১৬/২০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৪৯৬ - গ্রহণে কান্না, মাগফিরাত ও সতর্কতা
গ্রহণকালীন সলাতে সাজদায় কথা বলা
সূর্যগ্রহণে কান্না, মাগফিরাত ও আল্লাহর স্মরণ
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৪৯৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৪৯৬
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمِسْوَرِ الزُّهْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: كَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ، ثُمَّ رَفَعَ فَأَطَالَ ـ قَالَ شُعْبَةُ: وَأَحْسَبُهُ قَالَ: فِي السُّجُودِ نَحْوَ ذَلِكَ ـ وَجَعَلَ يَبْكِي فِي سُجُودِهِ وَيَنْفُخُ وَيَقُولُ: «رَبِّ لَمْ تَعِدْنِي هَذَا وَأَنَا أَسْتَغْفِرُكَ، لَمْ تَعِدْنِي هَذَا وَأَنَا فِيهِمْ»، فَلَمَّا صَلَّى قَالَ: " عُرِضَتْ عَلَيَّ الْجَنَّةُ حَتَّى لَوْ مَدَدْتُ يَدِي تَنَاوَلْتُ مِنْ قُطُوفِهَا، وَعُرِضَتْ عَلَيَّ النَّارُ فَجَعَلْتُ أَنْفُخُ خَشْيَةَ أَنْ يَغْشَاكُمْ حَرُّهَا، وَرَأَيْتُ فِيهَا سَارِقَ بَدَنَتَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَرَأَيْتُ فِيهَا أَخَا بَنِي دُعْدُعٍ سَارِقَ الْحَجِيجِ، فَإِذَا فُطِنَ لَهُ قَالَ: هَذَا عَمَلُ الْمِحْجَنِ، وَرَأَيْتُ فِيهَا امْرَأَةً طَوِيلَةً سَوْدَاءَ تُعَذَّبُ فِي هِرَّةٍ رَبَطَتْهَا، فَلَمْ تُطْعِمْهَا وَلَمْ تَسْقِهَا، وَلَمْ تَدَعْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ حَتَّى مَاتَتْ، وَإِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَإِذَا انْكَسَفَتْ إِحْدَاهُمَا ـ أَوْ قَالَ: فَعَلَ أَحَدُهُمَا شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ ـ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ "
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ লেগে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করলেন, আর দাঁড়ানোকে লম্বা করলেন। তারপর রুকূ' করলেন আর রুকূ'কেও লম্বা করলেন। অতঃপর মাথা উঠালেন এবং তার (দাঁড়ানো) দীর্ঘায়িত করলেন। রাবী শু'বাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি মনে করি যে, তিনি সিজদার ব্যাপারেও অনুরূপ বলেছেন এবং তিনি সিজদায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, 'হে রব! আমি তোমার কাছে মাগফিরাত চাওয়াকালীন তুমি তো এরূপ 'আযাবের ওয়া'দা করনি? আমি তাদের মাঝে অবস্থানকালীন তুমি তো আমার কাছে এরূপ শাস্তির প্রতিশ্রুতি করনি।যখন তিনি সালাত আদায় করে নিলেন তখন বললেন, আমার সামনে জান্নাত হাজির করা হয়েছিল, এমনকি যদি আমি হস্ত প্রসারিত করতাম তাহলে তার ফল স্পর্শ করতে পারতাম। আমার সামনে জাহান্নামও হাজির করা হয়েছিল, আমি তাতে এ ভয়ে ফুঁক দিতে লাগলাম যে, তার উত্তাপ তোমাদের গ্রাস করে ফেলবে। আমি তাতে আমার (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর) দু' উটনীর চোরকেও দেখলাম, আর আমি তাতে দু' দু' গোত্রের এক ব্যক্তিকেও দেখলাম, যে হাজীদের মাল চুরি করত। যখন তার শাস্তি অনুভব হলো তখন সে বলল, এতো হলো বক্র লাঠির কাজ।আমি তাতে এক দীর্ঘাকৃতির কৃষ্ণবর্ণের মহিলাকেও দেখলাম, তাকে এক বিড়ালের ব্যাপারে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। সে একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল তাকে সে খাদ্যও খাওয়াত না এবং পানিও পান করাত না এবং ছেড়েও দিত না যে, সে জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারে। এমনিভাবে বিড়ালটি মারা গেল। আর চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণ কারো জন্ম মৃত্যুর কারণে হয় না বরং তারা হলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দু'টি নিদর্শন। অতএব, যখন তাদের কারো গ্রহণ লেগে যায় অথবা বলেছেন যে, তাদের কারো এমন ধরনের কিছু ঘটে যায় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৪৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাতের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কান্না, মাগফিরাত চাওয়া এবং সতর্কতার কথা এসেছে। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, সূর্যগ্রহণ হলে রাসূল صلى الله عليه وسلم সালাত আদায় করেন। তিনি কিয়াম ও রুকু দীর্ঘ করেন। বর্ণনায় সিজদার বিষয়েও অনুরূপ ধারণা এসেছে। সিজদায় তিনি ফুঁপিয়ে কাঁদেন এবং বলেন, তিনি মাগফিরাত চাইছেন এবং তিনি তাদের মাঝে আছেন—এ অবস্থায় শাস্তির ওয়াদা করা হয়নি। সালাত শেষে তিনি জান্নাত ও জাহান্নামের দৃশ্যের কথা বলেন। তিনি জাহান্নামে হাজীদের মাল চোর, রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর উটনীর চোর এবং বিড়ালের কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত এক মহিলাকে দেখার কথা বলেন। শেষে বলেন, সূর্য ও চন্দ্র কারও জন্ম-মৃত্যুর কারণে গ্রহণগ্রস্ত হয় না; এগুলো আল্লাহর নিদর্শন। তাই গ্রহণ দেখলে আল্লাহর যিকরের দিকে ধাবিত হতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গ্রহণের সময় সালাত ও আল্লাহর স্মরণে মন দেওয়া উচিত।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم সিজদায় কান্না ও মাগফিরাতের দোয়া করেছেন।
- প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা শাস্তির কারণ হতে পারে।
- চুরি ও অন্যের সম্পদ নেওয়া থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
