১৬/২১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৪৯৭ - কুসুফের সালাতের বিস্তারিত পদ্ধতি
গ্রহণকালীন সলাতে তাশাহ্হুদ পড়া ও সালাম ফিরানো
কুসুফের সালাতের বিস্তারিত পদ্ধতি: কিরাআত, রুকু ও সিজদা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৪৯৭
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৪৯৭
أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ الْوَلِيدِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَمِرٍ، أَنَّهُ سَأَلَ الزُّهْرِيَّ، عَنْ سُنَّةِ صَلَاةِ الْكُسُوفِ، فَقَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَسَفَتِ الشَّمْسُ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا فَنَادَى: أَنِ الصَّلَاةَ جَامِعَةً، فَاجْتَمَعَ النَّاسُ، فَصَلَّى بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَبَّرَ، ثُمَّ قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً، ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا مِثْلَ قِيَامِهِ أَوْ أَطْوَلَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، وَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الْأُولَى، ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا هُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ سُجُودًا طَوِيلًا مِثْلَ رُكُوعِهِ أَوْ أَطْوَلَ، ثُمَّ كَبَّرَ فَرَفَعَ رَأْسَهُ، ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ، ثُمَّ كَبَّرَ، فَقَامَ، فَقَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْأُولَى، ثُمَّ كَبَّرَ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا هُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً وَهِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الْأُولَى فِي الْقِيَامِ الثَّانِي، ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ كَبَّرَ فَرَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ أَدْنَى مِنْ سُجُودِهِ الْأَوَّلِ، ثُمَّ تَشَهَّدَ، ثُمَّ سَلَّمَ فَقَامَ فِيهِمْ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنْخَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَأَيُّهُمَا خُسِفَ بِهِ أَوْ بِأَحَدِهِمَا فَافْزَعُوا إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بِذِكْرِ الصَّلَاةِ»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার সূর্যগ্রহণ লেগে গেলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলে সে আওয়াজ দিল যে, সালাত অনুষ্ঠিত হবে। অতএব লোকেরা জমা হয়ে গেলে তিনি তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তারপর তাকবির বললেন এবং লম্বা ক্বিরাআত করলেন। তারপর তাকবির বললেন ও দীর্ঘ রুকূ' করলেন তাঁর দাঁড়ানোর ন্যায় অথবা তার চেয়েও দীর্ঘ। তারপর তাঁর মাথা উঠিয়ে "সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ" বললেন। পরে দীর্ঘ ক্বিরাআত পড়লেন কিন্তু তা আগের ক্বিরাআত থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল তারপর তাকবির বললেন ও দীর্ঘ রুকূ' করলেন; কিন্তু তা আগের রুকূ' থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর তাঁর মাথা উঠিয়ে "সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ" বললেন।অতঃপর তাকবির বললেন ও দীর্ঘ সিজদাহ্ করলেন ও তাঁর রুকূর ন্যায় অথবা তার চেয়েও দীর্ঘ। এরপর তাকবির বললেন ও তাঁর মাথা উঠালেন পরে তাকবির বললেন ও সিজদায় গেলেন। তারপর তাকবির বলে দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ ক্বিরাআত পড়লেন। কিন্তু তা আগের ক্বিরাআত থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর তাকবির বললেন ও লম্বা রুকূ' করলেন কিন্তু তা আগের রুকূ' থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল।তারপর তাঁর মাথা তুলে বললেন "সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ' তারপর দীর্ঘ ক্বিরাআত পড়লেন কিন্তু তা দ্বিতীয় ক্বিয়ামের প্রথম ক্বিরাআত থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর তাকবির বললেন ও দীর্ঘ রুকূ' করলেন; কিন্তু তা আগের রুকূ' থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর তাকবির বললেন ও তাঁর মাথা উঠালেন এবং বললেন, “সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ"। পরে তাকবির বললেন ও সিজদাহ্ করলেন আর তা তাঁর আগের সিজদাহ্ থেকে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর তাশাহ্হুদ পড়লেন ও সালাম ফিরালেন। পরে তাঁদের সামনে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণাগুণ করলেন। পরে বললেন, চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণ কারো জন্ম-মৃত্যুর কারণে হয় না, বরং তারা হলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দু'টি নিদর্শন। অতএব, তাদের যে কোন একটিতে যদি গ্রহণ লাগে, তা হলে তোমরা সালাত আদায় করার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ধাবিত হবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৪৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাতের বিস্তারিত পদ্ধতি এসেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, সূর্যগ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم একজনকে নির্দেশ দেন, সে ঘোষণা করে যে সালাত অনুষ্ঠিত হবে। মানুষ জমা হলে তিনি সালাত পড়ান। তিনি তাকবীর বলেন, দীর্ঘ কিরাআত করেন, দীর্ঘ রুকু করেন, তারপর “সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলেন। এরপর আবার দীর্ঘ কিরাআত করেন, তবে তা আগের চেয়ে ছোট ছিল। আবার রুকু করেন, সেটিও আগের চেয়ে সংক্ষিপ্ত। এরপর দীর্ঘ সিজদা করেন। দ্বিতীয় রাকাতেও একই ধরনের ধাপ আসে, তবে পরের অংশগুলো আগের তুলনায় সংক্ষিপ্ত। সালাত শেষে তিনি তাশাহ্হুদ পড়ে সালাম ফেরান, আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং বলেন, চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণ কারও জন্ম-মৃত্যুর কারণে নয়; এগুলো আল্লাহর নিদর্শন। তাই গ্রহণ হলে সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ধাবিত হতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গ্রহণের সালাতের জন্য মানুষকে জমা করা হয়েছে।
- কুসুফের সালাতে দীর্ঘ কিরাআত, রুকু ও সিজদা এসেছে।
- চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণ কারও জন্ম-মৃত্যুর কারণে নয়।
- গ্রহণ দেখলে সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফেরার নির্দেশ আছে।
