন। তারপর বললেন, সূর্য এবং চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দু'টি নিদর্শন। অতএব, যখন তোমরা তাদের কোনটার গ্রহণ দেখতে পাও, তখন আল্লাহ তা'আলার যিক্র অভিমুখে দ্রুত ধাবিত হও। ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয় জান্নাত আমার নিকটবর্তী করে দেয়া হয়েছিল, আমি যদি হস্ত প্রসারিত করতাম তাহলে আমি তার ফলরাশি ধরতে পারতাম আর জাহান্নামও আমার নিকটবর্তী করে দেয়া হয়েছিল।আমি তাঁর থেকে বেঁচে থাকতে লাগলাম এ ভয়ে যে, তা তোমাদের বেহুঁশ করে না ফেলে! আমি তাতে হিয়ার গোত্রের এক মহিলাকে দেখতে পেলাম। তাকে একটি বিড়ালের কারণে 'আযাব দেয়া হচ্ছে, যাকে সে বেঁধে রেখেছিল। তাকে জমিনের কীট-পতঙ্গ খাওয়ার জন্যে ছেড়েও দিত না আর তাকে সে খাদ্য ও পানিও দিত না, এমনকি বিড়ালটা মারা গিয়েছিল।আমি তাকে দেখতে পেলাম যে, বিড়ালটি ঐ মহিলাকে খামচাচ্ছে। যখনই সে তার দিকে মুখ করেছে, আর যখন সে পিছনে ফিরেছে, তখন তাঁর নিতম্বে খামচাচ্ছে। এমনকি আমি তাতে দাদা' গোত্রের জুতাওয়ালাকেও দেখেছি, তাকে দু' শাখা বিশিষ্ট একটি লাঠি দ্বারা ঠেলে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আমি তাতে মাথা বাঁকা লাঠিওয়ালা মানুষটিকে দেখেছি, যে বক্র মাথা লাঠি দ্বারা হাজীদের মাল চুরি করত। সে জাহান্নামে বক্র মাথা লাঠিতে ঠেস দিয়ে বলছে, আমি বক্র মাথা লাঠি দ্বারা চুরি করতাম।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৪৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাতের সঙ্গে আল্লাহর যিকর ও সতর্কতার কথা এসেছে। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, সূর্যগ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সালাতে দাঁড়ান এবং সাহাবীরাও দাঁড়ান। তিনি দীর্ঘ কিয়াম, দীর্ঘ রুকু, দীর্ঘ সিজদা এবং দীর্ঘ বসা করেন। শেষ সিজদায় তিনি কাঁদতে থাকেন এবং আল্লাহর কাছে বলেন যে, তিনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় এবং তারা মাফ চাইতে থাকা অবস্থায় শাস্তির ওয়াদা করা হয়নি। এরপর সূর্য আলোকিত হলে তিনি খুতবা দেন। তিনি বলেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনের দুটি নিদর্শন। তাই গ্রহণ দেখলে আল্লাহর যিকরের দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। এই বর্ণনায় জান্নাত, জাহান্নাম, বিড়ালকে কষ্ট দেওয়া এবং হাজীদের মাল চুরির শাস্তির কথাও এসেছে। তাই কুসুফের নামাজ শুধু একটি আমল নয়; এটি অন্তরকে জাগিয়ে দেওয়ার শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গ্রহণ দেখলে আল্লাহর যিকরের দিকে দ্রুত মন দেওয়া উচিত।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم গ্রহণের সময় দীর্ঘ সালাত আদায় করেছেন।
- প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা গুরুতর শাস্তির কারণ হতে পারে।
- চুরি, বিশেষ করে হাজীদের মাল চুরি, কঠিন অপরাধ হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
